আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণ, রেহাই পেল না বোনও! মেয়েদের উপর নির্যাতনের খবর শুনে মৃত্যু মায়ের

ঘটনায় ধৃত এক যুবক। আরও চার যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনায় ধৃত এক যুবক। আরও চার যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

  • Share this:

#মালদহ:

মালদহে আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণ। যৌন হেনস্তার শিকার ধর্ষিতার বোনও। এদিকে, দুই মেয়ের উপর নির্যাতনের খবর জানার পর আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু মায়ের। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। দুই মেয়েও মায়ের এমন মৃত্যুশোকে যেন পাথর!  মালদহের হবিবপুরের মঙ্গলপুরা পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। ঘটনায় ধৃত এক যুবক। আরও চার যুবকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে বুধবার এলাকায় যান মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে গ্রামেই একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন দুই বোন। রাত এগারোটা নাগাদ জনা পাঁচেক যুবক তাঁদের পথ আটকায়। রাস্তার ধারে টেনে নিয়ে গিয়ে বড় বোনকে দুই যুবক  গণধর্ষণ করে। অন্য কয়েকজন যুবক বছর ষোলোর নাবালিকা বোনকে দূরে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে কুপ্রস্তাব ও পরে যৌন হেনস্থা করে। গণধর্ষণের শিকার বড় বোন  অসুস্থ অবস্থায় নিজেই বাড়িতে ফেরেন। তাঁর কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন ছোট বোনকে খুঁজতে বেরোয়। সেই সময় অভিযুক্ত একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামের লোকজন। বাকি দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

গণধর্ষণের ঘটনায় শৈলেন সোরেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবক নিজেও বিবাহিত। বাকি চারজনকেও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের যুবক। তাদেরও খোঁজ চলছে। ধর্ষণের খবর পেয়ে এদিন এলাকায় পৌঁছন হবিবপুর থানার আধিকারিকরা। এরপর এলাকায় যান মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। এলাকায় পৌঁছে নির্যাতিতা দুই বোন এবং তাঁদের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মালদহের পুলিশ সুপার। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে পুলিশ আধিকারিকরা ফেরার পর দুপুর নাগাদ আচমকা অসুস্থ বোধ করেন নির্যাতিতা দুই বোনের মা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাঁকে নিয়ে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেয়। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। মায়ের মৃতদেহের সামনে মালদা মেডিকেল কলেজে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই আদিবাসী বোন।

Published by:Suman Majumder
First published: