হোম /খবর /পূর্ব বর্ধমান /
বিয়ের আসরে অভিনব পোস্টার হাতে দম্পতি, কী বার্তা দিলেন তাঁরা?

বিয়ের আসরে অভিনব পোস্টার হাতে দম্পতি, কী বার্তা দিলেন তাঁরা?

সঞ্জয় ও সুদেষ্ণা বলেন, "আমরা এলাকার কাউকে নাড়া পোড়াতে দেব না। পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করব। বাড়ি গিয়ে নাড়া না পোড়ানোর অনুরোধ করব।"

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: 'নাড়া পোড়াতে দেব না'। বিয়ের অনুষ্ঠানে এমনই অঙ্গীকার করলেন নব দম্পতি। সেই সঙ্গে তাদের বার্তা, 'পরিবেশ বাঁচান। নিজে বাঁচুন। নাড়া না পুড়িয়ে জমির উর্বরতা শক্তি ধরে রাখুন'। তাদের এই আহ্বানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা।

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি এক নম্বর ব্লকের বাসিন্দা মামুদপুরের সঞ্জয় ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী সুদেষ্ণা। নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের সামনে অভিনব আবেদন রাখলেন তাঁরা। অনুরোধ জানালেন, "দয়া করে নাড়া পুড়িয়ে পরিবেশে ক্ষতি করবেন না।" তাঁদের আর্জি, নাড়া পোড়ানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে চাষিদের সচেতন করুন।

আরও পড়ুন: হিমাচলে কি বহাল থাকছে ৪০ বছরের 'রিওয়াজ'? শাসকবিরোধী ভোটে এগিয়ে কংগ্রেস

কয়েকদিন আগে নাড়া পোড়াতে গিয়ে মারা যান এই এলাকারই এক কৃষক। ধান কাটার পরে সরষে চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছিলেন তিনি। সেই সময় পাশের ধান জমিতে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন: ভোটগণনায় এগিয়ে জাদেজা-পত্নী, উৎসব শুরু পদ্মশিবিরে

সঞ্জয় ও সুদেষ্ণা বলেন, "আমরা এলাকার কাউকে নাড়া পোড়াতে দেব না। পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করব। বাড়ি গিয়ে নাড়া না পোড়ানোর অনুরোধ করব।"

সঞ্জয়ের পরিবারের সকলেই চাষের কাজের সঙ্গে যুক্ত। ওই এলাকার প্রায় সকলেরই জীবিকা চাষাবাদ। তাঁদের বক্তব্য, নাড়া পোড়ানোয় ধোঁয়ার বিষ ছড়াচ্ছে পরিবেশে। তা ছাড়া, এতে জমির উর্বরাশক্তিও কমে যাচ্ছে। তাই নাড়া পোড়ানোর কুফল সম্পর্কে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির অতিথিদের সচেতন করেছেন বলে জানান সঞ্জয়।

সুদেষ্ণা সংস্কৃতে এমএ করে বিএড পড়ছেন। তিনি বলেন, "নাড়া পোড়ালে জমি বন্ধ্য়া হয়ে যায়। এতে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নাড়া না পোড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

নাড়া পোড়ানো বন্ধ করতে জেলা জুড়ে জোরদার প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।অভিভাবকদের নাড়া না পোড়ানোর আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে এলাকার পড়ুয়ারা। তার মধ্যে নবদম্পতির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন সকলেই।

জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা আসিস কুমার বারুই জানান, "আগুনে পুড়ে চাষের জমির উপরিভাগের ক্ষতি হয়। জমি উর্বরতা শক্তি হারায়। বন্ধু পোকার মৃত্যু হয়।" তিনি বলেন, নাড়া পোড়ানোর বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকেরা অভিনব পদ্ধতিতে এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। তাঁদের সাধুবাদ জানান তিনি।

Published by:Satabdi Adhikary
First published:

Tags: East Burdwan, Fire