পিরিয়ডসের সময়ে সরস্বতীর পুজো করেছিলেন, এবার বিয়ে সম্প্রদানে ঊষসীর ডাক

পিরিয়ডসের সময়ে সরস্বতীর পুজো করেছিলেন, এবার বিয়ে সম্প্রদানে ঊষসীর ডাক

রায়গঞ্জের মেয়ে ঊষসী চক্রবর্তী।

সামনে শিবরাত্রি, সেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন রায়গঞ্জ উকিলপাড়ার বাসিন্দা ঊষসী চক্রবর্তী।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: ঋতুমতী অবস্থায় সরস্বতী পুজো করে ভাইরাল হয়েছিলেন।  এবার তাঁর ডাক পড়ল বিয়ের সম্প্রদানে। যদিও বিয়ের মন্ত্র এখনও ধাতস্ত না হওয়ায় বিয়ে সম্প্রদানের আবেদন ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তবে আগামীতে বিয়ের সম্প্রদানে বসবার পরিকল্পনা আছে ঊষসীর। তাছাড়া সামনে শিবরাত্রি, সেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন রায়গঞ্জ উকিলপাড়ার বাসিন্দা ঊষসী চক্রবর্তী।

ঋতুমতী মেয়েরা পুজোর ঘরে ঢুকবে না, পুজোর জিনিস ছোঁবে না এমনটাই লোকাচার। এই সময়ে মেয়েরা নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে রাখেন। এই প্রথাকেই চ্যালেঞ্জ করে সরস্বতী পুজোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন ঊষসী। রায়গঞ্জ উকিলপাড়ার বাসিন্দা চন্দন চক্রবর্তীর মেয়ে উষসী ছোটবেলা থেকে বাড়ির মেয়েদের সমাজের এই প্রথাগত নিয়ম দেখেছেন। সমাজের এই প্রথাগত নিয়ম থাকলেও এটা মেনে নিতে পারেননি।বয়স কম থাকায়  প্রতিবাদের রাস্তায় হাঁটেননি।তবে সমাজের এই কুসস্কার ভেঙে দেবার জন্য কাঁচা মনের মধ্যে বাসনাটা তৈরি হয়েছিল ষোলআনা।

প্রাকৃতিক নিয়মে তারপর ঋতুমতী হল সেও। বাড়ির মা জেঠিমাদের যে নিয়ম পালন করতে হয়েছে তার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম পালন করা শুরু হল। বাবার যজমানবৃত্তি সে চাক্ষুস করেছে।  লক্ষ্মী, সরস্বতী পুজোতে যজমানদের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। উচ্চশিক্ষার জন্য ঊষসী অবশ্য কলকাতায় চলে যায়।কলকাতার কাছে দমদমে একটি ফ্ল্যাটে সঙ্গীতা পালকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন। দুই বছর আগে লক্ষ্মীপুজোর আগে সে মনে মনে ভেবে নিয়েছিল কোনও যজমানকে না ডেকে নিজেই লক্ষ্মীপুজো করবেন। পুজোর দিন প্রকৃতিক নিয়মে সে ঋতুমতী হয়ে পড়ে। তখনই সেই অবস্থায় লক্ষ্মীপুজো করতে চাইলেও আত্মীয়স্বজনরা তাকে সায় দেননি।

এ দিকে দিন যতই গড়িয়েছে মনের জেদ আরও বেড়েছে। এবারে নিজেই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে  সরস্বতী পূজা করার পরিকল্পনা নেন। বাবা চন্দন চক্রবর্তী তাঁকে ভিডিও কলের মাধ্যমে শরীর শুদ্ধিকরণ করা,সরস্বতী প্রতিমার চক্ষুদান এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। পূজার একদিন আগেই ঊষসীর পিরিয়ডস শুরু হয়। তবে এবার ঘরের সরস্বতী পুজো থেকে পিছিয়ে আসতে রাজি হননি তিনি। দ্বিতীয় দিনেই সমস্ত ধরনের কুসংস্কার ভেঙে দিয়ে সরস্বতী পুজো করেন। এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হবার পরই ভাইরাল হয়ে যায়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের সম্প্রদান করার জন্য আমন্ত্রন আসতে থাকে। আগামী ১ মার্চ কলকাতার মধ্যমগ্রাম থেকে বিয়ে সম্প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ পান। হাতে খুব কম সময় থাকায় সেই আবেদন তিনি প্রত্যাখান করেন। এছাড়া আরও দুই জায়গা থেকে বিয়ের পুরোহিতের জন্য তার আমন্ত্রণ আছে।তবে সেগুলো দিন তারিখ এখনও ঠিক হয়নি বলে ঊষসী জানিয়েছেন।  আপাতত আগামী শিবরাত্রি নিয়েই তাঁর মাথাব্যথা।

কলকাতা টেলিফোনে ঊষসী জানিয়েছেন, সমাজে দীর্ঘদিনের যে কুসংস্কার তা ভাঙতে পেরে ভাল লাগছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তার এই সিদ্ধান্ত অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে সমাজের একটা বড় অংশ সমর্থন জানিয়েছেন। সেই জায়গা থেকেই তাকে বিয়ের পুরোহিত হিসেবে ডাক আসছে।

Published by:Arka Deb
First published:

লেটেস্ট খবর