Narada Jayanti 2021: পিতা দায়িত্ব নেননি, মাতার মৃত্যু হয় অল্প বয়সে, এই ব্রতপালনেই দেবতার স্থানলাভ করেন নারদ

নারদ জয়ন্তী

যাঁরা ব্রত উদযাপন করতে চান, তাঁদের সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। বিরত থাকতে হবে আমিষ ভোজন এবং মদ্যপানে।

  • Share this:

সবার প্রথমে এই কথা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার যে যতই তিথির নাম হোক নারদ জয়ন্তী, এই উপলক্ষ্যে দেবকুলের অন্তর্গত এই ঋষিকে পূজা করা হয় না। তাহলে নারদ জয়ন্তী ব্রত উদযাপনের অর্থ কী?

এই রহস্য লুকিয়ে আছে নারদের জন্মকথায়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ বলে যে প্রজাপতি ব্রহ্মার কণ্ঠ থেকে জন্ম নিয়েছিলেন নারদ। জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি নারদকে সৃষ্টিরক্ষার দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৈষয়িক ব্যাপারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লে ঈশ্বরের নামগানে বিঘ্ন ঘটবে, এই যুক্তিতে নারদ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অপমানিত ব্রহ্মা তখন অভিশাপ দেন- সঙ্গীতের প্রতি এই টানে নারদকে গন্ধর্বযোনিতে জন্ম নিতে হবে। অতঃ পর উপবর্হন নামে গন্ধর্ব হয়ে নারদ জন্ম নেন। কিন্তু একদা স্বর্গসভায় রম্ভার নৃত্য দেখে তাঁর বীর্যস্খলন হলে আবার ব্রহ্মা তাঁকে অভিশাপ দেন। কামনা সংযত করতে না পারার অপরাধে এবার তাঁর মানুষ হিসাবে জন্ম হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত বলে, এই জন্মে নারদ আবির্ভূত হয়েছিলেন এক দাসীর গর্ভে। কলাবতী নামের এই নারী ঋষিদের সেবা করতেন। একদিন আকাশপথে অপ্সরা মেনকাকে যেতে দেখে ঋষি কশ্যপের বীর্যপাত হয়, কলাবতী তা পান করলে জন্ম হয় নারদের। পিতা তাঁর কোনও দায়িত্বই নেননি, মায়েরও একদিন মৃত্যু হয় সর্পাঘাতে। নারদ তখন ঋষিদের পায়ে পায়ে ঘুরতেন, তাঁদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে প্রাণধারণ করতেন। বলা হয়, সেই এঁটো ছিল ঋষিদের ভগবান বিষ্ণুকে নিবেদন করা প্রসাদ। সেই প্রসাদের স্বাদে অভিভূত হয়ে নারদের মনে বিষ্ণুভক্তির উদ্ভব হয়। এর পর কেবল বিষ্ণুর নামগান করেই তিনি দেবকুলের অন্তর্গত হয়েছিলেন, লাভ করেছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যও।

এই কারণে নারদের জন্মতিথিতেও উপাসনা করা হয় তাঁর আরাধ্য ভগবান বিষ্ণুর। এই ব্রত উদযাপন পদ্ধতি জটিল নয়। কেন না, নারদ পূজার পদ্ধতি জানতেন না, তিনি কেবল নামগান আর পুষ্পদানেই পেয়েছিলেন বিষ্ণুর কৃপা। পঞ্জিকা মতে, ব্রত উদযাপন শুরু হবে সকাল থেকে, তবে পুণ্য মুহূর্ত পড়বে সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট এবং দুপুর ২টো ৪২ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ০৭ মিনিটে। এই দুই সময়ের যে কোনও একটিতে অথবা দুই লগ্নেই বিষ্ণুকে অর্ঘ্য অর্পণ করা যায়। সঙ্গে বিষ্ণুসহস্রনাম পাঠ বা শ্রবণ অবশ্য কর্তব্য।

ব্রত উদযাপন পদ্ধতি এবং বিধিনিষেধ ১. যাঁরা ব্রত উদযাপন করতে চান, তাঁদের সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। ২. দিনটিতে উপবাস রক্ষা করতে হবে। ব্যর্থ হলে দুধ এবং ফলাহার বিধেয়; শস্যদানাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা চলবে না। ৩. পুণ্য লগ্নে চন্দন, তুলসী, ফুল, কুমুকুম, ধূপ, দীপ এবং মিষ্টান্নভোগে ভগবানের আরাধনা করতে হবে। ৪. বিষ্ণুসহস্রনাম স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণ করতে হবে। ৫. বিরত থাকতে হবে আমিষ ভোজন এবং মদ্যপানে। ৬. কাউকে কটূ কথা বলা যাবে না।

Published by:Pooja Basu
First published: