শুধু ইসলামেই নয়, আজকের সন্ধ্যায় চন্দ্রদর্শনের গুরুত্ব হিন্দুধর্মেও স্বীকৃত; জীবন থেকে অভাব দূর করতে চাঁদ দেখে এভাবে পুজো করুন!

হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রদেব বা সোম অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রহাধিপতি। তাঁর কৃপায় রূপ, দীর্ঘ আয়ু, বুদ্ধি এবং ধনলাভ হয়ে থাকে।

হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রদেব বা সোম অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রহাধিপতি। তাঁর কৃপায় রূপ, দীর্ঘ আয়ু, বুদ্ধি এবং ধনলাভ হয়ে থাকে।

  • Share this:

    কলকাতা: ইসলাম ধর্ম অনুসারে আজ চাঁদ রাত। রমজানের দীর্ঘ এক মাস রোজা বা উপবাস পালন করার পরে এই সন্ধ্যায় কাস্তের মতো একফালি বাঁকা চাঁদ দেখে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। এই চন্দ্রদর্শন ইসলামে অতীব গুরুত্বপূর্ণ, এই চাঁদ দেখার পর থেকেই শুরু হয় শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। আর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনেই উদযাপিত হয়ে থাকে ইদ-উল-ফিতর। তার আগে যে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা হয়েছিল, সেই শুভ সময়টিকে পুরস্কারের রাতও বলা হয়। চাঁদ দেখার সূত্রে এই দিন ভক্তদের জীবনে আল্লাহর অসীম কৃপা বর্ষিত হয়। পুরস্কার হিসেবে তিনি ভক্তদের জীবনের সব কিছু খারাপকে বদলে দেন ভালোয়!

    কাকতালীয় ভাবে, আজকের তিথিতেই হিন্দুধর্মেও উদযাপিত হবে চন্দ্রদর্শন। হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রদেব বা সোম অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রহাধিপতি। তাঁর কৃপায় রূপ, দীর্ঘ আয়ু, বুদ্ধি এবং ধনলাভ হয়ে থাকে। পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত- সর্বত্রই রয়েছে চন্দ্রদেবের এই অসীম শক্তির কথা। জানানো হয়েছে যে দেবতাদের ধনপ্রাপ্তির সূত্রেই স্বর্গে আগমন ঘটেছিল তাঁর। পুরাণ বলে, একদা দেবরাজ ইন্দ্র যখন তাঁর বান ঐরাবতে চড়ে ভ্রমণে রত, পথের মাঝে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ঋষি দুর্বাসার। দুর্বাসা ইন্দ্রকে একটি দিব্যমালা দিয়ে আশীর্বাদ করলে ইন্দ্র তা পরিয়ে দেন হাতির গলায়। হাতি তা পায়ে পিষে ফেললে অপমানিত দুর্বাসা শাপ দেন যে কৃতকর্মের জন্য দেবতারা শ্রীহীন হয়ে যাবেন।

    অতঃপর বিষ্ণুর পরামর্শে দেব এবং দানবেরা সম্পদশালী হওয়ার লক্ষ্যে সমুদ্রমন্থন শুরু করেন। এই সমুদ্রমন্থনেই ক্ষীরসাগরের জল থেকে উঠে এসেছিলেন চন্দ্রদেব, তাঁর অতুলনীয় রূপে দীপ্তিময় হয়ে উঠেছিল স্বর্গলোক, তাঁর আগমনের পরে স্বর্গ নানাবিধ সম্পদে পরিপূর্ণ হয়। এই ঘটনা স্মরণে রেখেই শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে সান্ধ্যাকালে চন্দ্রদর্শন, চন্দ্রপূজনের রয়েছে অতীব গুরুত্ব। যে ব্যক্তি এই পূজা সম্পাদন করেন, তাঁকে জীবনে শ্রীহীন হতে হয় না।

    শাস্ত্রমতে, এই পূজা করতে গেলে সারা দিন উপবাসে এবং সংযমে থাকা বিধেয়। এর পর সান্ধ্যকালে আকাশে যখন চাঁদ উঠবে, পঞ্জিকা অনুসারে সেই সময়ে চাঁদকে জল এবং দানাশস্য অর্ঘ্য হিসাবে দান করতে হবে। পূজা সমাপ করে ব্রাহ্মণকে দান করতে হবে নূতন বস্ত্র এবং খাদ্যশস্য। পঞ্জিকা মতে এই শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথির চন্দ্রোদয় হবে ১৩ মে সকাল ৬টা ২৬ মিনিটে । চন্দ্র অস্ত যাবে ১৩ মে সন্ধ্যা ৮টা ৩৩ মিনিটে। অতএব, ১৩ মে সন্ধ্যা ৮টা ৩৩ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রদর্শন এবং পূজাদান প্রশস্ত।

    Published by:Siddhartha Sarkar
    First published: