Home /News /north-bengal /
অকালবৃষ্টিতে আলু চাষে ক্ষতি, মালদহে ক্ষতির মুখে আলুচাষীরা

অকালবৃষ্টিতে আলু চাষে ক্ষতি, মালদহে ক্ষতির মুখে আলুচাষীরা

জল থেকে তোলা আলু, জলের দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের

  • Share this:

#মালদহ: অকাল বৃষ্টিতে মালদহে আলু চাষে ক্ষতির পরিমান ২০০ কোটি টাকা ছাড়াতে চলেছে। কৃষি দপ্তরের পাঠানো প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ হাজার হেক্টর জমির আলু চাষ। এদিকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে জলে ডুবে থাকা জমি থেকে অপরিনত আলু তুলে লোকসান কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা। তবে জল থেকে তোলা আলু, জলের দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সরকারি সাহায্যের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর আসন্ন মালদহ সফরের সময় অবস্থানে বসার কথা ভাবছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। মালদহে আলু চাষের প্রধান এলাকা পুরাতন মালদহ ব্লক। গত মঙ্গলবার বেশী রাতে একনাগাড়ে কয়েক ঘন্টা শিলাবৃষ্টির জেরে জলে তলায় চলে গিয়েছে হেক্টরের পর হেক্টর কৃষি জমি। ৩ দিন কেটে গেলেও জমির জমা জল বের করা যায়নি। এই অবস্থায় পরিবার শুদ্ধ হাঁটু জলে নেমেই আলু তোলার মরিয়া চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। কৃষকদের একটা বড় অংশ সরকারি ও বেসরকারি ঋন নিয়ে আলু চাষ করায় এখন কয়েক হাজার চাষীর মাথায় হাত। জলে ডুবে থাকায় জমিতেই আলু পঁচে নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করেছে। শুক্রবারও পুরাতন মালদহের মহিষবাথানী ও ভাবুক পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক গ্রামে গিয়ে দেখা গিয়েছে বৃষ্টির জলে ডুবে রয়েছে আলুর জমি। আর সেই জমি থেকেই জল-কাঁদার মধ্যে থেকে আলু তুলছেন চাষীরা। এদিকে চাষীদের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে এক শ্রেনীর পাইকার জমিতেই জলের দরে আলু কিনছেন। বাজারে যেখনে আ্রলুর দর কুইন্টাল প্রতি ১৬০০ টাকা। সেখানে পাইকাররা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কুইন্টাল হিসেবে দাম দিচ্ছেন। এতে লাভ দূরের কথা চাষের খরচও অর্ধেক উঠছে না। অথচ নিরুপায় হয়ে ফঁড়েদের কাছে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারি সাহায্য না পেলে পথে বসতে হবে বলে আশঙ্কা আলু চাষীদের। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে আর্থিক সাহায্যের আর্জি জানানোর পাশাপাশি আগামী মাসের গোড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মালদহ জেলা সফরে এলে অবস্থানে বসার পরিকল্পনা নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষীরা। মালদহের উপ কৃষিঅধিকর্তা অশোক কুমার মহান্তী জানিয়েছেন, পুরাতন মালদহে প্রায় ২৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। এরমধ্যে অন্ততঃ ২৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই আগামী দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নামের তালিকা তৈরী করা হবে। এছাড়া আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্টও তৈরী হয়ে যাবে। এরপরেই রাজ্যের কাছে ক্ষতিপূরনের প্রস্তাব পাঠানো হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমান কয়েক শো কোটি টাকা।

Sebak DebSarma

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

Tags: Potato, Rainfall

পরবর্তী খবর