এবারের দোলে রাঙিয়ে নিন ভেষজ রঙে, ভেষজ আবির বিক্রি করে জীবনকে রঙিন করছেন এই মহিলারা

এবারের দোলে রাঙিয়ে নিন ভেষজ রঙে, ভেষজ আবির বিক্রি করে জীবনকে রঙিন করছেন এই মহিলারা

২০২০ সাল থেকে ভেষজ আবির তৈরির যাত্রা শুরু হয়।

২০২০ সাল থেকে ভেষজ আবির তৈরির যাত্রা শুরু হয়।

  • Share this:

#চোপড়া:  দোলের কেমিক্যাল রঙের ভয় পান৷ সকলকে বিপন্মুক্ত  রাখতে ভেষজ আবির তৈরি করে লাভের মুখ দেখছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ধন্দুগছ শক্তি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। আগামীতে তারা আরও বড় ধরনের প্রকল্প  নিয়ে এগোনোর পরিকল্পনা করেছেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের ধন্দুগছ শক্তি স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠী সারা বছর বিভিন্ন জাতের মাশরুম চাষ করে অর্থ উপার্জন করে থাকেন।মহিলা স্বনির্ভর গোষ্টীর ৮/১০ জন মহিলা এই কাজে যুক্ত থাকেন।  প্রতিবছর চৈত্র মাসে দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাজারে কম দামে রাসায়নিক রঙ বিক্রি হয়। এই রঙ ব্যবহার করে মানুষের চামড়ার ব্যপক ক্ষতি হয়।চোখে রাসায়নিক আবির গেলে চোখের সমস্যা দেখা দেয়, এছাড়াও পেটের অসুখ দেখা দেয়। দোল খেলার সময় এই ধরনের সমস্যা তাদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য অনিমা মজুমদার, শিমতি বিশ্বাস এবং সোমা মণ্ডল দাস -রা ভেষজ আবির তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে ভেষজ আবীর তৈরির প্রশিক্ষন নেন।

২০২০ সাল থেকে ভেষজ আবির তৈরির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বছর  দেড় কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করেছিলেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতরে গিয়ে সেই আবির বিক্রি করেন।

আবীর প্রস্তুতকারি মহিলা গোষ্ঠী সূত্রে জানা গেছে, গাঁদা ফুল, হলুদ, বিট,গোলাপ,পলাশ সহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে এই আবির তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের আবির ব্যবহারে চামড়া,চোখ বা শরীরে কোন রকম ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে না। দুই বছর ধরে দোল আসলেই ভেষজ আবির তৈরি ব্যস্ত হন। নিজের এলাকা তো বটেই  ইসলামপুর, বিধাননগর,শিলিগুড়ি ও কোচবিহার পর্যন্ত  তাদের তৈরি আবির পৌঁছে যাচ্ছে। গুনগত মান ভাল হওয়ায় চলতি বছরে  তাদের কাছে গত বছর চাইতে এবারে ৫০ কেজির বেশি অর্ডার আসছে। ফলে নাওয়াখাওয়া ভুলে এখন এই ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত ধন্দুগছ শক্তি স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠী। দলনেত্রী অনিমা মজুমদার বলেন, ‘‘গতবছর দেড় কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করা হয়েছিল।গুনগত মান ভাল হওয়ায় এবার আরও ৫০ কেজি বেশি পরিমাণ আবির তৈরির বরাত পেয়েছি।’’ ১০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত প্যাকেটে এই আবির বাজারে বিক্রি করা হয়।

 Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published: