বাঙালির হেঁসেলে অমিল, নিয়মের ফাঁসে সীমান্তে পচছে টনটন পেঁয়াজ

বাঙালির হেঁসেলে অমিল, নিয়মের ফাঁসে সীমান্তে পচছে টনটন পেঁয়াজ
পেঁয়াজ আছে অথচ নেওয়ার লোক নাই।

বাঙালির বাজারের বাস্তব চিত্র যখন এমন, ঠিক সেই সময় উল্টো ছবি মালদহ সীমান্তে। পেঁয়াজ আছে অথচ নেওয়ার লোক নাই।

  • Share this:

ARNAB HAZRA #মালদহ: জোগান কম, চাহিদা বেশি। নিটফল হুশহুশ দামবৃদ্ধি। পেঁয়াজের আকাল মিটতেই চাইছে না। পেঁয়াজের নয়া "নভেম্বরবিপ্লব" দেখেছে বাঙালি। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এখন ডাবল সেঞ্চুরির পথে পেঁয়াজ। তাই মাঝ ডিসেম্বর পেরিয়েও বাঙালির পেঁয়াজ ক্ষত এখনো দগদগে। "সুফল" বাংলা'র ৫৯ টাকার ঝোড়ো ইনিংসেও আস্কিং রেট আটকানো যায়নি। ফলতঃ পেঁয়াজ দাম আম-আদমির ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও নতুন মরসুমে ওঠা কালো পেঁয়াজ কিছুটা লড়াই দিচ্ছে "পাত-যুদ্ধে"। বাঙালির বাজারের বাস্তব চিত্র যখন এমন, ঠিক সেই সময় উল্টো ছবি মালদহ সীমান্তে।

পেঁয়াজ আছে অথচ নেওয়ার লোক নাই। না কাঁটাতারের এপারে না ওপারে। শুল্ক দফতরের ঘেরাটোপে "বন্দী" হয়ে পড়ে রয়েছে পেঁয়াজ ট্রাকের মধ্যে। বৈষ্ণবনগরে'র মহদীপুর সীমান্তে ৩৫ টন পেঁয়াজ এখন পচতে বসেছে। ৯ ডিসেম্বর থেকে সেখানেই ট্রাক বন্দি হয়ে রয়েছে ৩৫ টন, মানে ৩৫০ কুইন্ট্যাল পেঁয়াজ। বাংলাদেশে রফতানি'র আগেই তাকে আটকেছে শুল্ক দফতর। সরবরাহকারী সংস্থার কর্ণধার রেনিল টি.পি. বলছেন, " ১৯ অক্টোবর ভারত সরকার ৭০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়। সেইমতো ৩৫ মেট্রিকটন পেঁয়াজ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রফতানি করা হয়েছে। বাকি ৩৫ টন রফতানির সময় শুল্ক দপ্তর আটকে দিয়েছে।" কেন? তাঁর আইনজীবী শমীক চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, "ট্রাক বন্দী অবস্থায় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকতে পারে। ৯ডিসেম্বর থেকে সীমান্তে আটকে পেঁয়াজের ট্রাক। চার বা পাঁচ দিন-এর মধ্যে পেঁয়াজ বার করতে না পারলে সবটাই নষ্ট হয়ে যাবে।" তিনি আরও জানাচ্ছেন, "দেশে পেঁয়াজের আকালের সময়ে ভারত সরকার সমস্ত রফতানিকারক সংস্থার কাছে অনুরোধ রাখে বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি না করার জন্য। ৯ ডিসেম্বর শুল্ক দফতরের কাছে সেই নির্দেশিকা এসে পৌঁছোয়। তাই পেঁয়াজ ট্রাক আটকে দেওয়া।" সংস্থার আরও এক আইনজীবী অমরেন্দ্র চক্রবর্তী জানাচ্ছেন,"বাংলাদেশের একই সীমান্ত দিয়ে ৫৮ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে ৯ ডিসেম্বর আগেই। তাহলে এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন হবে।" কেরালা'র রফতানিকারী সংস্থাটি ৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে যাচ্ছে। একদিকে বাজারে অমিল পেঁয়াজ। অন্যদিকে থেকেও নেই পেঁয়াজ। আদালতে পেঁয়াজ-এর লড়াই হয়তো হবে। কোনওপক্ষ নিজেদের পক্ষে নির্দেশও পাবে। ততদিনে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে না তো? প্রশ্ন তোলে পেঁয়াজউপসী শূন্য পাত। তুলবে নাই বা কেনও! বাঙালি পাতে পেঁয়াজের যে বড়ই অভাব।

First published: December 18, 2019, 9:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर