সাফাইকর্মীদের আন্দোলনের নামে রাস্তায় জঞ্জাল ফেলে বিক্ষোভ! দুর্গন্ধে নাস্তানাবুদ শহরবাসী

সাফাইকর্মীদের আন্দোলনের নামে রাস্তায় জঞ্জাল ফেলে বিক্ষোভ! দুর্গন্ধে নাস্তানাবুদ শহরবাসী
সাফাই কর্মচারীদের আন্দোলনের নামে শিলিগুড়ির রাস্তায় জঞ্জাল ফেলে বিক্ষোভ।

অস্থায়ী সাফাইকর্মীদের স্থায়ীকরণ, মজুরি বৃদ্ধি-সহ ১০ দফা দাবীতে উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শিলিগুড়ি শহর জঞ্জালের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: অস্থায়ী সাফাইকর্মীদের স্থায়ীকরণ, মজুরি বৃদ্ধি-সহ ১০ দফা দাবীতে উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শিলিগুড়ি শহর জঞ্জালের স্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনের নামে সাফাইকর্মীরা যেভাবে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় নোংরা ফেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুটছে শহরবাসীর বড় অংশ। দাবী নিয়ে আন্দোলন হতেই পারে। কিন্তু এভাবে শহরের বুকে নোংরা, আবর্জনার পাহাড় জমিয়ে আন্দোলন কোনওমতেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে শহরবাসীরা সাফ জানিয়েছে।

বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার চলে শহরজুড়ে বিক্ষোভ, মিছিল। পুরসভা তো বটেই বাঘাযতীন পার্ক, হিলকার্ট রোডের বিভিন্ন অংশে জঞ্জালের পাহাড় ফেলে চলে বিক্ষোভ। এ কোন আন্দোলন? বলছে শহরবাসী। উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির সভাপতি কিরণ রাউত জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাফাই কর্মীদের স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। মেডিক্যালের কোনও  বন্দোবস্ত নেই। মজুরিও বাড়ছে না। বহুবার পুর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। কিন্তু সুফল মেলেনি। ধর্মঘট ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই।

সাফাইকর্মীদের আন্দোলন চলছে শিলিগুড়িতে। সাফাইকর্মীদের আন্দোলন চলছে শিলিগুড়িতে।

পুরসভার প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য জানান, প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মজুরি দেওয়া হয়। বিজেপির একটা অংশ সাফাই কর্মীদের ভুল বোঝাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি সাফাই কর্মীদের স্থায়ীকরণ করবে। তা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। সাফাইকর্মীদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানালেও এ ভাবে পরিষেবা বন্ধ রেখে শহরবাসীকে দূর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেওয়ার নিন্দা করেছেন তৃণমূলের ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর রঞ্জন সরকার। তিনি জানান, সাফাইকর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও তা কেন লাগু করা হয়নি, সেই উত্তর পুর কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

অন্যদিকে পুর কমিশনার সোনম ওয়াংদি ভুটিয়া জানান, পুরসভাকে না জানিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। আলোচনায় বসতে হবে আন্দোলনকারীদের। আলোচনার মধ্য দিয়ে জট খুলতে হবে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেসব এলাকায় আবর্জনার ভ্যাট রাখা রয়েছে। তার পাশ দিয়ে চলাফেরা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গন্ধে টেকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যত পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা না মেটালে শহরবাসীর দূর্ভোগ আরও বাড়বে।

Partha Sarkar

Published by:Shubhagata Dey
First published: