দোকন পাঠ বন্ধ, দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়দের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সঙ্গে আসছেন রোগীর আত্মীয়রা।

রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সঙ্গে আসছেন রোগীর আত্মীয়রা।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: লকডাউনের দিন গুলোতে হাসপাতালে আসা রোগীর আত্মীয়দের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন রায়গঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুক্তির কান্ডারি। রান্না করার খাবার পেয়ে খুশী দূরদূরন্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়রা৷ করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে রাজ্য সরকার সকাল থেকে রাত্রি ন’টা পর্যন্ত কার্যত লকডাউন এবং রাত্রি ন’টার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত নাইট কার্ফু ঘোষণা করেছে।দোকানপাট প্রায় সবই বন্ধ। যে দু’চারটি দোকান খোলা থাকছে পুলিশি অভিযানে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সঙ্গে আসছেন রোগীর আত্মীয়রা। সমস্ত ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকায় দূরদূরন্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়রা  অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হত৷ একেই রোগীকে নিয়ে চিন্তা, অন্যদিকে অভুক্ত থাকার কারণে রোগীর আত্মীয়রা পরিশ্রম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন। রায়গঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মুক্তির কান্ডারি করোনা আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সরবরহ করা, রায়গঞ্জের নাগরিকদের হাতে মাস্ক, সেনেটাইজার বিলি করছেন। সংস্থার কর্নধার কৌশিক ভট্টাচার্য নিজের উপলব্ধি থেকে বুঝেছেন রাজ্য সরকার করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে কার্যত লকডাউন এবং নাইট কার্ফু ঘোষণা করায় সব থেকে সমস্যার মধ্যে পড়ছেন হাসপাতালে আসা রোগীর আত্মীয়রা। সেই অনুভূতি থেকেই রায়গঞ্জ গভঃ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হচ্ছেন তাঁরা। খাবারের মধ্যে আছে ভাত, ডাল, সবজি, ভাজা।কোনদিন মাছের ঝোল আবার কোন দিন ডিমের ঝোল। এভাবেই রোগীর আত্মীয় এবং ভবঘুরেদের খাওয়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন কৌশিকবাবু।

কৌশিকবাবুর দাবি রোগীর আত্মীয়রা কেউ কেউ বাড়ি থেকে চিড়ে মুড়ি এনে এখানে খান।কেউ আবার হাসপাতালের চত্বরের দোকান গুলি থেকে খাবার জিনিস কিনে খেয়ে রাত কাটান।লকডাউনের কারণের সেই সমস্ত রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালে এসে অভুক্ত থেকে যাবেন। অসহায় রোগীর পরিবারের লোকেরা যাতে অভুক্ত না থাকেন সেই ভাবনা থেকে এধরনে উদ্যোগ বলে কৌশিকবাবু জানিয়েছেন। যতদিন সরকার লকডাউন জারি রাখবেন ততদিন তিনি এই কাজ করে যাবেন। রোগীর এক আত্মীয় জানান, ইটাহার থেকে রোগীকে নিয়ে এসেছেন। দোকান বন্ধ থাকায়  কিছু কিনে খেতে পারেননি। শরীরে ক্লান্তি আসায় শুয়ে পড়েছিলেন। আচমকা একজন এসে বললেন যারা যারা খাবার নিতে চান চলে আসুন। সেই কথা শুনে চলে আসলাম। লাইন দিয়ে খাওয়া নিলাম। রান্না করা খাবার হাতে পেয়ে কৌশিকবাবুকে ধন্যবাদ জানালাম। করণদিঘি বাসিন্দা জানান, দু’দিন হল রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে এখানে আছেন।অর্থের অভাবে পেট ভরে খেতেও পারছেন না। আজ কোশিকবাবু তাদের ডেকে নিয়ে খাওয়ালেন।সুস্বাদু খাবার। খেয়ে তৃপ্তি পেলেন।

Published by:Pooja Basu
First published: