• Home
  • »
  • News
  • »
  • north-bengal
  • »
  • ইউনিয়ন আছে, কিন্তু আর ভরসা নেই চা শ্রমিকদের

ইউনিয়ন আছে, কিন্তু আর ভরসা নেই চা শ্রমিকদের

ছবি: সিদ্ধার্থ সরকার

ছবি: সিদ্ধার্থ সরকার

  • Share this:

    #লাটাগুড়ি: 'ইউনিয়ন তো প্রতিবারই ভোটের মুখে অনেক কথা বলে৷ কিছু হয় কি? এত খাটার পরেও মালিকদের অকথ্য গালাগালি জোটে৷' এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে গেলেন অরেঞ্জ টি এস্টেটের চা শ্রমিক রিনা মুণ্ডা৷ চোখে-মুখে রাগ৷ চুম্বকে এটাই চা শ্রমিকদের মূল বক্তব্য৷ কিন্তু জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে চা বলয়ের ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে৷ মোট ভোটারের ৭৫ শতাংশই চা বলয়ের মধ্যে পড়ে৷

    শ্রমিকদের দাবিদাওয়ার জন্য লড়াই করার সংগঠন কম নেই৷ তবু যেন সমস্যাটা এক প্রকার 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ যার নির্যাস, শ্রমিক সংগঠনগুলির উপর আস্থা চলে যাচ্ছে চা শ্রমিকদের৷ কর্মসংস্থানের সুযোগ না-থাকায়, চা শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েরা কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে৷ বাড়ছে নারী পাচারও৷ দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে একদল নারী পাচারকারী রমরমিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছে চা বাগান সংলগ্ন এলাকাগুলিতে৷ চা শ্রমিকদের মেয়েদের পাচার করে দিচ্ছে৷

    WhatsApp Image 2019-04-17 at 4.17.26 PMডামডিম চা বাগানের শ্রমিক নির্মলা ঠাকুরের কথায়, 'বছরে ৬ মাস কাজ জোটে৷ ওই সময়টাতেই যা আয়৷ তাও আবার এরকম মজুরি৷ বাকি সময় যে কষ্ট, তা আমরাই জানি৷ আমাদের বাড়ি নেই৷ ছেলে-মেয়েদের পড়াতে পারছি না৷'

    জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে চা বলয়ে আদিবাসী বিকাশ পরিষদ, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, সিটু-র চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন, আইএনটিউসি অনুমদিত ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স, তৃণমূল কংগ্রেসের তরাই-ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শাখাও রয়েছে বিভিন্ন বাগানে৷

    WhatsApp Image 2019-04-17 at 4.02.08 PM

    চা শ্রমিক অমৃতা বান্দা বলছেন, 'কোন ইউনিয়ন আমাদের দাবি মেটাবে জানি না৷ সবাই বলে, আমাদের ভোট দাও, তোমাদের মজুরি বাড়বে৷ বাড়ে না৷ মালিকরা যখনতখন গালিগালাজ করে৷ মজুরি চাইলে, বলে কাজ করতে হবে না৷'

    বস্তুত, ইউনিয়ন আছে৷ 'লড়াই করে বাঁচতে চাই' স্লোগান আছে৷ শুধু চা শ্রমিকরাই ভালো নেই৷

    First published: