সারমেয়দের রান্না করা খাবার তুলে দিল রায়গঞ্জ বন্দরের পশুপ্রেমী চার যুবক

সারমেয়দের কাছে খাবার পৌঁছাতে পেরে খুশি যুবকরাও।

সারমেয়দের কাছে খাবার পৌঁছাতে পেরে খুশি যুবকরাও।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: সারমেয়দের খাওয়ার দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন রায়গঞ্জ বন্দরের চার যুবক। যুবকদের কাজে উচ্ছাসিত প্রসংশা করলেন রায়গঞ্জের বাসিন্দারা।করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে রাজ্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। হোটেল, রেস্তারাঁ সহ সমস্ত ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ আছে। দোকানপাট বন্ধ থাকায় সকাল দশটার পর রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যায়। পথ কুকুররা এই হোটেল রেস্তোরা,অনুষ্ঠান বাড়ির উচ্ছিষ্ঠ খাবার খেয়েই দিন কাটায়। রাস্তার ধারে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণ সারমেয়রা প্রায় অনাহারেই দিন কাটাচ্ছে। গতবছর বহু স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা এই সারমেয়দের খাবার দিতে এগিয়ে এসেছিল। এবারের লকডাউন চারদিন অতিক্রান্ত হলেও কোনও স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা সারমেয়দের জন্য খাবার দিতে এগিয়ে আসেনি। ব্যক্তিগতভাবে দুই একজন মানুষ সারমেয়দের খাবার দিল বেশি সংখ্যায় সায়মেয়রা অনাহারে থাকছে।

রায়গঞ্জ বন্দরের চার যুবক নীলাঞ্জন দাস, গুপীরঞ্জন প্রামানিক, সঞ্জীব সাহা এবং শুভঙ্কর সাহাদের নজরে আসে। সারমেয়দের পরিস্থিতির কথা ভেবে  সারমেয়দের খাবার দিতে এগিয়ে এলেন। বুধবার থেকে শুরু হল সেরমেয়দের জন্য খাওয়া বিলি।  ভাত,ডাল,মাংস এবং সোয়াবিন একসঙ্গে প্রায় কেজি আট কেজি খাবার রান্না করে পথ কুকুরদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি মোড় থেকে বিদ্রোহী মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুধারে যত সারমেয় ছিল তাদের কাছে এই রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বাদে সারমেয়রা মুখের সামনে খাওয়া পাওয়ায় তৃপ্তি সহকারে সেই খাবার খেতে দেখা যায়।

সারমেয়দের কাছে খাবার পৌঁছাতে পেরে খুশি যুবকরা। পশুপ্রেমী যুবক নীলাঞ্জন দাস জানান, নিজেদের তাগিদ থেকে সারমেয়দের খাবার দেওয়া শুরু করলেন। লকডাউন চলাকালীন সারমেয়রা প্রায় অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটছিল। যা দেখে তাদের কষ্ট হয়। সেই অনুভূতি থেকেই তারা এগিয়ে এসেছেন। তাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল না হলেও সেই পরিষেবা তারা চালিয়ে যাবেন।  রায়গঞ্জের বাসিন্দা স্বপন দাস জানান, লকডাউনের কারণে রাস্তার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকার কারণে পথ কুকুরদের অবস্থা করুন হয়ে পড়েছিল। রায়গঞ্জ একাধিক পশুপ্রেমী সংগঠন থাকলেও এই সারমেয়দের কথা ভেবে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।প্রায় অভুক্ত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাছিল। অবশেষে এই চার যুবক সারমেয়দের রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া তারা খুশি।

Published by:Pooja Basu
First published: