মাধ্যমিকের আগে একটানা ৪০ মিনিটের বেশি পড়া নয়, বলছেন সাইকোলজিস্ট

News18 Bangla
Updated:Feb 10, 2019 04:41 PM IST
মাধ্যমিকের আগে একটানা ৪০ মিনিটের বেশি পড়া নয়, বলছেন সাইকোলজিস্ট
News18 Bangla
Updated:Feb 10, 2019 04:41 PM IST

মাধ্যমিক পরীক্ষা একেবারেই দোরগোড়ায়৷ জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে কাজ করে অজানা ভয়, টেনশন, আবার তেমনই থাকে উত্তেজনাও৷ এই সব কিছুর সঙ্গে যোগ হয় বাবা, মায়ের প্রত্যাশার চাপ৷ সব কিছু সামলেও ভাল ভাবে পরীক্ষা কীভাবে দেবে সেই টিপস দিচ্ছেন সাইকোলজিস্ট ইন্দ্রাণী ব্যানার্জি সারঙ্গি৷

প্র: পরীক্ষা এগিয়ে আসতে থাকলে টেনশন বাড়তে থাকে৷ তাই এই সময় মনযোগ দিয়ে পড়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ৷ কীভাবে এই সময় মনযোগ বাড়াতে পারে পড়ুয়ারা?

উ: পরীক্ষা নিয়ে আসলে একটা অদ্ভুত চাপা টেনশন কাজ করে৷ সেটার জন্য কিন্তু পড়ুয়াদের দোষ দেওয়া যায় না৷ বাড়িতেই একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়৷ বেশি নম্বর পেতে হবে, রাত জেগে পড়তে হবে, এগুলো বলতে থাকলেই ওদের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়৷

আমাদের বুঝতে হবে অনেক ছেলেমেয়েই কিন্তু ভাল পড়াশোনা করেও আর্থিক কারণে মাধ্যমিক পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না৷ আবার অন্যদিকে চিন্তা করলে দেখবে এই পরীক্ষাটা কিন্তু তোমরা একা দিচ্ছ না, সারা দেশের লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে একসঙ্গে এই পরীক্ষাটা দিচ্ছে৷

এত দিন ধরে যে পড়াশোনা, এত পরিশ্রম এবার কিন্তু সেটা সার্টিফায়েড হতে চলেছে৷ এগুলো ভাবলে কিন্তু একটা পজিটিভ ফিলিং তৈরি হবে৷ যখন চাপ কমে এক্সাইটমেন্টটা বাড়বে৷ কারণ চাপে থাকলে কিন্তু কখনই নিজের সেরাটা দেওয়া যাবে না৷ বাবা, মায়েদেরও বাড়ির পরিবেশ সহজ রাখতে হবে৷ কারণ শুধু দিনে ১৮ ঘণ্টা পড়লেই কিন্তু ভাল ফল করা যায় না৷

Loading...

প্র: এই যে ১৮ ঘণ্টা পড়ার কথা বলছেন, সত্যিই কি ১৮ ঘণ্টা মনযোগ দিয়ে পড়া যায়? বা যা পড়া হচ্ছে অতটা কি মাথায় রাখা সম্ভব হয়?

উ: না, থাকে না৷ আমরা সকলেই নিজস্ব ক্ষমতা নিয়ে জন্মাই৷ প্রত্যেকে আলাদা৷ কেউ ১৬ ঘণ্টা পড়তে পারে, কারও জন্য ৮ ঘণ্টাই যথেষ্ট৷ কিন্তু দেখা যায় এরা দুজনেই হয়তো একই নম্বর পাচ্ছে৷ আর এখান থেকে একটা খারাপ লাগা তৈরি হয়৷ যে আমি যতটা দিলাম, ততটা পেলাম না৷ তাই কোয়ান্টিটি নয়, জোর দিতে হবে কোয়ালিটিতে৷

Graphic: News18 Bangla Graphic: News18 Bangla

প্র: সেটা কীভাবে করতে পারে তারা?

উ: প্রথমেই বলবো পরীক্ষা মানে কিন্তু খেলাধুলো সব ছেড়ে দেওয়া নয়, ৩ মাস বাড়ি থেকে না বেরিয়ে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকা নয়৷ এমনটা হলেই কিন্তু পড়াশোনার প্রতি একটা নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়৷ দ্বিতীয়ত, সারাক্ষণ বকা খেতে থাকলে পড়ুয়াদের মনে হয় যা করছি বাবা, মায়ের জন্য করছি৷ তাই তোমাদের বুঝতে হবে যে জীবনটা অনেক বড়৷ আমাদের পরবর্তী জীবনটা যাতে সুন্দর হয় তার জন্য এখন পড়াশোনা করাটা জরুরি৷ বাবা, মায়ের জন্য নয়৷ নিজের জন্য৷

প্র: কিন্তু বাবা, মায়েরাও তো ঠিক এভাবেই চাপ দিতে থাকেন৷ যে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা ভাল হলে তবেই জীবনটা সুন্দর হবে...

উ: এখানে বাবা, মায়েদের জন্য আমি বলবো নিজের সন্তানকে বুঝুন৷ কীভাবে তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালটা বার করে আনা যায় সেটা আপনাদের থেকে ভাল কেউ জানে না৷

পাশের বাড়ির কেউ ১৬ ঘণ্টা পড়লেই আপনার সন্তানকেও সেই চাপ দেবেন না৷

সে হয়তো ৮ ঘণ্টা পড়তে পারে৷ তার বেশি পড়লে কিন্তু আগের পড়াশোনাটাও তার মাথায় থাকবে না৷

প্র: পরীক্ষা নিয়ে অনেক স্টুডেন্টের মধ্যেই ফোবিয়া বা অজানা একটা আতঙ্ক কাজ করে৷ কারও অঙ্ক নিয়ে, কারও ইংরেজি নিয়ে, কারও বা ভয় কেমিস্ট্রিতে৷ এই ফোবিয়া কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়?

উ: অঙ্ক নিয়ে তো বরাবরই ফোবিয়ার কোনও অন্ত নেই, বাংলা নিয়েও এখনকার স্টুডেন্টদের মধ্যে ফোবিয়া কাজ করে৷ ছোট থেকে আমাদের মধ্যে এটা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে আমাদের মূল্য নির্ভর করছে আমরা অঙ্কে কতটা ভাল তার ওপর৷ সুন্দর ছবি আঁকা বা ভাল কবিতা লেখা দিয়ে কিন্তু কাউকে বিচার করা হয় না৷ আমাদের বুদ্ধি, সামাজিক পারদর্শিতা, গ্রহণযোগ্যতা সবটাই মেপে দেওয়া হয় অঙ্কে কত পাচ্ছি তার ওপর৷

Graphic: News18 Bangla Graphic: News18 Bangla

প্র: আর মাত্র কয়েক দিন পর যখন অঙ্ক পরীক্ষা তখন কীভাবে এটার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব?

উ: প্রথমেই এটা মাথায় ঢুকিয়ে নাও যে এটা একটা সাবজেক্ট, কোনও বিপদ নয়৷ ভয় পেলে কিন্তু মনটা ভয়ের দিকেই এত বেশি চলে যায় যে যেটুকু অঙ্ক প্র্যাকটিস করে তৈরি হওয়া যেত, সেটুকু মনও দেওয়া যায় না৷ তাই ভয় পেয়ে যতটা তৈরি হওয়া যায়, ভয় না পেয়ে যদি তার থেকে একটু বেশিও তৈরি হওয়া যায় তাহলে কিছুটা বেশি নম্বর তো উঠবেই৷ সারাজীবন তো আর অঙ্ক করতে হবে না৷ তার চেয়ে বরং এই বেলা যতটা পারছো শিখে নাও৷

প্র: সাবজেক্ট নিয়ে ফোবিয়া ছাড়াও কিন্তু পুরো পরীক্ষা নিয়েও একটা ফোবিয়া কাজ করে৷ উৎকণ্ঠা বাড়লে তখন জানা জিনিসও মনে থাকে না, পরীক্ষার হলে গিয়ে নার্ভাস হয়ে গিয়ে জানা উত্তরও লিখে আসতে পারে না অনেকে৷ ভাল, খারাপ সব স্টুডেন্টদের মধ্যেই কিন্তু এটা দেখা যায়...

উ: পরীক্ষার আগের ৩টে মাস যদি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে জীবনটাকে কঠিন করে তোলা হয় তাহলে কিন্তু উৎকণ্ঠা বাড়বে৷ যথেষ্ট পড়াশোনার পাশাপাশি কিন্তু সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম, বিশ্রাম, পর্যাপ্ত এন্টারটেইনমেন্টও দরকার৷

প্রতিদিন যদি অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম না হয় তাহলে কিন্তু সারাদিন যতই পড়া হোক সেটা মাথায় থাকে না৷ বিষয়টা কম্পিউটার প্রোগ্রাম সেভ করার মতো৷ রাত ১১-১২টার মধ্যে শুয়ে পড়তেই হবে৷

এছাড়াও পুষ্টিকর খাবার খেতেই হবে, সেই সঙ্গে মন ভাল রাখতে পছন্দের খাবারও খেতে হবে৷ আর প্রয়োজন এক্সারসাইজ৷ দিনে দুবার ৩০-৪০ মিনিট এক্সারসাইজ করা পরীক্ষার সময় ভীষণ জরুরি৷

প্র: মানে আমরা সারা দিন যতটা পড়লাম সেটা মনে গেঁথে নেওয়ার জন্য পড়ার পাশাপাশি এগুলো করতে হবে...

উ: হ্যাঁ, কারণ সাধারণ ভাবে আমরা কিন্তু ৪০ মিনিটের বেশি কনসেনট্রেশন ধরে রাখতে পারি না৷ তারপর আমাদের মনসংযোগ পড়তে থাকে৷ একটা বিষয়ের ওপর আর একাগ্রতা ধরে রাখা যায় না৷ দিনে ৮ ঘণ্টা পড়লেও সেই সময়টাকে ৪০ মিনিট করে ভাগ করে নিতে হবে৷

প্রত্যেক ৪০ মিনিট পর ১০ মিনিট ব্রেক নিতে হবে৷

কিন্তু এই ১০ মিনিট হোয়াটসঅ্যাপ চেক করা যাবে না৷ এই ১০ মিনিট কিন্তু জায়গা থেকে উঠতে হবে, হালকা স্ট্রেচিং করতে হবে, একটু ঘুরে আসতে হবে অন্য ঘর থেকে৷ কারণ এতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন হবে৷ তবেই আবার আমরা মন দিয়ে পড়তে পারবো আর আগের পড়াটাও মনে গেঁথে যাবে৷

First published: 04:34:10 PM Feb 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर