দার্জিলিঙে হাল ফিরল নিবেদিতার সমাধি ক্ষেত্রের

দার্জিলিঙে হাল ফিরল নিবেদিতার সমাধি ক্ষেত্রের
সিস্টার নিবেদিতার সমাধী দার্জিলিঙে

পাহাড়ের সিস্টার নিবেদিতা সেন্টারের সহায়তায় এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহায়তায় ভোল বদল হল মুরদাহাটির। পাহাড় বেড়াতে গেলে এই জায়গা না দেখলে মিস করে যাবেন ইতিহাস। দার্জিলিংয়ে জায়গাটির পরিচয় মুরদাহাটি নামে।

  • Share this:

#দার্জিলিং: চার মাসের অক্লান্ত চেষ্টায় হাল ফেরানো সম্ভব হল ভগিনী নিবেদিতার সমাধির। অবহেলায় পড়ে থাকা রাহুল সংকৃত্যায়ন, নেপালি কবি আগম সিং গিরি, এইচ ডি লামা সহ বিখ্যাত মানুষের  সমাধি স্থল সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

পাহাড়ের সিস্টার নিবেদিতা সেন্টারের সহায়তায় এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহায়তায় ভোল বদল হল মুরদাহাটির। পাহাড় বেড়াতে গেলে এই জায়গা না দেখলে মিস করে যাবেন ইতিহাস।  দার্জিলিংয়ে জায়গাটির পরিচয় মুরদাহাটি নামে।

স্থানীয়দের কাছে এটা দার্জিলিং শশ্মান বলেও পরিচিত। পাহাড়ী রাস্তায় যেখানে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ঘুমের দিকে রওনা হয়। সেই স্টেশন থেকে এই জায়গা পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়। আর এখানেই অযত্নে, অনাদরে পাহাড়ের কোলে শুয়ে ছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। এই অবস্থার বদল চেয়েই সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের নাগরিকরা।

দার্জিলিংয়ের লেবং কার্ট রোডের রায় ভিলাতে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবরমারা যান ভগিনী নিবেদিতা। সেই রায় ভিলাও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ও তৎকালীন জিটিএ-র সহায়তায় সাজিয়ে তোলা হয় রায় ভিলাকে। আপাতত সেখানেই রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র। যা শুধুমাত্র পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো শুধু নয়। নানা রকম কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে পাহাড়ের আন্দোলনের সময় এই রায় ভিলাও ভাঙচুর করা হয়।চুরি যায় বহুমূল্য জিনিসও। এই রায় ভিলাতে পর্যটকদের আনা গোনা লেগেই আছে। কিন্তু নিবেদিতার সমাধির জায়গা সেই অবহেলাতেই পড়ে ছিল। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা স্থানীয় পুরসভা, রাজ্য প্রশাষন, জিটিএ এবং সাংসদ সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে বারবার আবেদন করেছিলেন। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিমান নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী নিত্যসত্যানন্দজি মহারাজের।

কিছু দিন আগেও এই এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছিল গোটা এলাকাটি জঙ্গল এবং আগাছার চাদরে ভরে আছে। নিবেদিতার একটি মূর্তি রয়েছে সেটিও নোংরা হয়ে পড়ে ছিল। প্রসঙ্গত, এখানে শুধুমাত্র নিবেদিতার সমাধি নয় আছে রাহুল সাংকৃত্যায়ণ, নেপালি কবি আগম সিং গিরি, এইচ ডি লামা সহ অনেকের সমাধি আছে। তাদের সমাধি গুলোরও একই অবস্থা। এই সবকটি সমাধি সংষ্কারের কাজ দ্রুত নিজেদের উদ্যোগেই শুরু করে দেয় রামকৃষ্ণ মিশন। স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজ বলেন, “প্রশাষনের সঙ্গে বহুবার কথা বলা হয়েছে।যদিও কোনও সাহায্য মেলেনি। তাই ভক্তদের থেকে অর্থ সাহায্য নিয়েই এই সমস্ত সমাধি স্থান সংষ্কার করা হল দ্রুততার সঙ্গে।”

দার্জিলিং জেলা প্রশাষন অবশ্য অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি তারা এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজ নেওয়া শুরু করেছিলেন। তবে সত্যিই কাজ হবে কিনা প্রশাসনিক সহযোগীতায় তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন দার্জিলিংয়ের মানুষও। স্বামী নিত্যসত্যানন্দ মহারাজের ব্ক্তব্য, “দার্জিলিংয়ের সাংসদ থাকাকালীন সুরেন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াকে একাধিকবার আবেদন করেছি। তবে আশার কোনও খবর সেখান থেকেও পাইনি।”

যদিও আর কারও প্রতি ভরসা না রেখে ভক্তদের সাহায্য নিয়েই কাজ শুরু করে ফেলেছে রামকৃষ্ণ মিশন। ভাঙা অংশগুলোর সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। রং করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সমাধি, সীমানা পাঁচিল। কিছু দিনের মধ্যেই সেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। ঠিক হয়েছে নিবেদিতার যে মূর্তিটি রয়েছে সেটিকে কাঁচ দিয়ে ঘিরে রাখা হবে।

মহারাজের কথায়, 'আমরা ভালো থাকার চেষ্টা করছি। তা হলে নিবেদিতাকে কেন ভালো রাখা হবে না।' জিটিএ সূত্রে খবর তারা এই রাস্তাটি সংস্কার করে দেবে। এছাড়া ট্যুরিস্টদের জানানোর জন্য পোস্টার দেওয়া থাকবে। চলতি মাসেই সমস্ত সংষ্কারের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ABIR GHOSHAL

First published: March 12, 2020, 11:31 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर