বাড়ির ‘এই’ অংশে কালো রঙের মেঝে দারুণ পয়মন্ত, জেনে বাস্তুশাস্ত্রের দিকনির্দেশ

Black floor can be very good for your luck -Photo- File

বাড়ির এই দিকের মেঝে কালো রঙের হওয়া উচিত, কী ফল মিলবে জেনে নিন বাস্তুমতে!

  • Share this:

#কলকাতা: বাস্তুশাস্ত্রের ভিত দাঁড়িয়ে আছে একেক দিক, সেই দিকের অধিপতি দেবতা, তাঁর পছন্দ এবং অছন্দের উপরে- এই তিন হিসাব মিলিয়েই বাড়ির কোথায় কী থাকা উচিত, তার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে বাস্তুবিদ আচার্য ইন্দু প্রকাশ (Acharya Indu Prakash) জানাচ্ছেন যে বাড়ির উত্তর দিকের মেঝে সব সময়ে কালো রঙের হওয়া উচিত। পুরো কালো যদি না-ও হয়, তাহলেও অন্তত মেঝের রঙের সমন্বয়ে কালোর উপস্থিতি থাকতে হবে।

এই জায়গায় এসে আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে যে শাস্ত্রে ভগবান শিবকে উত্তর দিকের অধিপতি বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁর গায়ের রঙ কালো নয়, স্তোত্র মতে তিনি কর্পূরগৌরাঙ্গ, অর্থাৎ কর্পূরের মতো গৌর অঙ্গ যাঁর! অন্য দিকে আবার বৃষভবাহন কৈলাসপতির পছন্দের রঙের তালিকাতেও কালো পড়ে না। তাহলে বাস্তুশাস্ত্র বাড়ির উত্তর দিকের মেঝে কালো রঙের করার নির্দেশ কেন দিচ্ছে?

সে কথা জানতে হলে আমাদের চোখ রাখতে হবে ভৈরবতত্ত্বে। শাস্ত্রে প্রতিটি দিকের একজন করে প্রহরী-দেবতা থাকেন, তাঁকে বলা হয় ক্ষেত্রপাল। আর উত্তর দিকের ক্ষেত্রপাল দেবতা হলেন স্বয়ং কালভৈরব!

শিব পুরাণ জানায়, একদা ব্রহ্মা পাঁচটি মুখের অধিপতি হওয়ায় বিষ্ণুর চেয়ে নিজেকে বড় ভেবেছিলেন। তাই একমুখবিশিষ্ট বিষ্ণুকে তিনি নিজেকে উপাসনা করার নির্দেশ দেন। ব্রহ্মার অহঙ্কার দেখে শিব নিজের একটি চুল মাটিতে নিক্ষেপ করলে তার থেকে কালভৈরবের জন্ম হয়। ব্রহ্মার অহঙ্কার খর্ব করার জন্য তিনি নিজের নখ দিয়ে ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নেন। কিন্তু ব্রহ্মার ওই কাটা মাথা কালভৈরবের হাতেই লেগে থাকে। সেটাকে ঝেড়ে ফেলার জন্য অতঃ পর তিনি নানা জায়গায় ১২ বছর ধরে ঘুরতে ঘুরতে উপস্থিত হন সরস্বতী নদীর তটে এক তীর্থে। সেখানে স্নান করতেই ব্রহ্মার মাথাটি তাঁর হাত থেকে খসে পড়ে। সেই থেকে তীর্থটি কপালমোচন নামে বিখ্যাত হয়।

কালভৈরবকে আমরা মূর্তি এবং ছবিতে সাধারণত ব্রহ্মার এই কাটা মাথা, যা করোটিতে রূপান্তরিত হয়েছে, তা হাতে করে ঘুরতে এবং তাতে করে রক্ত পান করতে দেখি। তাঁর গাত্রবর্ণ অন্ধকার রাতের আকাশের মতো কালো, চার হাতে তিনি ডমরু, পাশ, ত্রিশূল এবং ব্রহ্মার করোটি ধারণ করে থাকেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ভৈরবী, বাহন কুকুর। সমস্ত শিবমন্দিরে এই কালভৈরবের মূর্তি উত্তর দিকে স্থাপন করা হয়, এই দিকেই তিনি পশ্চিমাস্য হয়ে অর্থাৎ পশ্চিম দিকে মুখ করে অবস্থান করেন। মন্দিরে পূজা শুরু হয় সূর্য-আরাধনা দিয়ে আর শেষ হয় কালভৈরবকে অর্ঘ্যদান করে।

এই মাহাত্ম্যের কারণেই বাস্তুমতে বাড়ির উত্তর দিকের মেঝে কালো রঙের হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যেরাও কালভৈরবের কৃপায় তাঁর মতো নির্ভীক হয়ে ওঠেন এবং ভয়রহিত জীবনযাপন করেন। বাড়ির মধ্যম পুত্র এই ব্যাপারে সর্বাধিক শুভ ফল লাভ করে থাকেন, এছাড়া পরিবারের সব সদস্যেরই শ্রবণশক্তি নিয়ে কোনও সমস্যা থাকে না।

Published by:Debalina Datta
First published: