Vastu Tips: সন্ধ্যাকালে মোম জালুন ঘরের এই কোণে, নয় তো পরিবারে নেমে আসতে পারে মৃত্যুর ছায়া

Vastu Tips For Home: বাস্তুশাস্ত্রে মোমের আলোর ভূমিকা আর তাৎপর্য ঠিক কী?

Vastu Tips For Home: বাস্তুশাস্ত্রে মোমের আলোর ভূমিকা আর তাৎপর্য ঠিক কী?

  • Share this:

Vastu Tips:  আগুনের যথাসম্মত ব্যবহার নিয়ে কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় নানা রকমের বিধিনিষেধ রয়েছে। যেমন মনুসংহিতায় স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে গৃহে তিন রকমের অগ্নিরক্ষা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি দ্বারা সম্পন্ন হবে পূজার কাজ, দ্বিতীয়টি কাজে আসবে রন্ধনে। তৃতীয় অগ্নি সংরক্ষণ করতে হবে গৃহের বাইরে, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে তাকে সেই অগ্নিতেই দাহ করা বিধেয়।

কিন্তু মোমবাতি জ্বালানোর ক্ষেত্রে একথা খাটে না। কেন না, এক্ষেত্রে আগুন ব্যবহার করা হলেও আলো দেওয়া ছাড়া তার উপযোগিতা বড় একটা নেই। তাহলে বাস্তুশাস্ত্রে মোমের আলোর ভূমিকা আর তাৎপর্য ঠিক কী?

বাস্তশাস্ত্রমতে মোমের আলো পরিবারে সৌভাগ্য নিয়ে আসে, পরিবার থেকে সব রকমের নেতিবাচকতা দূর করে দেয়। মোম যখন পুড়তে থাকে আর তার থেকে যে গন্ধ বের হয়, বাস্তুশাস্ত্র বলে যে সেই গন্ধ ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তিকে অপসারিত করে। মোমের শিখার মধ্যেও রয়েছে একপ্রকার স্থিতিস্থাপকতার রেশ, তা ধীর-স্থির ভাবে জ্বলে। সেই জন্যই মোমের আলোর ব্যবহার পরিবার থেকে চাঞ্চল্য দূর করে তাকে সৌভাগ্যে আর সম্পদে থিতু করে।

এছাড়া বাস্তুশাস্ত্রে আলোর অন্য একটি তাৎপর্যের কথাও বলা হয়েছে। বাস্তশাস্ত্র মতে নেতিবাচক শক্তি তার প্রভাব বিস্তার করে দিন এবং রাতের সন্ধিক্ষণে। তাই সন্ধেবেলায় ঘরের প্রতি কোণ যাতে আলোকিত থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাহলে জীবন কেবলই কষ্টে পরিপূর্ণ হবে, দুর্ভাগ্য গ্রাস করবে পরিবারকে।

কিন্তু এক্ষেত্রে একটি ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সন্ধ্যাবেলায় বাড়ির সব কোণে সম্ভব না হলেও পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ কোণে মোম জ্বেলে রাখা বিশেষ শুভপ্রদ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কেন, সে কথা জেনে নেওয়া যাক এবারে!

পূর্ব কোণ- বাস্তুশাস্ত্র মতে পূর্ব কোণ পরিচালিত হয় সূর্যদেবের অধীনে এবং এই দিকের অধিপতি দেবতাদের রাজা ইন্দ্র। এই দুই দেবতার কেউই অন্ধকার একদম সহ্য করতে পারেন না। এক দিকে সূর্যের কাজ যেমন সৃষ্টিকে আলোকিত করা, তেমনই দেবরাজ ইন্দ্র সর্বদা আলোকিত স্থানে বাস করতে পছন্দ করেন। তাই বাড়ির পূর্ব কোণে মোম জ্বালে ইন্দ্র এবং সূর্য তুষ্ট হন, পরিবারে সৌভাগ্য আসে।

উত্তর-পূর্ব কোণ- বাস্তুশাস্ত্রমতে এই দিকের অধীশ্বর হলেন স্বয়ং দেবাদিদেব শিব! তিনিও কোনও রকম নেতিবাচকতা পছন্দ করেন না। ভক্তের জীবন তিনি দক্ষিণমূর্তি রূপে পূর্ণ করেন জ্ঞানের আলোয় এবং লিঙ্গরূপে পূর্ণ করেন সৌভাগ্যের আলোয়। এই পৃথিবীতে তাঁর যে সাক্ষাৎ স্বরূপ, তাকেও বলা হয়ে থাকে জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই জ্যোতিময় এই দেবতাকে তুষ্ট রাখতে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে মোম জ্বালানো শুভপ্রদ বলে বিবেচিত হয়।

দক্ষিণ কোণ- বাস্তুশাস্ত্র মতে, এই দিকের অধিপতি মৃত্যুর দেবতা যম। আলোর প্রতি তাঁর বিশেষ প্রীতির কথা শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে। যিনি সারা কার্তিক মাস যমের উদ্দেশে দীপদান করেন বা আলোদান করেন, তাঁকে নরক দর্শন করতে হয় না। সেই পরিবারও নীরোগ এবং সুখী জীবনের অধিকারী হয়। এই রীতি স্মরণে রেখে যমের প্রীতিসাধনে বাড়ির দক্ষিণ কোণেও মোম জ্বালানো জীবন মঙ্গলময় করে তোলে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: