corona virus btn
corona virus btn
Loading

মহিলাদের আত্মরক্ষায় এবার Safety Shoe ! কী এই বিশেষ জুতো জেনে নিন

মহিলাদের আত্মরক্ষায় এবার Safety Shoe ! কী এই বিশেষ জুতো জেনে নিন

বাপ্পা রায়ের তৈরি এই ‘সেফটি শু’-এর দামও সাধ্যের মধ্যেই থাকছে।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: পায়ের জুতোর মধ্যেই থাকবে জিপিএস সিস্টেম ৷ তা দিয়ে সহজেই ট্র‍্যাকিং করার পাশাপাশি থাকবে ৬০০ ভোল্টের এ সি কারেন্ট, যার এক গুঁতোতে দুস্কৃতীকে কুপোকাৎ করে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হবেন মহিলারা। এমনই এক ‘সেফটি শু’ আবিষ্কার  করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের কর্মী বাপ্পা রায়।  তাঁকে এই আবিষ্কারের কাজে সহায়তা করেছেন ওই বিভাগেরই ছাত্রছাত্রী পুলক পাল, প্রতীম ঘোষ, সাইরিন শবনম, জাহাঙ্গীর আলম, উৎসব রায়, সায়ন সাহা ও প্রিয়াঙ্কা পাল।

বাপ্পা রায়ের তৈরি এই ‘সেফটি শু’-এর দামও সাধ্যের মধ্যেই থাকছে। মাত্র সাড়ে তিনশো থেকে চারশো টাকার মতো দাম পরবে এই জুতো কিনতে। ইভটিজিং বা মেয়েদের উত্যক্ত করতে এলে মেয়েরা অনায়াসেই এই সেফটি জুতোর লাথি মেরে আত্মরক্ষা করতে পারবে। শুধু তাই নয়,  সহজেই মেয়েটির লোকেশন ট্র‍্যাক করতে পারবে পুলিশও। সমসাময়িক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরী  রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী বাপ্পা ও তার সহযোগীদের তৈরি এই ‘সেফটি শু’ ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সেফটি শু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলতে চলা ডিআরডিও-এর সেন্টারে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলেছে।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের কর্মী বাপ্পা রায় ও তার সহযোগী ছাত্রছাত্রীদের তৈরি  ‘সেফটি শু’ কিভাবে মেয়েদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করবে সেটা জেনে নেওয়া যাক! অভিনব এই জুতোর আবিষ্কারক বাপ্পা রায় জানালেন, উচ্চমানের ভোল্টেজের সঙ্গে এই জুতোর মধ্যে জিপিএস সিস্টেম বসিয়ে খুব সহজেই ট্র‍্যাকিং করার সুযোগ থাকছে। জুতোর অভ্যন্তরীন সার্কিটে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সাড়ে চার ভোল্টকে কমপক্ষে ছ’শো ভোল্টের পরিবর্তী ভোল্টেজে ( এসি)  রুপান্তর করা যাবে। আর এই ছ’শো ভোল্টের জুতোর ধাক্কা খাওয়ার পর কোনও দুস্কৃতীই আর কোনও মেয়ের ধারেকাছেও ঘেষবেনা বলে আশাবাদী তিনি।

সার্কিটটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪০ টাকা। সার্কিটের ভেতরে রয়েছে ডায়োড, ট্র‍্যানজিস্টর, ট্র‍্যান্সফরমার, রোধ এসব। সার্কিটটি জুতোর ভেতর বসিয়ে সেখান থেকে কিছু ধাতব তার জুতোর বাইরের গায়ে লেগে থাকবে।  ওই তারগুলোয় থাকবে উচ্চমানের ভোল্টেজ।  একটি ফুল চার্জের ব্যাটারি শুরুতেই এক হাজার ভোল্টের ধাক্কা দিতে সক্ষম হবে। ব্যাটারি চার্জিং হবে হাঁটতে হাঁটতেই। জুতোর ভিতরে থাকা সুইচটি দরকারের সময় অন করে দিলেই উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জুতোটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এক ধরনের বিশেষ সেন্সর ৷ যা রাস্তায় চলার সময় কোনও বাধাবিপত্তি থাকলে সেই জুতো থেকে বিশেষ সিগন্যাল আসতে থাকবে। পরবর্তী সময়ে এই সেফটি শু-এর আপগ্রেডেশন করে নতুন নতুন ফিচার যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আবিষ্কারক বাপ্পা রায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দূর্লভ সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে এই ‘সেফটি শু’ ব্যবহার করে মেয়েরা খুবই উপকৃত হবে। অভিনব এই জুতো যাতে কোনও ভাল জায়গায় প্রদর্শনী করা যায়, তা নিয়ে ভাবনা এখন চিন্তা করা হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিআরডিও সেন্টারে জুতোটিকে প্রদর্শন করার। এছাড়াও জুতোর পেটেন্ট নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানিয়েছেন,  পথে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেক সময়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ছাত্রীদের। এই ‘সেফটি শু’ আবিষ্কারে কিছুটা সমস্যা মিটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Uttam Paul

First published: January 17, 2020, 5:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर