করোনায় কালিম্পঙে মৃত ১, আক্রান্ত ১০, আতঙ্কে পাহাড়বাসী

দফায় দফায় বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে। তিনটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দফায় দফায় বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে। তিনটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

  • Share this:

করোনায় আক্রান্ত এক মহিলার মৃত্যুর পর পাহাড়ে আতঙ্ক বাড়ছে। কালিম্পংয়ের ওই মহিলা চেন্নাই থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে কালিম্পং এবং পরে শিলিগুড়িতে দফায় দফায় চিকিৎসক দেখান। পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের Covid 19 স্ক্রিনিং সেন্টারে দেখানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তির পরামর্শ দেন। ভর্তির তিন দিনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে তাঁর। তারপর দিনেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।

তার মৃত্যুর পর কে বা কার সংস্পর্শে ছিল তা দ্রুত বের করেন জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। দ্রুত গৃহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তার সংস্পর্শে আসা আত্মীয় পরিজন, গাড়ির চালক, ল্যাবের দুই কর্মী, পরিচারিকা সহ অন্যদের। তার স্বামী, মেয়ে সহ বেশ কয়েকজনেরও করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। তাঁদেরকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের কোভিড পজিটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আইশোলেশন এবং গৃহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে গাড়ির চালক এবং দুই ল্যাব কর্মীর লালারসের নমুনা নেগেটিভ এসেছে। এদিকে করোনায় এক জনের মৃত্যু এবং তাঁর সংস্পর্শে আসা ১০ জনের পজিটিভ হওয়ায় আতঙ্কিত কালিম্পংবাসী। ঘরবন্দি পাহাড়বাসী। আতঙ্ক কাটাতে আজ থেকেই কালিম্পংয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন গোর্খাল্যাণ্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) চেয়ারম্যান অনীত থাপা।

দফায় দফায় বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে। তিনটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চাপ বাড়ায় আরো একটি কোয়ারেন্টান সেন্টার খোলা হচ্ছে। জানিয়েছেন জিটিএ'র চেয়ারম্যান। কালিম্পং হাসপাতালের পাশে ৪০ বেডের এই নতুন সেন্টার চালু করা হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। তিনি জানান, সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মৃত মহিলার সংস্পর্শকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

সকলেরই সোয়াবের নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে মেডিকেলের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হবে। তবে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ প্রশাসনের। সতর্কতা হিসেবে গৃহ বন্দী থাকবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর প্রয়োজনে বাইরে বের হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। তবু যেন করোনা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রতি মূহূর্তে।

Published by:Arindam Gupta
First published: