উত্তরবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

নয়া সেবক ব্রিজ নিয়ে এবার কেন্দ্রকে তোপ রাজ্যের, রেল ও বন দফতরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

নয়া সেবক ব্রিজ নিয়ে এবার কেন্দ্রকে তোপ রাজ্যের, রেল ও বন দফতরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

ডুয়ার্সের দিক থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে, করোনেশন সেতুতে ওঠার আগে ডানদিকে গার্ডওয়ালের ফাটল চওড়া হয়েছে। অন্যদিকে খরস্রোতা তিস্তায় করোনেশন সেতুর পিলারের পাশে ক্ষয় হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: দ্বিতীয় সেবক ব্রিজ দ্রুত তৈরির দাবি জোরালো হচ্ছে ক্রমশ। হচ্ছে, হবে নয় পাকাপাকি ভাবে সিদ্ধান্ত নিক কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষই। এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষ। যদিও রাজ্যের দাবি কেন্দ্রের সহযোগিতায় শুরু করা যাচ্ছে না এই সেতুর কাজ। রাজ্যের অভিযোগ নয়া সেতু বানানোর জন্যে জায়গা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। কিন্তু দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার অসহযোগিতার কারণে শুরু করা যাচ্ছে না কাজ।

রাজ্য পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ২ তারিখ অবধি কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। যদিও তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে রাজ্যপাল সেবক ব্রিজ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তারই জবাব দিতে গিয়ে পূর্ত মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, "সমস্ত তথ্য জেনে মন্তব্য করা উচিত"। আর এই সমস্ত তথ্যের তালিকা ইতিমধ্যেই বানিয়েছে রাজ্য সরকার। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি অবধি রেল ও কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, দ্রুত বিষয়টি নিশ্চিত করতে। যদিও রাজ্যের অভিযোগ এই বিষয়ে এক দফা কাজও করেনি কেন্দ্র। নয়া সেবক ব্রিজের পক্ষে সওয়াল করতে ডুয়ার্সে তৈরি হয়েছে, 'ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রির্ফমস' নামে একটি মঞ্চ। যেখানে ডুয়ার্সের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন আছেন তেমনি আছে সাধারণ মানুষ। সেবকের সাথে ডুয়ার্স সংযোগকারী বিভিন্ন রাস্তায় দ্বিতীয় সেবক সেতু চেয়ে পড়েছে পোস্টার। দূরপাল্লার বাসেও সাধারণ মানুষের নজরে আনতে দেওয়া হয়েছে পোস্টার। অরাজনৈতিক এই সংগঠনের বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্র বা রাজ্য একাধিক সময় এই সেতু নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবার সেতু বানানোর চূড়ান্ত কাজ করা হোক।

ডুয়ার্সের সাথে শিলিগুড়ির যোগাযোগ সহজ করতে ব্রিটিশ আমলে বানানো হয় করোনেশন ব্রিজ৷ সেতুর মেয়াদ প্রায় শেষ৷ সেতুর শরীরে একাধিক জায়গায় ফাটল ধরা দিয়েছে। কয়েকটি জায়গা বিশেষ করে পিলার মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনও ভাবে এই সেতু আরও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিলিগুড়ির সাথে ডুয়ার্সের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি ভুটানের সাথে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি করোনেশন সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এখানেই প্রশ্ন ডুয়ার্সের লাইফলাইন যে সেতু, তার ওপর দিয়ে যদি ১০ টনের ওজনের গাড়ি না যাতায়াত করতে পারে তাহলে সেনা বাহিনীর গাড়ি যাতায়াত করবে কিভাবে? এই সংগঠনের অন্যতম সদস্য চন্দন রায় জানিয়েছেন, "এখন না হয় মালবাজারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভাল করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। করোনেশন সেতু ও তার সংযোগকারী রাস্তার যা হাল তাতে প্রতিদিনই নানা বিপদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। ল্যান্ডস্লাইড হলে, আর কথাই নেই। দীর্ঘ যানজট। একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ডুয়ার্সের মানুষের যাতায়াত। তাই প্রতিশ্রুতি বা হচ্ছে, হবে নয় আমাদের এই এলাকার মানুষদের কথা ভেবে দ্রুত দ্বিতীয় সেবক ব্রিজ কাজ শুরু করা হোক।"

ডুয়ার্সের দিক থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে, করোনেশন সেতুতে ওঠার আগে ডানদিকে গার্ডওয়ালের ফাটল চওড়া হয়েছে। অন্যদিকে খরস্রোতা তিস্তায় করোনেশন সেতুর পিলারের পাশে ক্ষয় হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। ফলে করোনেশন সেতু নিয়ে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় সেবক সেতু চেয়ে সরব হয়েছেন পদ্মশ্রী প্রাপক করিমুল হক। তিনি জানিয়েছেন, "আমার শরীর যতদিন চলবে ততদিন এই দাবিতে সরব থাকব। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা সেতু বানানো হচ্ছে। তাহলে ডুয়ার্সের মানুষের জন্য কেন সেতু হবে না। নানা অসুবিধার মধ্যে দিয়ে আমাদের চলতে হয়। সরকারের কাছে অনুরোধ কেন্দ্র ও রাজ্য করোনেশন সেতু দ্রুত সংষ্কার করুক। আর সেবকে নয়া সেতু করা হোক। রাজনীতি তার জায়গায় থাকুক। আমাদের জন্যে কাজটা হোক।"

সংগঠনের আর এক সদস্য সোমনাথ দত্ত জানিয়েছেন, "প্রতিদিন ছোট, বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতগুলি চায়ের বাগান আছে, তাদেরও ব্যবসার কাজে অসুবিধা হচ্ছে। তাই সবাই মিলে এই আন্দোলনে আমরা সামিল হয়েছি।" এভাবেই করোনেশন সেতু রক্ষা আর নয়া সেবক সেতু দ্রুত বানানোর দাবিতে জোরদার হচ্ছে ডুয়ার্সের মানুষের আওয়াজ।

Published by: Pooja Basu
First published: November 4, 2020, 10:18 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर