অবিরাম বৃষ্টি পাহাড় থেকে সমতলে! ফুঁসছে উত্তরবঙ্গের একাধিক নদী! মোকাবিলায় প্রস্তুত জেলা প্রশাসন

নদী সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে সেচ দফতর ও জেলা প্রশাসন। রবিবার পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টি। পাহাড়ে যেকোনও সময়ে ধস নামতে পারে।

নদী সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে সেচ দফতর ও জেলা প্রশাসন। রবিবার পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টি। পাহাড়ে যেকোনও সময়ে ধস নামতে পারে।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিলই। উত্তরবঙ্গে অবিরাম ভারী বৃষ্টি হবে। সেই মতোই অঝোরে বৃষ্টি চলছে পাহাড় থেকে সমতলে। টানা বৃষ্টির জেরে জনজীবন ব্যহত হয়ে পড়েছে। একেই করোনা পিছু ছাড়ছে না। তার ওপর দোসর এই বৃষ্টি। আকাশের মুখ ভার। সূর্যের দেখা নেই। স্যাঁত স্যাঁতে আবহাওয়া। উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলায় আবার বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা।

পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে জল বাড়ছে একাধিক নদীতে। ভয়ঙ্কর হচ্ছে তিস্তা, তোর্ষা, কালজানি, রায়ডাক, মহানন্দা, বালাসন নদী! নদী সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে সেচ দফতর ও জেলা প্রশাসন। রবিবার পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টি। পাহাড়ে যেকোনও সময়ে ধস নামতে পারে। ধস প্রবণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি জিটিএ'র।

জিটিএ'র পর্যটন বিভাগের সহকারী ডিরেক্টর সুরজ শর্মা জানিয়েছেন, পাহাড়ের দুই জেলার চার মহকুমা দার্জিলিং সদর, কার্শিয়াং, মিরিক এবং কালিম্পংয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেল খোলা হয়েছে। এছাড়াও ৮টি ব্লকেও ওই সেল খোলা হয়েছে। কর্মীরা তৎপর রয়েছে। বিপর্যয়ের খবর এলেই দ্রুত টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি ধসপ্রবণ এলাকায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরী তারা। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা টিমও প্রস্তুত। তৈরী রাখা হয়েছে বোটও। দপ্তরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।  শিলিগুড়ি পুরসভাও তৈরী। জরুরী বিভাগের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা প্রস্তুত। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুমও। পাহাড়ে টানা বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে সমতলের মহানন্দা, বালাসন নদী।

এখনও বিপদ সীমার নীচ দিয়ে যদিও জল বইছে। তবে আজ রাতভর বৃষ্টি হলে শহরের একাধিক নীচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে সবচাইতে বেশী বৃষ্টি হয়েছে মালবাজারে। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৩ মিলিমিটার। হাসিমারায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বানারহাটে ৯০ মিলিমিটার, শিলিগুড়িতে ৫২ মিমি, জলপাইগুড়িতে ৫০ দশমিক ৪০ মিমি, আলিপুরদুয়ারে ৪২.৪০ মিমি, ময়নাগুড়িতে ২৫ মিমি, মাথাভাঙায় ১৯ দশমিল ৮০ মিমি, কোচবিহারে ১২. ৯০ মিমি এবং তুফানগঞ্জে ১১ .৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজ ১৮৩২ কিউসেক জল ছাড়ায় বিপদ আরো বেড়েছে।

Published by:Elina Datta
First published: