Baglamukhi Jayanti 2021: পরাজিত হবে শত্রুরা, জীবন হবে সার্থকতায় পরিপূর্ণ, জানুন কী ভাবে পূজা করবেন বগলামুখী মাতার!

বলা হয়, আজকের তিথিতে, অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী বগলা।

বলা হয়, আজকের তিথিতে, অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী বগলা।

  • Share this:

#কলকাতা: দেবী বগলামুখীর স্বরূপ আলোচনার পূর্বে দশমহাবিদ্যা নিয়ে সামান্য হলেও বক্তব্যের প্রয়োজন আছে। কেন না, এই দশ মহাদেবীরই অন্যতমা হলেন বগলামুখী। মুণ্ডমাল তন্ত্র এই প্রসঙ্গে বলছে যে কালী তারা মহাবিদ্যা ষোড়শী ভুবনেশ্বরী/ভৈরবী ছিন্নমস্তা চ বিদ্যা ধূমাবতী তথা/বগলা সিদ্ধিবিদ্যা চ মাতঙ্গী কমলাত্মিকা/এতা দশ মহাবিদ্যাঃ সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্ত্তিতাঃ। অর্থাৎ এই দশমহাবিদ্যা হলেন যথাক্রমে কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী এবং কমলা। এই ক্রম অনুসারে দশমহাবিদ্যার মধ্যে অষ্টমতমা হলেন বগলা বা বগলামুখী।

তন্ত্র মতে, এই বগলার অর্থ হল যিনি বশীভূত বা সম্মোহিত করতে পারেন। অন্য দিকে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুখ শব্দটি। অর্থাৎ বগলামুখী-ই সেই দেবী যাঁর মুখের দিকে মাত্র একবার দৃষ্টিপাত করলেও অশুভ শক্তিরা সম্মোহিত এবং তার পরের ধাপে নির্জীব হয়ে পড়বে। তন্ত্রে দেবী বগলামুখীকে সাধারণত দ্বিভুজা রূপেই দেখা যায়। এক হাতে তিনি ধারণ করে থাকেন একটি মুষল, অন্য হাতে জিভ টেনে ধরেন অসুরের। তবে কখনও কখনও দেবীকে চতুর্ভুজা রূপেও তন্ত্র বর্ণনা করেছে। সে ক্ষেত্রে চার হাতে দেবী ধারণ করে থাকেন একটি মুষল, একটি খড়্গ, একটি নরকরোটি বা মড়ার মাথা দিয়ে তৈরি পানপাত্র এবং একটি সাঁড়াশি। এই সাঁড়াশি দিয়েই দেবী বগলামুখী জিভ টেনে ধরেন অসুরের।

বলা হয়, আজকের তিথিতে, অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী বগলা। স্বতন্ত্র তন্ত্রে দেবী বগলামুখীর জন্মসংক্রান্ত এই আশ্চর্য আখ্যানটি পাওয়া যায়। জানা যায়, একদা মদন নামে এক অসুর বাকসিদ্ধি অর্জন করেছিল। অর্থাৎ কথা দিয়ে সে বিশ্বে প্রচণ্ড ঝড়ের সৃষ্টি করতে পারত। মদনাসুরের তৈরি এই ঝড় যখন সৃষ্টিকে বিপন্ন করে তোলে, তখন বিষ্ণু সৌরাষ্ট্র প্রদেশে গিয়ে হরিদ্রা নামের এক সরোবরের তীরে দেবীর ধ্যানে বসেন। বিষ্ণুর অসুরদমনের এই ইচ্ছা পূরণের জন্য এর পর দেবী বগলামুখী সেই হলুদের সরোবর থেকে উত্থিতা হন। প্রথমে তিনি ঝড় থামান, তার পরে মদনাসুরকে বধ করেন। সেই জন্যই তাঁকে এক হাতে অসুরের জিভ টেনে ধরে থাকতে দেখা যায়। হরিদ্রা সরোবরজাতা বলে তাঁর গাত্রবর্ণও পীত বা হলুদ, এঁর পরিধানও পীতবস্ত্র।

এ হেন দেবী বগলা সর্ব প্রকার শত্রু দমন করে ভক্তের জীবন সুখে এবং সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে থাকেন। রুদ্রযামল তন্ত্রের অন্তর্গত বগলামুখী স্তোত্র অনুযায়ী দশমহাবিদ্যার মধ্যে অষ্টমতমা বগলামুখী বিপরীত অবস্থানের দেবী। অর্থাৎ এই দেবী জগতের যায়া কিছু, তাকে রূপান্তরিত করে দেওয়ার ক্ষমতা ধরেন ঠিক উল্টোটায়। তাই বলা হয়েছে, বগলামুখীর কৃপায় তর্কযুদ্ধে অত্যন্ত পটু ব্যক্তিও কথা বলার ক্ষমতা হারায়, দ্রুতগামী শত্রু রূপান্তরিত হয় পঙ্গুতে। তাঁর কৃপায় শত্রুদমন করতে হলে কী ভাবে পূজা করতে হবে, তা এবার জেনে নেওয়া যাক!

সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ হয়ে গৃহের উত্তর দিকে একটি পিঁড়ি রেখে, তার উপরে হলুদ কাপড় বিছিয়ে মাতা বগলামুখীর অধিষ্ঠানক্ষেত্র রচনা করতে হবে। এর পর মায়ের একটি ছবি সেই পিঁড়িতে রেখে সামনে জলপূর্ণ মঙ্গলঘট স্থাপন করতে হবে, ছবি না থাকলে পিঁড়ির উপরেই মঙ্গলঘট বসাতে হবে। এবার পূজার সঙ্কল্প করে ছবিতে বা ঘটে একে একে সিঁদুর, চন্দন, বেলপাতা, পান, মরসুমি ফল, হলুদ রঙের ফুল অর্পণ করতে হবে। ধূপ এবং দীপ জ্বেলে দিতে হবে মায়ের ছবি বা মঙ্গলঘটের সামনে। এর পর পাঠ করতে হবে বগলামুখী কবচ। সব শেষে মাতার আরতি অন্তে পূজা সমাপন করা বিধেয়।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: