উত্তরবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাসে মাদক খাইয়ে মহিলার সর্বস্ব হাতিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী ! চালকের জন্য প্রাণে রক্ষা মহিলার !

বাসে মাদক খাইয়ে মহিলার সর্বস্ব হাতিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী ! চালকের জন্য প্রাণে রক্ষা মহিলার !

মহিলা যাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি, চাকুলিয়া হাসপাতালে বাড়ির লোকজনের আসা পর্যন্ত, অপেক্ষাও করেছেন বাসকর্মী ও সহযাত্রীরা।

  • Share this:

#চাকুলিয়া: মাদক খাইয়ে  মহিলা সহযাত্রীর সর্বস্ব লুট। অচৈতন্য মহিলাকে বাসে করেই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে  গেলেন সরকারি বাসের চালক ও কনডাক্টর।  মানবিক মুখ ফুটে উঠল উত্তর দিনাজপুর জেলার কানকি এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে। সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তিন ঘন্টা ধরে পাশে থাকলেন বাসের অন্যান্য সহযাত্রীরাও। অসুস্থ মহিলা যাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি চাকুলিয়া হাসপাতালে বাড়ির লোকজনের আসা পর্যন্ত অপেক্ষাও করেছেন বাসকর্মী ও সহযাত্রীরা।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের জলপাইগুড়ি - ফারাক্কাগামী একটি বাসে জলপাইগুড়ির রানি-নগর থেকে এক বিএসএফের এক কর্মী তার শ্বাশুড়িকে তুলে দেন। টু-সিটের আসনে এক ব্যক্তির পাশে বসেন ওই মহিলা।  ওই মহিলা মালদহের মানিকচকে যাবেন । ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে কিশানগঞ্জে বাসটি জ্যামে পড়ে যায়। আচমকাই বাসের অন্য যাত্রীরা লক্ষ্য করেন বাসের আসনে বসে থাকা এক মহিলা অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছেন। সহযাত্রীরা এবং বাসের কনডাক্টর স্নেহাশীষ রুদ্র এবং বাস-চালক বিজয় সোরেন তৎক্ষনাৎ ওই মহিলার চোখে মুখে জল ছিটিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জ্ঞান  না ফেরায় বাসের কনডাক্টর ও চালক বাসটি সহ ওই মহিলাকে নিয়ে চাকুলিয়া হাসপাতালে যান।

চাকুলিয়া হাসপাতালে ওই মহিলাকে ভর্তি করে দেওয়ার পাশাপাশি বিএসএফ সূত্র ধরে ওই মহিলার বাড়িতে অসুস্থতার খবর পৌঁছে দেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বাসের সহযাত্রী থেকে সরকারি বাসের কর্মীরা তিন ঘণ্টা ধরে চাকুলিয়া হাসপাতালে ওই মহিলার সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। পরে ওই মহিলা সুস্থ হওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে জানতে পারা যায়, তাঁর পাশের আসনে বসা ব্যক্তি তাঁকে খাবারের সাথে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে দিয়ে অচৈতন্য করে, তাঁর সর্বস্ব লুট করে নিয়েছেন। হাতের সোনার বালা, কানের দুল  ও ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে নেমে যায় দুস্কৃতী। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের জলপাইগুড়ি ডিপোর বাস চালক বিজয় সোরেন ও কনডাক্টর স্নেহাশিস রুদ্রের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাসের অন্য সহযাত্রীরা।  পরবর্তীতে বাড়ির লোক আসার পর ওই মহিলাকে পরিবারের হাতে তুলে দেন বাসের কনডাক্টর স্নেহাশিস রুদ্র। পাশাপাশি মহিলার সাথে থাকা ব্যাগ কানকি পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বাস নিয়ে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন জলপাইগুড়ি ডিপোর বাসের চালক ও কনডাক্টর। এই মানবিক মুখ দেখে সকলেই বেশ অবাক। তবে ওই মহিলা কেন অচেনা ব্যক্তির হাত থেকে খাবার খেলেন, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন। ট্রেনে এই ধরণের চুরির ঘটনা হামেশা দেখা যায়। তবে বাসে এই ঘটনা ঘটায় সকলেই বেশ অবাক।

UTTAM PAUL

Published by: Piya Banerjee
First published: October 7, 2020, 11:30 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर