Matsya Jayanti 2021: আজকের দিনে মাছ খেলে কুপিত হবেন মহাবিষ্ণু, জেনে নিন কেন

Matsya Jayanti 2021: আজকের দিনে মাছ খেলে কুপিত হবেন মহাবিষ্ণু, জেনে নিন কেন

আজকের দিনে মাছ খেলে কুপিত হবেন মহাবিষ্ণু, জেনে নিন কেন!

জলতল থেকে বেদ পুনরায় উদ্ধার করার জন্য বিষ্ণুকে এমন শরীর ধারণ করতে হয়েছিল যা জলে সন্তরণের উপযোগী

  • Share this:

Matsya Jayanti 2021: জয়দেব তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থের শুরুতে বিষ্ণুর দশ অবতারের প্রশস্তি করেছিলেন। প্রতি যুগে সৃষ্টিকে রক্ষা করার প্রয়োজনে বিষ্ণু পূর্ণ বা অংশ অবতারের রূপ পরিগ্রহ করে থাকেন। তার মধ্যে মৎস্য অবতার হল প্রথম। এঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে গীতগোবিন্দে- প্রলয়পয়োধি জলে ধৃতবানসি বেদম, বিহিতবহিত্রচরিত্রমখেদম, কেশব ধৃত মীনশরীরম! অর্থাৎ সৃষ্টি যখন প্রলয়ের জলে নিমজ্জিত হয়েছিল, তখন সেই জলে বেদ ধারণ করার প্রয়োজনে কেশব ধারণ করেছিলেন মীনের শরীর, এই মীনের শরীরেই তিনি বহন করেছিলেন মহাজলযান! বলা হয়, সত্যযুগের চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই ঘটনা ঘটেছিল, এই তিথিতেই মৎস্য অবতার গ্রহণ করেন মহাবিষ্ণু। সেই জন্য শাস্ত্রে এই দিনটি মৎস্যজয়ন্তী নামে পরিচিত।

মৎস্যজয়ন্তীর কাহিনি

পুরাণ মতে দানব দমনক বেদ হরণ করে পর্যুদস্ত করেছিল ব্রহ্মাকে, তা হরণ করে আত্মগোপন করেছিল মহাসমুদ্রের তলদেশে। সেই জলতল থেকে বেদ পুনরায় উদ্ধার করার জন্য বিষ্ণুকে এমন শরীর ধারণ করতে হয়েছিল যা জলে সন্তরণের উপযোগী। তাই তিনি ধারণ করেন মৎস্যের শরীর। এই রূপে তাঁর শরীরের উর্ধ্বভাগ মানুষের মতো, নিম্নভাগ মৎস্যের মতো। চার হাতে তিনি ধারণ করে থাকেন শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম এবং বেদসমূহ। এই রূপেই তিনি দমনককে বধ করে সমুদ্রতল থেকে বেদ উদ্ধার করে তা সমর্পণ করেছিলেন ব্রহ্মাকে।

এছাড়া এই অবতারে মহাবিষ্ণুর পুরোপুরি মাছের মতো রূপ ধারণেরও উল্লেখ আছে পুরাণে। বলা হয়, রাজা সত্যব্রত মনু একদিন যখন নদীতে স্নান করছিলেন, তখন তাঁর হাতের আঁজলায় একটা অতি ছোট মাছ উঠে আসে। সে অনুরোধ জানায় যে রাজা যেন তাকে নদীর বড় মাছদের হাত থেকে রক্ষা করেন! রাজা সেই মাছটিকে নিয়ে আসেন প্রাসাদে, ছেড়ে দেন একটা পাত্রে। পরের দিন সকালে তিনি দেখেন মাছটা পাত্রের সমান বড় হয়ে গিয়েছে, সে আর নড়তে পারছে না। রাজা তখন তাকে এক চৌবাচ্চায় ছেড়ে দিলেন। কিন্তু পরের দিন সকালে সবিস্ময়ে দেখলেন যে সেই মাছ চৌবাচ্চার মতো বড় হয়ে গিয়েছে।

এই ভাবে একে একে সেই মাছকে পুকুর, নদী এবং অবশেষে সাগরে স্থানান্তরিত করা হয়। এবার সেই মাছ জানায় যে মহাপ্রলয়ে নিমজ্জিত হতে চলেছে সৃষ্টি, তাই মনু যেন এক সুবিশাল নৌকা প্রস্তুত করে ঋষি এবং জীবকুলের সঙ্গে প্রস্তুত থাকেন। যথাসময়ে প্রলয়কালে সেই মাছ এসে দেখা দেয়, বলে তার শৃঙ্গের সঙ্গে নৌকার দড়ি বেঁধে দিত। অতঃ পর সে নৌকা টেনে নিয়ে যায় নিরাপদ স্থানে, রক্ষা করে মানব এবং সৃষ্টির অন্য জীবকুল।

মৎস্যজয়ন্তী উদযাপনের নিয়ম

দেশে একমাত্র অন্ধ্রপ্রদেশের নাগালাপুরম গ্রামে মৎস্যাবতারের মন্দির আছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে সেখানে উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। তবে যাঁরা মন্দিরে পূজা দিতে পারবেন না, তাঁরা গৃহে শুদ্ধাচারে, উপবাসে পালন করতে পারেন মৎস্যজয়ন্তী। সকালে স্নান করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করতে হয় নির্জলা উপবাস, না পারলে নিরামিষ খেতে হয়, কঠোর ভাবে বর্জন করতে হয় মাছ! এর পর সন্ধ্যাবেলা বিষ্ণুকে অর্ঘ্য অর্পণ করতে হয়, দান করতে হয় দরিদ্রদের। এছাড়া এই দিনে দশাবতার স্তোত্র, বিষ্ণুসহস্রনাম স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণেও মহাপুণ্য অর্জিত হয়।

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর