হোম /খবর /পূর্ব মেদিনীপুর /
এক সপ্তাহ ধরে খাওয়া হয় নিরামিষ, মেলাতেও বসে না আমিষ স্টল! কোথায় হয় এই পুজো?

East Medinipur News: এক সপ্তাহ ধরে খাওয়া হয় নিরামিষ, মেলাতেও বসে না আমিষ স্টল! কোথায় হয় এই পুজো?

X
ভীম [object Object]

East Medinipur News: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নন্দকুমার ব্লকের তাড়াগেড়িয়া গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী প্রাচীন কাল ধরে চলে আসছে ভীম ঠাকুরের পুজো। জানা যায় এই গ্রামে অন্য কোন পূজার চল ছিল না। গ্রামের মানুষের প্রথম ভীম পুজো বা বীরের পুজো শুরু করেন।

আরও পড়ুন...
  • Local18
  • Last Updated :
  • Share this:

নন্দকুমার: বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দেবতার পূজা হয়। মাঘ মাসের কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী তিথিতে রাঢ়বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভীম ঠাকুরের পূজার প্রচলন আছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নন্দকুমার ব্লকের তাড়াগেড়িয়া গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী প্রাচীন কাল ধরে চলে আসছে ভীম ঠাকুরের পুজো। জানা যায়, এই গ্রামে অন্য কোন পূজার চল ছিল না। গ্রামের মানুষের প্রথম ভীম পুজো বা বীরের পুজো শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সেই পুজো তা গ্রামের একমাত্র পুজো হিসেবে হয়ে আসছে। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে এই পুজোর আনুষ্ঠানিক শুরু হয়।

তিথি ও পঞ্জিকা অনুসারে ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার তাড়াগেড়িয়া গ্রামের পুজোর ঘট স্থাপন হয়। নিঃসন্তান দম্পতি ও সন্তানের মঙ্গল কামনায় পিতা মাতারা ভীম ঠাকুরের কাছে মানত করেন। তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হলে ভীম ঠাকুরের ব্রত রেখে পুজো দেন। এই পুজো দেওয়ায় নিয়ে আর এক অন্যরকম রীতি আছে তাড়াগেড়িয়া গ্রামে। ভীম ঠাকুরের ঘট স্থাপনের জন্য যে পুকুরে যাওয়া হয় সেই পুকুরে ঘট ডোবানোর সঙ্গে সঙ্গে ভীম ঠাকুরের ব্রত পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে স্নান করে ভিজে অবস্থায় মন্দিরে আসে। এবং মন্দিরের চারপাশে দণ্ডী কাটে। ভীম ঠাকুরের পুজো উপলক্ষে তাড়াগেড়িয়া গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে বাড়িতে নিরামিষ খাওয়ার দাওয়ার ছাড়া আমিষ খাবার দাওয়ার রান্না হয় না। এমনকি পূজা উপলক্ষে যে মেলা বসে মেলাতেও আমিষ খাবার দাবারের স্টল বা দোকান থাকে না। ব্রতীরা ছোট ছোট পুতুল বা ভীম ঠাকুর অর্পণ করে ভীম ঠাকুরের পুজো দেন।

আরও পড়ুন-  ভোটের আগে শেষ বাজেট, বাংলার রেল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কত হবে? নজর রাজ্যবাসীর

আরও পড়ুন-  নির্মলার ভাষণ শুরুর আগে ১০ পয়েন্টে জেনে নিন বাজেটের আকর্ষণীয় তথ্য এবং ইতিহাস!

ভীম অর্থাৎ দ্বিতীয় পাণ্ডব এখানে দেবতার রূপে পূজিত হন। কথিত আছে ভীমদেবের কাছে যা প্রার্থনা করা হয় তা পূরণ হয়। আর সেই কারণে ভক্তরা টাকার মালা, কিংবা সোনা, রুপা, পিতলের জিনিস দান করে থাকে। ভক্তদের টাকার মালায় ঢেকে যায় ৪০ ফুট লম্বা ভীমদেব। ১২ দিনের মেলায় প্রতিদিন কয়েকশ কুইন্টাল করে বাতাসা লুট হয়ে থাকে। এত পরিমাণ টাকা, সোনা, রুপা, পিতলের গয়না মন্দিরে জমা হয়, যার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ সাহায্য লাগে। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। পুজোর প্রথমদিন থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। যার নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে পুজো কমিটি থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে।

সৈকত শী

Published by:Rachana Majumder
First published:

Tags: East Medinipur