বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিচ্ছে রাজ্য! তৃণমূলকে সমর্থনের পুরস্কার, কটাক্ষ বিরোধীদের

বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিচ্ছে রাজ্য! তৃণমূলকে সমর্থনের পুরস্কার, কটাক্ষ বিরোধীদের
বিমল গুরুং৷ Phioto-File

২০১৭ সালে পাহাড়জুড়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনে নামে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: নির্বাচনের আগে কি তাঁর বিরুদ্ধে চলতে থাকা সমস্ত মামলা থেকে মুক্ত হচ্ছেন বিমল গুরুং? রাজ্যের আইন দপ্তর ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেই খবর। সেই সরকারি নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে দার্জিলিনহ, কার্শিয়ং এবং কালিম্পং আদালতের সরকারি আইনজীবীদের হাতে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফের পাহাড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

২০১৭ সালে পাহাড়জুড়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনে নামে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে পাহাড়ের সর্বত্র বেপরোয়াভাবে ভাঙচুর করা হয় সরকারি সম্পত্তি। পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি দপ্তরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এক পুলিশ অফিসারকে 'খুন' করার অভিযোগ ওঠে গুরুংদের বিরুদ্ধে। শতাধিক মামলা রুজু করা হয় বিমল গুরুং, রোশন গিরি সহ মোর্চার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়। পাশাপাশি ইউএপিএ ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়। বহু বিমল অনুগামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গা ঢাকা দেন গুরুং, রোশন গিরিরা। পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে পাহাড় ছাড়া হন তাঁরা। সেই সময বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক।

সাড়ে ৩ বছর আত্মগোপন করে থাকলেও মাঝে মধ্যেই প্রকাশ্যে আসতো গুরুংয়ের ভিডিও এবং অডিও বার্তা। সাড়ে তিন বছর পর পুজোর আগে কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করেন সপার্ষদ বিমল গুরুং। ওই দিনই কলকাতায় তিনি ঘোষণা করেন, আর বিজেপির সঙ্গে নয়, আসন্ন একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলের সঙ্গেই জোট গড়ে লড়বেন। সেই পথেই চলছেন তিনি। ভোটের দিন এগিয়ে আসতেই সেই গুরুংদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা প্রত্যাহার করে নিতে চলেছে রাজ্য৷ সেইমতো নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। যা শীঘ্রই এসে পৌঁছবে পাহাড়ের বিভিন্ন আদালতের সরকারি আইনজীবীদের হাতে। তার পরই তাঁরা তা পেশ করবেন আদালতে।


রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি বিমল গুরুং৷ এই খবর পাওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি৷

গুরুংদের বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন বাম এবং বিজেপি সহ পাহাড়ের বিরোধীরা। যদিও একে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। বিষয়টি আইন দফতরের এক্তিয়ারভুক্ত বলে মন্তব্য এড়িয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই মামলা হয়েছিল। এবার তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে তাঁর নির্দেশেই।

সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের দাবি, তৃণমূলকে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়াতেই গুরুংয়ের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে৷ তাঁর কটাক্ষ, 'এই সিদ্ধান্তেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখোশ খুলে গিয়েছে৷ '

Partha Pratim Sarkar

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

লেটেস্ট খবর