করোনায় ১০ দিনে একই পরিবারের তিন জনের শোচনীয় মৃত্যু, পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা

পরিবারের রোজগেরে তিন সদস্যের মৃত্যুতে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কী ভাবে সংসার চালাবেন ভেবে কুল করতে পারছেন না সুব্রতবাবুর স্ত্রী ঝুমা ঘোষ।

পরিবারের রোজগেরে তিন সদস্যের মৃত্যুতে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কী ভাবে সংসার চালাবেন ভেবে কুল করতে পারছেন না সুব্রতবাবুর স্ত্রী ঝুমা ঘোষ।

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিনে একই পরিবারে তিন জনের মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার। এক মেয়েকে নিয়ে কোনও ক্রমে দিন কাটাচ্ছে গৃহবধূ ঝুমা দেবী। আশার কথা পরিবারের তিন সদস্য করোনায় মৃত্যু হলেও স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা সুস্থ আছেন। তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে কাজের আবেদন জানিয়েছেন। তবে করোনা সংক্রামণের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাধারন মানুষকে আরও বেশী সতর্ক হওয়ার জন্য ঝুমাদেবী  আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ দেবীনগরের বাসিন্দা বিমল ঘোষ, স্ত্রী অমিতা ঘোষ এবং ছেলে সুব্রত ঘোষ গত ১০ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বিমলবাবু রায়গঞ্জ রেজিষ্ট্রি অফিসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন। বিমলবাবু রেজিষ্ট্রি অফিসে ভেন্ডারের কাজে যুক্ত ছিলেন। বয়সের ভারে বিমলবাবু এবং তাঁর স্ত্রী অমিতা ঘোষ অসুস্থ ছিলেন। ছেলে সুব্রত ঘোষের বয়স ৪৮ হলেও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। এই তিনজনই এই মারণ করোনা রোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে ছেলে সুব্রতবাবুর মৃত্যু হয়। সাতদিন বাদে সুব্রতবাবু বাবা বিমল ঘোষের মৃত্যু হয়। তার তিনদিন বাদে সুব্রতবাবুর মা অমিতাদেবীর মৃত্যু হয়। গত দশদিনে একই পরিবারে তিন সদস্যের মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবারের সদস্যা, সুব্রতবাবুর স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা।

তবে আশার কথা তাঁদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দু’জনেরই নেগেটিভ এসেছে। পরিবারের রোজগেরে তিন সদস্যের মৃত্যুতে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কী ভাবে সংসার চালাবেন ভেবে কুল করতে পারছেন না সুব্রতবাবুর স্ত্রী ঝুমা ঘোষ। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হয়েছেন। রায়গঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার জানান, পরিবারের সদস্যরা দেবীনগর দীপালী উৎসবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। দীপালী উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে বিমলবাবুকে সর্ম্বধনাও দেওয়া হয়েছিল। ঝুমা দেবী তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী। ঘটনার কথা তিনি পৌরপতি সন্দীপ বিশ্বাসের নজরে এনেছেন। লকডাউন উঠে গেলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরেও আনবেন। পরিবারটি যাতে সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারেন তার জন্য তিনি সবরকম উদ্যোগ গ্রহণ করার  আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়াও এলাকায় খুব পরিচিত মানুষ ছিলেন ঘোষ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিমলবাবুর প্রতিবেশী উত্তম মিত্র জানান, তাঁর জীবদ্দশায় এ ধরনের একটি ঘটনার সাক্ষী থাকতে হবে তা ভাবতেও পারেননি। যা তিনি ভাবেন নি তাই ঘটে গেল। মানুষ সরকারি আদেশ মেনে না চললে এ ধরনের ঘটনার আরও মুখোমুখি হতে হবে। কারণ ভারতবর্ষের বর্তমান জনসংখ্যা ১৩০ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে বেশ কয়েকবছর সময় লাগবে। এই সময় কালে মানুষকে সতর্ক হয়ে চলেফেরা করতে হবে। নইলে মানুষকে বড়ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

Published by:Simli Raha
First published: