ভৌমবতী অমাবস্যা ২০২১: আজকের দিনে সামান্য কিছু দান করলেই জীবনে অর্থকষ্টে ভুগতে হবে না!

ভৌমবতী অমাবস্যা ২০২১: আজকের দিনে সামান্য কিছু দান করলেই জীবনে অর্থকষ্টে ভুগতে হবে না!

ভারতীয় শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথি সাধারণত পিতৃঋণ পরিশোধের জন্য মঙ্গলদায়ক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

  • Share this:

চাঁদের ক্ষয় এবং বৃদ্ধির উপরে ভিত্তি করে যে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথির উদয় হয়, তা বৈজ্ঞানিক সত্য। আবার চাঁদের এই ক্ষয় এবং বৃদ্ধির সূত্রেই পরিচালিত হয় হিন্দু পঞ্জিকা। সেই দিক থেকে ভারতীয় জনজীবনে পূর্ণিমা তিথিটি যেমন শুভপ্রদ বলে বিবেচিত হয়, তেমনই রয়েছে অমাবস্যা তিথিরও সমান গুরুত্ব। এর মধ্যে ভৌমবতী অমাবস্যা তিথিটিকে গণ্য করতে হবে একটু বিশেষ দিক থেকে।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে আমাদের প্রত্যেকের উপরেই নবগ্রহের শুভ এবং অশুভ প্রভাব বর্ষিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে মঙ্গল গ্রহের ভূমিকা একটু বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। মঙ্গল গ্রহের আরেক নাম ভৌম, কেন না তিনি ভূমি বা পৃথিবীর সন্তান। বলা হয় যে বিষ্ণু যখন বরাহ রূপে পৃথিবীকে সাগরতল থেকে উদ্ধার করেছিলেন, সেই সময়ে তাঁদের রমণে জন্ম নেন ভৌম বা মঙ্গল। এই ভৌমবারেই যে অমাবস্যা তিথি পড়ে, তা ভৌমবতী অমাবস্যা নামে সুপরিচিত।

ভারতীয় শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথি সাধারণত পিতৃঋণ পরিশোধের জন্য মঙ্গলদায়ক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এই অমাবস্যা তিথিই শ্রাদ্ধকর্ম সম্পাদনের জন্য হিন্দু শাস্ত্রে সর্বাপেক্ষা শুভ বলে বিবেচিত হয়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন যে শারদীয়া দুর্গাপজার আগে পিতৃপক্ষ বা শ্রাদ্ধপক্ষ কৃষ্ণপক্ষেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আর এই সব কৃষ্ণপক্ষের তিথি বা অমাবস্যা তিথির মধ্যে পিতৃতর্পণের জন্য ভৌমবতী অমাবস্যা প্রসিদ্ধ। এই দিনে যে ব্যক্তি পিতৃপুরুষকে জলদান করেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা অক্ষয় স্বর্গ প্রাপ্ত হন বলে মনে করা হয়, সেই সঙ্গে ওই ব্যক্তিও লাভ করেন মোক্ষ।

এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলকে ঋণহর্তা নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি আমাদের জীবন থেকে যাবতীয় ঋণের বোঝা দূর করেন, পরিণামে আমাদের কখনই অর্থকষ্টে পড়তে হয় না। তাই বলা হয় যে ভৌমবতী অমাবস্যার দিনে ব্রাহ্মণকে সামান্যতম দানও ঋণ থেকে মুক্তি দেয়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী ভৌমবতী অমাবস্যা শুরু হয়েছে ১০ মে রাত ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে, শেষ হবে ১২ মে রাত ১২টা ২৯ মিনিটে। সেই মতো আজকের পুরো দিনটিই যাঁরা ব্রত পালন করতে চান, উপবাস এবং সংযমে থাকতে পারেন। দিনের যে কোনও সময়ে পিতৃপুরুষকে জলদান করতে পারেন, ব্রাহ্মণকে দান করতে পারেন সাধ্যমতো। এছাড়া ঋণকষ্ট থেকে মুক্তির জন্য এই দিন মঙ্গল ঋণহর্তা স্তোত্র পাঠ এবং শ্রবণ বিশেষ ফলদায়ী; অনেকে এই স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণের পরে নবগ্রহ শান্তি হবনেরও আয়োজন করে থাকেন।

Published by:Simli Raha
First published: