খেলা হবে বলে দলীয় নেতাদেরই হুংকার ছাড়লেন এই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি

মালদার সেই জনসভা। নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল কর্মীদের সভা থেকে নেতার হুঁশিয়ারি- কালিয়াচকে মাফিয়ারাজ চলবে না। না হলে খেলা দেখিয়ে দেবো । মঞ্চ থেকেই বলে যাচ্ছি ।

  • Share this:

মালদহ: খেলা হবে, খেলা দেখিয়ে দেবো, হবে খেলা। শুধরে নিন, না হলে আরও বড় আন্দোলনে নামবো। সাবধান হয়ে যান।-বিরোধীদের উদ্দেশ্যে নয়, দলীয় নেতাদেরই উদ্দেশ্য করে এমনই "হুংকার" দিলেন কালিয়াচক-১ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলেরই সভাপতি আতিউর রহমান। তৃণমূল কর্মীদের সভা থেকে নেতার হুঁশিয়ারি- কালিয়াচকে মাফিয়ারাজ চলবে না। না হলে খেলা দেখিয়ে দেবো । মঞ্চ থেকেই বলে যাচ্ছি ।

দলের নতুন ব্লক কমিটিতে স্থান না পেয়ে নিজের অনুগামীদের নিয়ে শনিবার সভা করে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন কালিয়াচক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল নেতা বলেন, কালিয়াচক ব্লকে ৯০ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ সেই কমিটিতে আমি নেই। ব্লক কমিটি, অঞ্চল কমিটি গুলিতে প্রকৃত তৃণমূল নেতা কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়নি। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, জেলা নেতৃত্ব চান না সুজাপুর বিধানসভায় তৃণমূল জিতুক। কারণ, সুজাপুর জিতলে মালদহের নেতাদের আর জায়গা থাকবে না। এদিন মালদহের কালিয়াচকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়নগর ডাঙ্গার মাঠে সভা হয়। ওই সভায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছাড়াও একাধিক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষ হাজির ছিলেন। কেন্দ্রের কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সভার কথা বলা হলেও কার্যত ব্লক কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধরা শক্তি প্রদর্শন করেন এই সভায়। সম্প্রতি, মালদহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে নতুন করে ব্লক কমিটি ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করে জেলা নেতৃত্ব।

নতুন কমিটি নিয়ে এর আগে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ হয় মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। এবার কালিয়াচকেও ব্লক কমিটি গঠন নিয়ে বিক্ষোভ ছড়ানোয় তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ল। খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এভাবে প্রকাশ্যে সরব হওয়াতে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব কার্যত প্রকাশ্যে চলে এল। যদিও এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে বিজেপি জেলা নেতৃত্তের কটাক্ষ, ভোট যত এগিয়ে আসবে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হবে।

Published by:Arka Deb
First published: