Vastu Tips: বাস্তুমতে সন্ধেয় কোন কাজ একেবারে নয়? অন্যথায় জীবন ভরে উঠবে দারিদ্র্যে-রোগকষ্টে!

বাস্তুমতে সন্ধেয় কোন কাজ একেবারে নয়?

বাস্তুশাস্ত্রমতেও আমাদের সুসংযত হয়ে কিছু আচরণবিধি পালন করা উচিত।

  • Share this:

খুব সামান্য কিছু ভুল, মন বেশির ভাগ সময়েই তা ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না, কিন্তু তার জেরেই পড়তে হয় বড়সড় ভোগান্তির মুখে- এমনটা কি আমার-আপনার জীবনে খুব একটা নতুন কিছু ব্যাপার?

আসলে পৃথিবীর জীবন কিন্তু নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধা, সৃষ্টির আদি থেকেই। এই দুনিয়ায় যা কিছু, তা একটা নির্দিষ্ট নিয়মে চলে, তার বাইরে একচুল এদিক-ওদিক হওয়ার জো নেই। সব কিছুর নেপথ্যেই রয়েছে একটি বিশেষ কারণ। আর সেই কারণের সূত্র ধরেই জীবনে দেখা দেয় ফলাফল। যদি সেই কর্মসূত্র ঠিকঠাক ভাবে পালন করা যায়, তাহলে জীবনে সুখ বজায় থাকে। অন্যথায় জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

এই কর্মযোগের কথা কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় ভগবানের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলছেন যে এক মনে নিজের কাজ করে যেতে হবে আর তার পরিণামেই মানুষের জীবন কর্মফল অনুসারে বিন্যস্ত হবে। এই কর্মযোগের মূল কথাই হল আচরণবিধি। বাস্তুশাস্ত্রমতেও আমাদের সুসংযত হয়ে কিছু আচরণবিধি পালন করা উচিত। তা যদি করা সম্ভব হয়, তাহলে জীবনে কোনও নেতিবাচকতা, কোন অসুখ স্থান পাবে না।

এক্ষেত্রে মুখ্য চারটি নীতি মেনে না চললেই নয়; কী কী তা দেখে নেওয়া যাক এবারে!

১. গৃহে ভাঙা কোনও জিনিস রাখা চলবে না

ভাঙা জিনিস সব সময়েই সংসারে অশান্তি এবং অভাব নিয়ে আসে। এর একটা মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। ভাঙা জিনিস দেখতে থাকলে বা ব্যবহার করতে থাকলে জীবন তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন আর সুসামঞ্জস্যের কথা মাথায় আসে না। তাই ভাঙা বাসন ব্যবহার করা উচিত নয়, উচিত নয় ভাঙা আসবাব বাড়িতে রাখা। বিশেষ করে ভাঙা কেনও মূর্তি বাড়িতে কখনই রাখা চলবে না। তা যদি দেবমূর্তি হয়, তাহলে বিসর্জন দিয়ে নতুন মূর্তি আনাই ঠিক হবে। নাহলে সংসার থেকে দুঃখ, দারিদ্র্য দূর হবে না।

২. বাড়ি সব সময়ে পরিষ্কার রাখতে হবে

দেবী লক্ষ্মী বহু রূপে বাস করেন প্রতি পরিবারেই; আর তিনি অপরিচ্ছন্নতা একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। তাই সংসারে সৌভাগ্য এবং সম্পদ ধরে রাখতে বাড়ির ভিতর তো বটেই, এমনকী বাইরেটাও সব সময়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

৩. সন্ধেবেলায় ঘর অন্ধকার রাখা যাবে না

শাস্ত্র বলে, নেতিবাচক শক্তি তার প্রভাব বিস্তার করে দিন এবং রাতের সন্ধিক্ষণে। তাই সন্ধেবেলায় ঘরের প্রতি কোণ যাতে আলোকিত থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাহলে জীবন কেবলই কষ্টে পরিপূর্ণ হবে, দুর্ভাগ্য গ্রাস করবে পরিবারকে।

৪. ওষুধের সঠিক ব্যবহার

বাস্তুশাস্ত্রে ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিয়েও নিদান রয়েছে। প্রবাদেও বলে যে কোনও ওষুধ ফেলে রাখা উচিত নয়, ওষুধ পুরোটা শেষ না করলে রোগও পুরোপুরি সারে না। সন্দেহ নেই, একথা রোগ এবং ওষুধের ডোজের পারস্পরিক সম্পর্কের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তবে, এরই পাশাপাশি না-খাওয়া ওষুধ বাড়িতে না রাখার পরামর্শ দেয় বাস্তুশাস্ত্র। যে ওষুধের আর ব্যবহার নেই, তা বাড়িতে রাখলে রোগ বাড়ে বই কমে না। আর সেই সূত্রে দেখা দেয় নিত্য অভাব। তাই এমন ওষুধ ফেলে দেওয়াই উচিত হবে!

Published by:Raima Chakraborty
First published: