CAA প্রতিবাদে হিংসাত্মক আন্দোলনের জের, মালদহ রেলের ডিভিশনের ক্ষতির পরিমান ৪৫ কোটি টাকা

CAA প্রতিবাদে হিংসাত্মক আন্দোলনের জের, মালদহ রেলের ডিভিশনের ক্ষতির পরিমান ৪৫ কোটি টাকা

ডিভিশনের একাধিক স্টেশন ভাঙচুর, আগুন, তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ। ট্রেন চলাচল সম্পূর্ন স্বাভাবিক হতে অন্তত ৭দিন সময় প্রয়োজন হবে।

ডিভিশনের একাধিক স্টেশন ভাঙচুর, আগুন, তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ। ট্রেন চলাচল সম্পূর্ন স্বাভাবিক হতে অন্তত ৭দিন সময় প্রয়োজন হবে।

  • Share this:

Sebak Debsarma

#মালদহ: নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে হিংসাত্মক আন্দোলনের জেরে রেলের মালদহ ডিভিশনের ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে সম্পত্তি নষ্টের পরিমান অন্তত ২৫ কোটি। ডিভিশনের একাধিক স্টেশন ভাঙচুর, আগুন, তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ। ট্রেন চলাচল সম্পূর্ন স্বাভাবিক হতে অন্তত ৭দিন সময় প্রয়োজন হবে।

প্রতিবাদের নামে তাণ্ডবের জেরে গোটা রাজ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ন রেল স্টেশন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম মালদা ডিভিশনের অধীনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশন। অভিযোগ, গত শনিবার ৫০০০ এর বেশি উত্তেজিত জনতা স্টেশন আক্রমন করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, স্টেশন ছেড়ে পালান স্টেশন মাষ্টার থেকে রেল কর্মী এমনকি আর,পি,এফও।

ঘটনার তিনদিন পরেও ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে ধ্বংসের ছবি স্পষ্ট। স্টেশনের একাধিক প্লাটফর্মে যাত্রী শেড, বসার জায়গা কার্যত কিছুই অবশিষ্ট নেই। স্টেশন মাষ্টারের ঘর, স্টেশন কন্ট্রোল রুম, স্টেশনের সিগনালিং ব্যবস্থা, টিকিট বুকিং কাউন্টার- সবই ভেঙেচুড়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রেলের গুরুত্বপূর্ন নথিপত্র।

নয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার থেকেই টার্গেট হয় রেল। মালদাহ ডিভিশনের ধুলিয়ান গঙ্গা, নিমতিতা, সজনীপাড়া সহ একাধিক স্টেশনে ব্যাপক তাণ্ডব চলে। মঙ্গলবার বিকেলে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে যান মালদহের ডিআরএম যতীন্দ্র কুমার।

রেলের বিভিন্ন বিভাগের পদস্থ আধিকারিকদের একটি দল বিশেষ ট্রেনে পৌছন ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে। এখানকার তছনছ দশা দেখে কার্যত স্তম্ভিত ডিআরএম। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের হিংসায় মালদহ ডিভিশনে সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। আর ট্রেন বন্ধের জেরে লোকসান আরও ২০ কোটি টাকারও বেশি।

রেলের মালদহ-আজিমগঞ্জ শাখায় গুরুত্বপূর্ন স্টেশন ধুলিয়ান গঙ্গা। এই স্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন তিস্তা তোর্ষা এক্সপ্রেস, কামরূপ এক্সপ্রেস, হাটেবাজারে এক্সপ্রেস, গরীবরথ এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর এক্সপ্রেস, মালদা-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এর মতো বহু গুরুত্বপূর্ন ট্রেনগুলি চলাচল করে।এছাড়াও চলে আরও একাধিক প্যাসেঞ্জার ট্রেন। কী হয়েছিল শনিবার ধুলিয়ানের এই স্টেশনে? ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার অজয় কুমার গুপ্ত। বলছেন, সব ছেড়ে পালানো ছাড়া সেই সময় অন্য কোনো উপায় ছিল না।

ধুলিয়ান স্টেশনের যা পরিস্থিতি তাতে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে দুই একটি ট্রেন সতর্কতার সঙ্গে চালানোর কথা ভাবছে পূর্ব রেল। তবে স্টেশনগুলির ছন্দে ফেরা এখনও সময় সাপেক্ষ।​

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: