• Home
  • »
  • News
  • »
  • off-beat
  • »
  • RAMAKRISHNA JAYANTI 2021 KNOW ABOUT GREAT INDIAN RELIGIOUS LEADER PBD

Ramakrishna Jayanti 2021: আজকের পুণ্য তিথিতেই জন্মেছিলেন তিনি, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনকথার এই দিকগুলো জানেন কি?

পঞ্জিকা মতে ও জন্ম তিথি অনুযায়ী আজ সেই বিশেষ তিথি, যে দিন এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ।

পঞ্জিকা মতে ও জন্ম তিথি অনুযায়ী আজ সেই বিশেষ তিথি, যে দিন এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ।

  • Share this:

ধর্ম, জ্ঞান, বেদান্ত সর্বত্রই তাঁর অবাধ বিচরণ। অনেক বইতেই তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর যুগাবতার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাঁর সান্নিধ্য পেয়েই আধ্যাত্মিক মার্গে এগিয়ে যান স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda)। ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব (Ramakrishna Paramahamsa)। তবে পঞ্জিকা মতে ও জন্ম তিথি অনুযায়ী আজ সেই বিশেষ তিথি, যে দিন এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। তাই আজ এই বিশেষ পুণ্যতিথিতে আরও একবার স্মরণ করে নেওয়া যাক তাঁকে।

ভগবানের অবতার

স্বামী বিবেকানন্দের লেখা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ অনুযায়ী ভগবান বিষ্ণুর যুগাবতার ছিলেন রামকৃষ্ণ। রামকৃষ্ণের বাবা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় (Khudiram Chattopadhyay) স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। বাবা জানতে পারেন, স্বয়ং বিষ্ণু তাঁদের সন্তান হয়ে জন্ম নিচ্ছেন। এর পর মা চন্দ্রমণি দেবীর (Chandramani Devi) গর্ভে জন্ম নেন রামকৃষ্ণ।

শৈশব থেকেই ঈশ্বর সাধনায় মগ্ন হয়ে পড়েন রামকৃষ্ণ

তখনও তিনি রামকৃষ্ণ হয়ে ওঠেননি। ছোট্ট গদাধরের তখন ছয় বছর বয়স। একের পর আধ্যাত্মিক অনুভূতির সংস্পর্শ পান তিনি। গদাই নামে পরিচিত রামকৃষ্ণ গ্রামবাসীদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। মাটির প্রতিমা নির্মাণ করে তাঁদের পুজো করতেন। তবে প্রথাগত শিক্ষায় কোনও আগ্রহ ছিল না তাঁর। অল্প বয়সেই পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতে জ্ঞান অর্জন করেন। একবার ধানক্ষেতের পথে হাঁটতে হাঁটতে আকাশে কালো মেঘের মধ্যে সাদা বলাকার সৌন্দর্য দেখে অচৈতন্য হয়ে যান তিনি। বার বার একই ঘটনা ঘটতে থাকে তাঁর সঙ্গে।

সারদা দেবীকে (Sarada Devi) বিবাহ

এক সময় একটি খবর চাউর হয়ে য়ায়। সবাই বলতে থাকেন, দক্ষিণেশ্বরে অতিরিক্ত সাধনার জেরে সংসার থেকে অন্য পথে এগিয়ে চলেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ। ফলে মা ও ভাই রামেশ্বর তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের (Ramchandra Mukhopadhyay) মেয়ে সারদার সঙ্গে ১৮৫৯ সালে শাস্ত্রমতে বিয়ে হয় রামকৃষ্ণের। তবে বরাবর নিজেদের মধ্যে আত্মসংযম বজায় রেখেছিলেন দু'জনে। রামকৃষ্ণের মতো সারদা দেবীও আধ্যাত্মিক পথে হাঁটতে শুরু করেন। সবার মা হয়ে ওঠেন তিনি। শোনা যায়, সারদা দেবীকে দিব্য মাতৃজ্ঞানে পুজো করতেন রামকৃষ্ণ।

রানি রাসমণির (Rani Rashmoni) সঙ্গে যোগসূত্র

১৮৫৫ সাল। কলকাতার এক ধনী জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেই পৌরহিত্য শুরু করেন রামকৃষ্ণ। নারী প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে গদাধরের সেই পুজো ঘিরে সেই সময় নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। এখান থেকেই একরকম ঈশ্বর সাধনার অনন্ত পথে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। কালীর ভক্তিতে ধীরে ধীরে বিভোর হয়ে ওঠেন রামকৃষ্ণ।

বিবেকানন্দকে পথ প্রদর্শন

তরুণ নরেনকে দিশা দেখান তিনি। নরেন্দ্রনাথ দত্ত (Narendranath Dutta) থেকে স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে ওঠার পিছনে রামকৃষ্ণের অবদান অনস্বীকার্য। প্রথমের দিকে ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও ধীরে ধীরে রামকৃষ্ণের স্মরণে আসতে থাকেন বিবেকানন্দ। নরেনের বাবার মৃত্যু, দারিদ্র্য, পরিবার, সমাজের নানা সমস্যা তাঁকে আধ্যাত্মিক পথে নিয়ে যায়। আর সেই পথের কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।

ধর্মীয় সহিষ্ণুতা

তাঁর কথায়, কালী, খ্রীস্ট, আল্লা সবই এক। পরমধর্মসহিষ্ণু ছিলেন তিনি। সমগ্র জীবনে সকল ধর্ম সম্পর্কে গভীরে অধ্যয়ন করেন। তার পর রামকৃষ্ণের মধ্যে একটি উপলব্ধি হয়। ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম-সহ বিভিন্ন ধর্মমত অভ্যাস করার পর তিনি বুঝতে পারেন, সকল মতই একই ঈশ্বরের পথে মানুষকে চালিত করে। ঈশ্বর এক। গন্তব্য এক। শুধু যত মত, তত পথ। এই বাণী তাঁর ভক্তদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেন তিনি। বোধহয় সেই জন্যই সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে আসতে শুরু করেন। ব্রাহ্ম, খ্রিস্টান, মুসলমান থেকে শুরু করে সকলে ঠাকুর রামকৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করেন।

Published by:Pooja Basu
First published: