Buddha Purnima 2021: জানুন বৈশাখী পূর্ণিমার মাহাত্ম্য, গৌতম বুদ্ধের এই কথা মানতে পারলে জীবনে দুঃখ থাকবে না!

Buddha Purnima 2021: জানুন বৈশাখী পূর্ণিমার মাহাত্ম্য, গৌতম বুদ্ধের এই কথা মানতে পারলে জীবনে দুঃখ থাকবে না!

বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথি পঞ্জিকা অনুসারে যা ২৬ মে বুধবার পড়েছে, সেই তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অনেকেই বৌদ্ধ ধর্মকে একটি পৃথক ধর্মের মর্যাদা দিতে চান না। তাঁরা এক্ষেত্রে গৌতম বুদ্ধকে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতার রূপে গণ্য করেন এবং সেই অনুসারে বৌদ্ধ ধর্মকে হিন্দু ধর্মেরই একটি শাখা রূপে অভিহিত করে থাকেন। এই প্রসঙ্গে কবি জয়দেবের লেখা দশাবতার স্তোত্র বিশেষ ভাবে উদ্ধৃতযোগ্য। স্তোত্রমালার দশম অংশে তিনি গৌতম বুদ্ধের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন- নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ শ্রুতিজাতং সদয়হৃদয়দর্শিতপশুঘাতম্/কেশব ধৃতবুদ্ধশরীর জয় জগদীশ হরে! অর্থাৎ হে কেশব, যখন যজ্ঞে পশুহত্যা দেখে আপনার হৃদয় সদয় হয়ে উঠল, তখন আপনি বুদ্ধশরীরে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে যজ্ঞবিধি নিন্দা তুলে ধরলেন, আপনার জয় হোক!

গৌতম বুদ্ধ সত্যিই বিষ্ণুর অবতার কি না, সেই বিতর্ক আপাতত থাক! বৌদ্ধ ধর্মের দাপট খর্ব করার জন্য তাকে হিন্দুশাখায় এবং তার পরমপুরুষকে বিষ্ণু-অবতারের শ্রেণীতে স্থান দেওয়া নিয়ে ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের কূটনীতিও আপাতত তফাত যাক! আমরা শুধুমাত্র দৃষ্টি ন্যস্ত করি এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান ঐতিহাসিক পুরুষের জীবনধারায়। কেন না, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথি পঞ্জিকা অনুসারে যা ২৬ মে বুধবার পড়েছে, সেই তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। রাজকুলে জন্ম নিয়েও কেন তিনি সন্ন্যাস নিলেন আর কী ভাবে জগতের দুঃখ নিবারণের পথপ্রদর্শন করলেন, বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বেসাকের সূত্রে তা এবার জেনে নেওয়া যাক!

বলা হয় যে যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও ৫৩৭ বছর পূর্বে নেপালের তরাই অঞ্চলে কপিলাবস্তু নগরে রাজা শুদ্ধোদনের গৃহে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। জন্মগত সুলক্ষণ বিচার করে গণকেরা রাজকুমারের নাম রাখেন সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ যিনি কি না জীবনের সর্বপ্রকার অর্থ অর্জন করবেন। সেই সময়েই ঋষি অসিত জানিয়েছিলেন যে শুদ্ধোদনের এই পুত্র ভবিষ্যতে হয় রাজচক্রবর্তী হবে, নয় তো সন্ন্যাসী হবে, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই সারা বিশ্ব জয় করবে সে! একমাত্র সন্তান যাতে সন্ন্যাস না নেয়, সেই ভয়ে শুদ্ধোদন তাকে মানুষ করতে লাগলেন এক প্রাচীরঘেরা প্রাসাদে।

বলা হয়, কুমার সিদ্ধার্থ একে একে পথভ্রমণে বেরিয়ে এক বৃদ্ধ, এক অসুস্থ, এক মৃত এবং এক সন্ন্যাসীকে দেখেছিলেন। সারথি বলেছিলেন যে জরা, ব্যাধি, মৃত্যু সবাইকেই গ্রাস করে,; সন্ন্যাসী তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই সাধনায় লীন হন। জগতের স্বরূপ আবিষ্কার করে সিদ্ধার্থের ভোগসুখে বৈরাগ্য আসে, তিনি এক রাতে স্ত্রী যশোধরা এবং সদ্যোজাত সন্তানকে ছেড়ে প্রাসাদ ত্যাগ করেন। এর পর গয়ার কাছে উরুবিল্ব নামে এক স্থানে কঠোর তপস্যা করে যখন তাঁর দেহ ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন তিনি বুঝতে পারেন য়ে শরীরকে কষ্ট দিয়ে কোনও দিন মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। এর পর খাদ্যগ্রহণ করে তিনি অশ্বত্থ বৃক্ষতলে একটানা তপস্যায় বসেন এবং বোধি বা সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান লাভ করেন। এই বোধি অর্জনের সূত্রেই তাঁর নাম হয় বুদ্ধ।

ভগবান বুদ্ধ আমাদের পরিচয় করিয়েছিলেন অষ্টাঙ্গিক মার্গের সঙ্গে। এই আটটি নীতি যদি পালন করা যায়, তবে জীবনে কোনও দিন দুঃখ পেতে হয় না। এগুলি হল-

১. সম্যক দৃষ্টি বা জীবন সম্পর্কে সৎ ধারণা ২. সম্যক সঙ্কল্প বা সৎ জীবনযাত্রা ৩. সম্যক বাক্য বা সর্বদা সত্য কথা বলা ৪. সম্যক আচরণ বা অন্যকে দুঃখ না দেওয়া ৫. সম্যক জীবিকা বা সৎ পথে অর্থোপার্জন ৬. সম্যক প্রচেষ্টা বা লোকের ভালো করার প্রয়াস ৭. সম্যক স্মৃতি বা সৎ চিন্তা ৮. সম্যক সমাধি বা কাজে মনোযোগ

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: