রায়গঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় চাকরির দাবি নিয়ে বিক্ষোভ! আটক তিন আন্দোলনকারী

রায়গঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় চাকরির দাবি নিয়ে বিক্ষোভ! আটক তিন আন্দোলনকারী
এই আন্দোলনের কর্মসূচী হিসেবে ৯ বার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে, ৫/৬ বার নবান্ন এবং লালবাজার অভিযান করেও কোনও ফল পাননি তাঁরা।

এই আন্দোলনের কর্মসূচী হিসেবে ৯ বার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে, ৫/৬ বার নবান্ন এবং লালবাজার অভিযান করেও কোনও ফল পাননি তাঁরা।

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ষ্টেডিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভায় দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ দেখানোয় তিন আন্দোলনকারীকে আটক করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। আন্দোলনকারীদের পুলিশ মুক্তি না দিলে আগামীতে আরও বড় ধরনের নামার হুমকি দিলেন।

২০১৬/১৭ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ৬০ হাজার গ্রুপ ডি নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ছয় হাজার গ্রুপ নিয়োগের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৪২২ জনকে নিয়োগ করা হলেও বাকিদের ওয়েটিং লিষ্টে রাখা হয়েছিল। ওয়েটিং লিষ্টে থাকা যুবক, যুবতিদের চাকরির দেবার দাবিতে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। এই আন্দোলনের কর্মসূচী হিসেবে ৯ বার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে, ৫/৬ বার নবান্ন এবং লালবাজার অভিযান করেও কোনও ফল পাননি তাঁরা।


আজ রায়গঞ্জ ষ্টেডিয়াম ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী জনসভা থাকায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ওয়েটিং লিষ্টে থাকা ২৩জন আবেদনকারী সভাস্থলে হাজির হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালীন ‘‘হয় আমাদের চাকরি দিন, নইলে এ বার মৃত্যু দিন’’, ‘‘দিদি আমাদের চাকরি দিন, নইলে মৃত্যু দিন’’- এ ধরনের ফেষ্টুন এবং প্ল্যাকার্ড দেখানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখাতেই তিনি কার্যত ক্ষুব্ধ হয়ে যান। সাংবাদিকদের নজর সে দিকে ঘুরে যেতেই মুখ্যমন্ত্রী মিডিয়ার ভূমিকাতেও ক্ষুব্ধ হন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরাও এই ঘটনার পর অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যান। সেই সময় মাঠেই ছিলেন রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরা তাঁদের ফ্ল্যাগ, ফেষ্টুন নামিয়ে দেন। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সভা শেষ হওয়ার পর পুলিশ তিন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। আন্দোলনকারী নয়ন রায় জানান, শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আগামীতে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবার হুমকি দিয়েছেন।

পুলিশ তিনজনকে আটক করার পর তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গাড়িতে তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এলেও যাবার সময় গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। আন্দোলনকারী নয়ন রায় জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ভাবে তাঁরা আন্দোলন করছেন। লালবাজার অভিযানে গিয়ে তাঁদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ন’বার গিয়ে মাননীয়ার দেখা পাননি। আজ মাননীয়ার কাছে তাঁরা চাকরির দাবি জানাতে এসেছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের ফ্ল্যাগ, ফেষ্টুন, প্ল্যাকার্ড বাজেয়াপ্ত করে তিনজনকে আটক করে।যতদিন তাঁদের চাকরি না হচ্ছে, তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। নয়নবাবু বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্বেও রাজ্য সরকার তাঁদের বাদ দিয়ে ক্যাজুয়াল কর্মীদের নিয়োগ করছেন।

Published by:Simli Raha
First published:

লেটেস্ট খবর