Kurma Jayanti 2021: মিথ্যা বলা যাবে না, এই মন্ত্রে আজ বিষ্ণুর আরাধনায় পূর্ণ হবে মনের সব বাসনা!

বিপুলতরা ক্ষিতি বা পৃথিবী যাঁর পৃষ্ঠে স্থির হয়ে আছে, সেই ধরণী ধারণ করার ভারে যাঁর পিঠে কড়া পড়ে গিয়েছে, কূর্মরূপধারী সেই কেশবের জয় হোক!

বিপুলতরা ক্ষিতি বা পৃথিবী যাঁর পৃষ্ঠে স্থির হয়ে আছে, সেই ধরণী ধারণ করার ভারে যাঁর পিঠে কড়া পড়ে গিয়েছে, কূর্মরূপধারী সেই কেশবের জয় হোক!

  • Share this:

কবি জয়দেব তাঁর গীতগোবিন্দ গ্রন্থের প্রারম্ভে যে দশাবতার স্তোত্র রচনা করেছেন, সেখানে তিনি ভগবান বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতারের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন- ক্ষিতিরতিবিপুলতরে তিষ্ঠতি তব পৃষ্ঠে ধরণিধরণকিণচক্রগরিষ্ঠে/কেশব ধৃতকূর্ম্মশরীর জয় জগদীশ হরে! অর্থাৎ বিপুলতরা ক্ষিতি বা পৃথিবী যাঁর পৃষ্ঠে স্থির হয়ে আছে, সেই ধরণী ধারণ করার ভারে যাঁর পিঠে কড়া পড়ে গিয়েছে, কূর্মরূপধারী সেই কেশবের জয় হোক!

নানা পুরাণ একথা বলে থাকে যে যুগে যুগে ভূভার হরণের জন্য ভগবান বিষ্ণু অবতার রূপ পরিগ্রহ করেন। কিন্তু এই কূর্ম বা কচ্ছপ রূপে তিনি পৃথিবীর ভার হরণ করেননি, বরং তা বহন করেছেন। বলা হয়, তিনিই এই পৃথিবীকে পিঠে ধারণ করে রেখেছেন, সেই জন্য তা স্থির হয়ে আছে একজায়গায়। যদিও এই পুরাণমতেই যখন বিষ্ণু প্রথম কূর্মরূপ ধারণ করেছিলেন, তখন তিনি পৃথিবী নয়, বহন করেছিলেন নিজের পিঠে মন্দর পর্বতের ভার। বিষ্ণুর বিবাহের ঘটনার সঙ্গেও এই কূর্মরূপ ধারণের সম্পর্ক আছে।

বলা হয়, একদা এক অপ্সরা একটি দিব্য মালা শ্রদ্ধা সহকারে নিবেদন করেছিলেন ঋষি দুর্বাসাকে। দুর্বাসা সেই মালাটি ইন্দ্রকে দিলে তিনি তা হেলাফেলার সঙ্গে জড়িয়ে দেন বাহন হাতিটির শুঁড়ে। কিন্তু সেই মালার সুগন্ধে মৌমাছি এসে যখন শুঁড়ে বসল, হাতি তখন তা নিক্ষেপ করল মাটিতে। অপমানিত বোধ করে দুর্বাসা তাই অভিশাপ দেন ইন্দ্রকে- দেবতারা শ্রীহীন হয়ে যাবেন! ধনদেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে সমস্ত ঐশ্বর্য তলিয়ে যাবে সমুদ্রে! এভাবে দুর্বাসার শাপে বিষ্ণু তাঁর স্ত্রীকে হারান!

হৃত সম্পদ এবং লক্ষ্মীকে উদ্ধারের জন্য অতঃ পর দেবতারা অসুরদের সাহায্য নিয়ে মন্দর পর্বতকে মন্থন-দণ্ড এবং বাসুকি নাগকে দড়ি করে সমুদ্র মন্থন করা শুরু করেন। লক্ষ্মী অন্তর্হিত হওয়ায় তাঁরা হীনবল হয়ে পড়েন যার পরিণামে এই দুরূহ কাজে অসুরদের সাহায্য নিতেই হয়।

কিন্তু বিপদ দেখা দেয় তখনই, যখন মন্দর সমুদ্রে ডুবতে শুরু করে। কেন না, তাকে জলের মধ্যে ধরে রাখার জন্য কোনও ভিত্তি ছিল না। অতঃ পর বিষ্ণু কূর্ম বা কচ্ছপের রূপ ধারণ করে সমুদ্রে গিয়ে বসেন এবং মন্দরকে ধারণ করে থাকেন নিজের পিঠে। মন্থনকালে এই সমুদ্র থেকে সৃষ্টির যাবতীয় ঐশ্বর্য-সহ দেবী লক্ষ্মী উত্থিতা হন এবং বিষ্ণুকে স্বামীরূপে বরণ করেন।

তাই শাস্ত্রে বিষ্ণুর কূর্ম অবতারের অপরিসীম মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে বিষ্ণু কূর্মরূপ ধারণ করেছিলেন বলে এই তিথিটিকে কূর্ম জয়ন্তী নামে অভিহিত করা হয়। বলা হয়, যাঁরা এই দিন সংযম এবং উপবাস পালন করেন ভগবানের আরাধনা করেন, তাঁদের জীবন সর্বদা সুখে স্থির থাকে, মনের সব বাসনা পূর্ণ হয়।

পঞ্জিকা মতে, বিষ্ণুর কূর্মরূপ ধারণ এবং সমুদ্রতলে অধিষ্ঠানের শুভলগ্ন আজ বিকেল ৪টে ২৬ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ৪৩ মিনিটের মধ্যে পড়েছে। অতএব এই সময়েই তাঁর আরাধনা করতে হবে। যদিও সকাল থেকেই শুরু হবে ব্রত উদযাপন।

১. যাঁরা ব্রত উদযাপন করতে চান, তাঁদের সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। ২. এই দিন মিথ্যা কথা বলা একেবারেই যাবে না, দিনটি মৌনভাবে কাটাতে পারলেই ভালো হয়। ৩. দিনটিতে উপবাস রক্ষা করতে হবে। ব্যর্থ হলে দুধ এবং ফলাহার বিধেয়; শস্যদানাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা চলবে না। ৪. পুণ্য লগ্নে চন্দন, তুলসী, ফুল, কুমুকুম, ধূপ, দীপ এবং মিষ্টান্নভোগে ভগবানের আরাধনা করতে হবে। ৫. এই রাতে ঘুমানো চলবে না। ৬. দশাবতার স্তোত্র, বিষ্ণুসহস্রনাম স্তোত্র পাঠ এবং শ্রবণ অবশ্য কর্তব্য।

Published by:Simli Raha
First published: