Narasimha Jayanti 2021: দূর হবে জীবনের সব বাধা, কোন মন্ত্রে আজ তুষ্ট করবেন দেব নৃসিংহকে?

Narasimha Jayanti 2021: দূর হবে জীবনের সব বাধা, কোন মন্ত্রে আজ তুষ্ট করবেন দেব নৃসিংহকে?

কবি জয়দেব তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থের প্রাম্ভে যে দশাবতার স্তোত্র রচনা করেছেন, সেখানে অতি উগ্র নৃসিংহ ভগবানের একটি অত্যাশ্চর্য বিবরণ

  • Share this:

পুরাণকথা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণু তাঁর চতুর্থ অবতার-রূপ ধারণ করেছিলেন। পঞ্জিকা অনুসারে আজ, অর্থাৎ ২৫ মে বৈশাখ চতুর্দশী। আজকের তিথিতেই ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছিল অর্ধ-সিংহ, অর্ধ-মানব অবতারে। সেই জন্য তাঁর এই রূপটি নৃসিংহ বা নরসিংহ নামে প্রসিদ্ধ। আজকের তিথিতে জন্ম হয়েছিল শ্রীনৃসিংহের, তাই এই তিথি পরিচিত নৃসিংহ জয়ন্তী রূপে।

কবি জয়দেব তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থের প্রাম্ভে যে দশাবতার স্তোত্র রচনা করেছেন, সেখানে অতি উগ্র নৃসিংহ ভগবানের একটি অত্যাশ্চর্য বিবরণ দেওয়া আছে। জয়দেব লিখেছেন- তব করকমলবরে নখমদ্ভুতশৃ্ঙ্গং দলিতহিরণ্যকশিপুতনুভৃঙ্গম্/কেশব ধৃতনরহরিরূপ জয় জগদীশ হরে! অর্থাৎ হে কেশব, আপনি যখন নরহরি রূপ ধারণ করেছিলেন, তখন আপনার করকমলের নখের অগ্রভাগ শৃঙ্গের মতো অদ্ভুত রূপ ধারণ করেছিল যার দ্বারা আপনি হিরণ্যকশিপুর তনুভৃঙ্গটি দলিত করেছিলেন!

এই জায়গায় এসে আমাদে দুই প্রশ্নের সম্মখীন হতে হয়। জয়দেব কেন বিষ্ণুর এই অবতারকে নরহরি রূপে বর্ণনা করেছেন? সংস্কৃতে হরি শব্দের অর্থ হল সিংহ। তাই কবি নরসিংহ বা নৃসিংহ না লিখে কাব্যিক নরহরি শব্দটির প্রয়োগ করেছেন। দ্বিতীয় প্রশ্ন ওই অদ্ভুত শৃঙ্গের মতো নখ এবং হিরণ্যকশিপুকে নিয়ে। কে এই হিরণ্যকশিপু, তাঁকে বধ করার জন্য এমন নখের প্রয়োজন হল কেন?

এই অবতারের জন্মসূত্রটি নিহিত আছে বিষ্ণুর তৃতীয় অবতারের কীর্তিতে। বরাহ রূপে দানব হিরণ্যাক্ষকে বিষ্ণু বধ করায় তাঁর ভাই হিরণ্যকশিপু কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মার কাছ থেকে এক অদ্ভুত বর আদায় করেন। সেই বর অনুযায়ী কোনও মানুষ বা পশুর তাঁকে বধ করার ক্ষমতা ছিল না। শুধু তাই নয়, বরের জোরে দিনে বা রাতে, জলে-স্থলে-আকাশে, ঘরের ভিতরে এবং বাইরে- সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন অবধ্য। এমনকী, কোনএ অস্ত্রেরও তাঁকে বধ করার ক্ষমতা ছিল না।

এই দুর্লভ বরের জেরে নিজেকে অমর ভেবে হিরণ্যকশিপু ঘোষণা করে দেন- তাঁর রাজ্যে কেউ বিষ্ণুর পুজো করতে পারবে না। কিন্তু প্রহ্লাদ, তাঁর নিজের ছেলে বাবার এই আদেশ মানেনি। সে বিষ্ণুর উপাসনা কোনও মতেই বন্ধ করেনি। ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু যখন নিজে তাকে বধ করতে উদ্যত হন, তখন বিষ্ণু নৃসিংহের রূপে আবির্ভূত হন। এই নৃসিংহের মাথা সিংহের, শরীর মানুষের, অতএব তাঁকে মানুষ বা পশু কোনওটাই বলা যায় না। তিনি হিরণ্যকশিপুকে নিয়ে যান উঠোনের চৌকাঠে যা ঘরও নয়, বাহিরও নয়। গোধূলি, যা কি না দিনও নয়, রাত নয়, এমন সময়ে নৃসিংহ তাঁকে স্থাপন করেন নিজের ঊরুতে, যা জল-স্থল-আকাশের মধ্যে পড়ে না। এর পর নিজের নখ, যা কি না অস্ত্রও নয়, তা দিয়ে নৃসিংহ বুক চিরে ফেলে হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন!

এই কারণেই ভগবান নৃসিংহকে জীবনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য, শত্রু দমন করার জন্য আরাধনা করা হয়। চতুর্দশী তিথি ২৫ মে রাত ৮টা ২৯ পর্যন্ত থাকলেও যেহেতু নৃসিংহদেব সায়ংকালে প্রকট হয়েছিলেন, তাই এই সময়েই তাঁর আরাধনা কর্তব্য। পঞ্জিকা মতে আজ এই লগ্ন পড়েছে বিকেল ৪টে ৩২ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। অতএব, এই সময়ের মধ্যেই তাঁর আরাধনা করতে হবে। তার আগে মধ্যাহ্নকালের মধ্যে, সকাল ১০টা ৫৬ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটের মধ্যে পূজার সঙ্কল্প করতে হবে। এই পূজাতেও একাদশীর মতো উপবাস এবং সংযম অবলম্বন করতে হয়। তাই পারণ হবে ২৬ মে সকাল ৬টা ০১ মিনিটে।

ভগবান নৃসিংহকে পূজা করতে হবে এই মন্ত্রে- উগ্রম বীরম মহাবিষ্ণুম জ্বলন্ত সর্বতোমুখম, নৃসিংহম ভীষণমভদ্রম মৃত্যুর্মৃত্যুম নমাম্যহম।

এবার জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে পূজা করতে হবে এবং সেই সম্পর্কে কী নিয়ম রক্ষা করতে হবে!

১. একক রূপে নয়, সস্ত্রীক লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শ্রীনৃসিংহের পূজা করতে হবে। ২. ব্রাহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে থাকতে হবে। ৩. মাতা লক্ষ্মী এবং নৃসিংহদেবকে অর্পণ করতে হবে ফুল, সিঁদুর, মিষ্টান্ন, কেশর এবং নারকেল। ৪. চতুর্দশী তিথির সারা দিন উপবাসে থাকতে হবে। ৫. বিশুদ্ধ উপবাস রক্ষা করতে না পারলে ফলাহার বৈধ, তবে শস্যদানাজাতীয় কোনও খাদ্য গ্রহণ করা চলবে না। ৬. নৃসিংহ মন্ত্র রুদ্রাক্ষমালা হাতে ধ্যানযোগে জপ করলে সর্বাধিক ফলপ্রদ হয়।

Published by:Simli Raha
First published: