পুণ্য লগ্নে সম্পাদিত না হলে শোধ হবে না সন্তানের ত্রিবিধ ঋণ, উপনয়ন চলতি মাসের এই দিনগুলিতেই বিধেয়!

ফাইল ছবি

শাস্ত্রমতে ব্রাহ্মণ-সন্তান উপনয়ন না হলে ধর্মাচারণের অনুমতি পায় না, অনুমতি পায় না বিদ্যাভ্যাসেরও।

  • Share this:

পুণ্য লগ্নে সম্পাদিত না হলে শোধ হবে না সন্তানের ত্রিবিধ ঋণ, উপনয়ন চলতি মাসের এই দিনগুলিতেই বিধেয়! মনুসংহিতা মতে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে ১৬টি অনুষ্ঠান বা সংস্কারের আয়োজন করা একান্ত কর্তব্য, তার মধ্যে অন্যতম হল উপনয়ন। অবশ্য বর্তমানে এই উপনয়ন সংস্কার বা যজ্ঞোপবীত ধারণ কেবল ব্রাহ্মণ এবং সেই সম্প্রদায়ের পুত্রসন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়েছে। এই জায়গা থেকে অনেকে এর সার্বজনীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু কেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা কর্তব্য, তা জেনে নেওয়া যাক শাস্ত্র মতে।

যা আমাদের ধারণ করে থাকে, তা-ই হল ধর্ম। শাস্ত্রমতে ব্রাহ্মণ-সন্তান উপনয়ন না হলে ধর্মাচারণের অনুমতি পায় না, অনুমতি পায় না বিদ্যাভ্যাসেরও। বাম কাঁধ থেকে ডানহাতের নিচ পর্যন্ত লম্বমান এই উপবীতের তিনটি গ্রন্থি থাকে। এই তিন গ্রন্থি দেবঋণ, পিতৃঋণ এবং ঋষিঋণ পরিশোধের দ্যোতক। এই তিন গ্রন্থিই সাক্ষাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের প্রতীক। পাশাপাশি তা সত্ত্ব, রজ এবং তমোগুণেরও প্রতীক।

সে কারণে শুভ তিথি-নক্ষত্রের সমাবেশ ছাড়া এই অনুষ্ঠানের উদযাপন কাম্য নয়। দেখে নেওয়া যাক এই বিষয়ে বিশদে!

শুভ নক্ষত্র- মৃগশিরা, আর্দ্রা, পুনর্বসু, হস্তা, চিত্রা, স্বাতী, শ্রবণা, ধনিষ্ঠা, শতভিষা, অশ্বিনী, মূলা, পূর্ব ভাদ্রপদ, পূর্ব আষাঢ়া, পুষ্যা এবং অশ্লেষা- এই নক্ষত্রগুলি যে বিশেষ তিথিতে পড়ছে, সেই অনুসারে উপনয়নের দিন ধার্য করতে হয়।

শুভ তিথি- উপরে উল্লেখ করা নক্ষত্রগুলো যদি দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, দশমী, একাদশী এবং দ্বাদশী তিথির মধ্যে যে কোনও একটিতে পড়ে, তাহলে সেই তিথি উপনয়নের পক্ষে প্রশস্ত বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

শুভ বার- উপরে উল্লেখ করা তিথি এবং নক্ষত্রযোগ রবি, বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্রবারে ঘটলে তা উপনয়নের জন্য আদর্শ বলে পরিগণিত হয়।

শুভ লগ্ন- উপনয়ন সংস্কার প্রথম, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম, নবম এবং দশম লগ্নে আয়োজন করা উচিত।

এই সব দিক মিলিয়ে চলতি মাসের ১৩ এবং ২০ তারিখে উপনয়নের পুণ্য মুহূর্ত নির্দেশ করছে পঞ্জিকা। ১৩ জুন ভোর ৫টা ২৩ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ৪৪ মিনিটের মধ্যে শুভকাজের আয়োজন করা যায়। এছাড়া ২০ জুন সকাল ১০টা ৩১ থেকে বিকেল ৪টে ২২ মিনিটের মধ্যেও উপনয়নের আয়োজন শুভ বলে গণ্য হবে।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: