কান ঝালাপালা হলেও ‘হুইসল’ বাজিয়েই সভা সরগরম হরকার

কান ঝালাপালা হলেও ‘হুইসল’ বাজিয়েই সভা সরগরম হরকার

পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করাটা এমনিতেই বেশ ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার ৷ দার্জিলিংয়ের কাজ শেষ করে সবে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছি ৷ গাড়িতে চোখে একটু ঘুম ঘুম আসাটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু কিছুদূর যেতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে ঘুমের একেবারে দফারফা ৷

  • Share this:

#কালিম্পং:  পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করাটা এমনিতেই বেশ ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার ৷ দার্জিলিংয়ের কাজ শেষ করে সবে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছি ৷  গাড়িতে চোখে একটু ঘুম ঘুম আসাটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু কিছুদূর যেতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে ঘুমের একেবারে দফারফা ৷ মাঝবয়সী এবং বৃদ্ধ মিলে একদল মানুষ বাঁশি বাজাতে বাজাতে রাস্তায় হাঁটছেন ! মনে মনে ভাবলাম এই বুড়ো বয়সে এদের আবার হঠাৎ ‘সিটি’ মারার শখ হল কেন ! উত্তরটা পাওয়া গেল ঘণ্টা দু’য়েক পরেই ৷ কালিম্পং শহর পৌঁছতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে কান একেবারে ঝালাপালা হওয়ার জোগাড় ৷ সেখানে চলছিল জন আন্দোলন পার্টির প্রচার সভা ৷ যার প্রধান বক্তা অবশ্যই দলের প্রধান হরকা বাহাদুর ছেত্রী ৷ হঠাৎ চোখ পড়ল একটা সাইন বোর্ডে ৷ যেখানে লেখা ‘হামরো চিহ্ন হুইসল’ ৷ মোর্চা ছেড়ে নিজের দল ‘জন আন্দোলন পার্টি’ গড়ে কালিম্পংয়ের বিদায়ী বিধায়ক হরকার দলের প্রতীক এখন হুইসল ৷ ভোট প্রচারে অভিনবত্ব আনতে হাজার হাজার হুইসল কিনে সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ধূর্ত এই রাজনীতিবিদ ৷ এরফলে একদিকে যেমন মোর্চার উপর চাপ বেড়েছে ৷ তেমনি ভোটাররাও এখন সকলেই জানেন হরকা বাহাদুরের দলের প্রতীক কী ৷ ভোট রাজনীতিতে যখন প্রচারটাই প্রথম কাজ, তখন সেকাজে প্রথম রাউন্ডে অন্তত সফল হরকা ৷IMG_3222

কিন্তু এত কিছু করেও গুরুংকে পাহাড়ছাড়া করতে আত্মবিশ্বাসী নন জাপেরই দলের কর্মীরা ৷ বাঁশি বাজিয়ে হরকার নেপালি বক্তৃতা হয়তো সকলেই খুব উপভোগ করছেন ৷ কিন্তু পাহাড়বাসীর মনে যে এখনও হরকার বাহাদুরের দল নিয়ে খুব একটা আস্থা নেই , সেটা তাদের মুখগুলো দেখলেই স্পষ্ট ৷ ভিড়ের মধ্যে জাপের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে একজন তো বলেই ফেললেন, ‘‘ নির্বাচনে এবার যে কী হবে বুঝতে পারছি না ৷ হরকা বেশ সাড়া ফেলেছেন ঠিকই ৷ কিন্তু বিমল গুরুংকে হারানো কী আর এত সহজ কাজ !’’ ভোটের সভায় মানুষেরা ভিড় জমালেও কালিম্পংয়ের মানুষ যে ঠিক কী চায়, সেটা বোঝা মুস্কিল ৷ কারণ নির্বাচনে কে জিততে পারে, এই প্রশ্ন করলেই সব ছুটে পালাচ্ছে যে ৷ দলের নেতারা অবশ্য জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ৷ জাপের অন্যতম প্রধান নেতা অমর লামার মতে, ‘‘ গতবার হরকা মোট ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ৷ জিতেছিলেন এক লক্ষেরও বেশি ভোটে ৷ এবার আর কত ভোট কমবে বলুন ? দেখবেন হরকা জেতার পর পাহাড় থেকে মোর্চা মুছে গিয়েছে ৷’’

IMG_3199

 প্রচারসভায় হরকা নিজে কী করছেন ? একদিনের সভা দেখে যা মনে হল, তাতে সেন্টিমেন্টাল রাজনীতির পথে না হেঁটে প্র্যাকটিল পলিটিক্সকেই নির্বাচনে জেতার হাতিয়ার করেছেন তিনি ৷ কালিম্পং ইতিমধ্যেই পেয়েছে আলাদা জেলার মর্যাদা ৷ এবার ক্ষমতায় এলে এই জেলা গঠনের কাজ পুরোদমে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন জাপ প্রধান ৷ যা তরুণ সমাজের জন্য যথেষ্ট আশার খবর ৷ শোনা যাচ্ছে কালিম্পং পুরসভার ৭-৮ জন কাউন্সিলার ইতিমধ্যেই হরকার সমর্থনে চলে এসেছেন ৷ কিন্তু এত সব করেও চিঁড়ে কী ভিজবে ? উত্তর জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ৷

First published: 07:33:03 PM Apr 14, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com