Home /News /purba-bardhaman /
East Bardhaman News: ২০ টাকার ডাক্তার! গরিব রোগীদের কাছে 'ভগবান' এই চিকিৎসক

East Bardhaman News: ২০ টাকার ডাক্তার! গরিব রোগীদের কাছে 'ভগবান' এই চিকিৎসক

রোগী দেখছেন ডাক্তারবাবু

রোগী দেখছেন ডাক্তারবাবু

তাঁকে কেউ বলে গরিবের ডাক্তার। আবার কেউ তাঁকে বলেন ২০ টাকার ডাক্তার। তিনি হলেন বর্ধমানের ডাক্তার গীষ্পতি চক্রবর্তী। 

  • Share this:

    #পূর্ব বর্ধমান: রোজগার করা লক্ষ্য নয়। মানুষের কষ্ট লাঘব করা, সকলকে সুস্থ রাখাই তাঁর জীবনের ব্রত। তাঁকে কেউ বলে গরিবের ডাক্তার। আবার কেউ তাঁকে বলেন ২০ টাকার ডাক্তার। তিনি হলেন ডাক্তার গীষ্পতি চক্রবর্তী। যা গরিবের ভগবান নামেই পরিচিত। ডাক্তার দের বলা হয় ভগবানের একটা অংশ। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু চিকিৎসকদের কারণে কেউ কেউ চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে তোলেন নানা প্রশ্ন। তবে বর্ধমান শহরের ডা.গীষ্পতি চক্রবর্তী অন্যান্য চিকিৎসকেদের থেকে সম্পূর্ণই আলাদা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই নিরবে তিনি সেবা করে চলেছেন অসংখ্য মানুষের। বর্তমানে তাঁর ধ্যানজ্ঞানই তাঁর অর্জিত শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো। ডা. গীষ্পতি চক্রবর্তী এম.বি.বি.এস, ডি.পি.এইচ এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার তিনি।

    বর্ধমানের টিকরহাটের বাসিন্দা গত কয়েক দশক ধরে খোদ বর্ধমান শহরে মাত্র ২০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখে চলেছেন। কিছুদিন আগেও যা ছিল মাত্র ১০ টাকা। সম্প্রতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকায়। তাতেও তাঁর আপত্তি ছিল অনেক। কিন্তু রোগীপক্ষের চাপেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকায়। গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি রোগী দেখেন তিনি। অবশ্য টাকা রোজগার তাঁর নেশা নয়, মানুষের কষ্ট লাঘব করা, তাঁদের সুস্থ রাখাই তাঁর জীবনের ব্রত করে নিয়েছেন এই চিকিৎসক।

    বর্ধমান শহর তথা খোসবাগান যা কিনা ডাক্তারপাড়া হিসাবেই পরিচিত এমনকি লিমকা বুক অব রেকর্ডসে এই খোসবাগানের ডাক্তারমহল্লার উল্লেখও রয়েছে। যেখানে ডাক্তারের ফি ক্রমবর্ধমান। কমবেশী গড়ে ৫০০ টাকা ডাক্তারদের ফি। সেখানে মাত্র ২০ টাকা কেন? উত্তরে ডাক্তার গীষ্পতি বাবু জানিয়েছেন, তাঁর অর্থ রোজগারের প্রয়োজন নেই। তিনি সরকারী চাকরী করতেন। অবসর নিয়েছেন। অবসরকালীন যে পেনশন তিনি পান, তাতে দিব্যি চলে যাচ্ছে। আছে একটি স্কুটার। তাই দিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। চলে তো যাচ্ছেই। তাহলে এই কর্পোরেট দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অধিক অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন কি।

    আরও পড়ুন - ভবতারিণীর মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়াল স্যুইফট গাড়ি, তারপর রুদ্ধশ্বাস ভিডিও

    বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত বসেন। এছাড়াও বর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর, রসিকপুর চিলড্রেন পার্ক এবং টিকরহাট এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চ্যারিটেবল ডিসপেনসারীতেও বসেন তিনি। এছাড়াও প্রায় নিয়মিতই সুন্দরবন এলাকায় যান শ্রমজীবী হাসপাতালে। তিনি জানিয়েছেন, এই কাজ করে তিনি আনন্দ পান। যখন রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন তখন তাঁদের খুশী মুখ দেখে তিনি পরিতৃপ্ত হন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে চিকিৎসকদের ফি নিয়ে যা বলা হচ্ছে তা একেবারেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিজস্ব ব‌্যাপার। তারই মাঝে তাঁর একটাই সাধনা - তিনি মানুষের পাশে থাকতে চান। একইসঙ্গে আক্ষেপও ঝরে পড়েছে এই চিকিৎসকের গলায়, এই সমাজ ব্যবস্থায় তাঁরাই বেশি উপেক্ষিত, বঞ্চিত, অসহায় যাঁদের কিছু নেই। অথচ এই উপেক্ষিত, অসহায় মানুষগুলোই ক্ষমতায় নিয়ে আসে সরকারকে। যতদিন তিনি বাঁচবেন এভাবেই সহ নাগরিকদের তিনি পাশে থাকতে চান।

    ডাক্তার গীষ্পতি চক্রবর্তীর কাছে আসা রোগী পুতুল মালিক, শেখ নাসিবুলরা বলেন, ডা. গীষ্পতি চক্রবর্তী শুধু ডাক্তার নন, তিনি ভগবান। যেখানে অন্যান্য জায়গায় ডাক্তারদের ভিজিট শুনে বাড়ি ফিরে আসতে হয় সেখানে এই ডাক্তার বাবুর কাছে এলে ২০ টাকায় চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায়। পেটের রোগ, নার্ভ এছাড়াও নানা রোগের চিকিৎসা করেন ডাক্তারবাবু। সকল মানুষকে সমান চোখে দেখেন তিনি। শুধু চিকিৎসা করেই সুস্থ করেন না রোগীদের তিনি মনের বলও বাড়ান। যা একটা রোগীর প্রয়োজন।

    ডাক্তার গীষ্পতি চক্রবর্তীর জন্ম ১৯৫৮ সালে। আড়িয়াদহ কালাচাঁদ হাই স্কুল থেকে হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে প্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। কিন্তু শিক্ষকদের পরামর্শে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পড়তে আসেন ডাক্তারি। ডাক্তারি পাশ করে চাকরি শুরু করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে। তারপর থেকে মানুষের সেবাই তাঁর কাছে হয়ে উঠল নিরন্তর এক সাধনা।

    Malobika Biswas

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Bardhaman news

    পরবর্তী খবর