Raiganj : টিকাকরণ ঘিরে উত্তেজনা, টাকার বিনিময়ে কুপন বিক্রিতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী

ভ্যাকসিন নিতে এসে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার জন্য পুলিশ মোতায়ন করা হয়

সরবরাহ অপ্রতুল থাকায় উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur) জেলা জুড়ে করোনা ভাইরাসের টিকার জন্য হাহাকার চলছে

  • Share this:

রায়গঞ্জ : টাকা দিয়ে কুপন বিলি করার  অভিযোগ উঠতেই কুপন চিবিয়ে খেলেন অভিযুক্ত পুলিশকর্মী। ঘটনাটি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে । অভিযোগকে কেন্দ্র করে টিকাকেন্দ্রের সামনে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় মঙ্গলবার ৷

অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর দাবি তিনি কুপন বিক্রি করেননি । অন্য এক পুলিশ অফিসারের ছেলেকে কুপন দিয়ে সাহায্য করেছেন ।   রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভ্যাকসিন কন্ট্রোল ম্যানেজার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি । অভিযোগ পেলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন ।

সরবরাহ অপ্রতুল থাকায় উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে করোনা ভাইরাসের টিকার জন্য হাহাকার চলছে। ভ্যাকসিন পেতে রাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভ্যাকসিন সেন্টারের সামনে প্রতিদিন বাসিন্দারা লম্বা লাইন দিচ্ছেন। মঙ্গলবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না । ভ্যাকসিন নিতে এসে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার জন্য পুলিশ মোতায়ন করা হয়।

অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী মিন্টু মন্ডল জনৈক যুবককে তিনটি কুপন দেন ৷ অভিযোগকে কেন্দ্র করে লাইনে অপেক্ষমাণ বাসিন্দারা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। উত্তেজিত বাসিন্দারা কুপন পাওয়া যুবককে আটকে রাখার চেষ্টা করেন ।

অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিন্টু মন্ডল যুবকের কাছ থেকে কুপন ছিনিয়ে নিয়ে সেগুলি চিবিয়ে খেয়ে নেন । লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসিন্দাদের  চাপে পড়ে ওই যুবক স্বীকার করেন, ৩০০ টাকার বিনিময়ে তিনি এই কুপন কিনেছেন। এটা জানাজানি হওয়ার পরই  জনতার হাত থেকে কোনওক্রমে তিনি বেরিয়ে গিয়ে  সেখান থেকে পালিয়ে যান। উত্তেজিত বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশকর্মী ভ্যাকসিন আগে পাইয়ে দেওয়া জন্য ৩০০ টাকার বিনিময়ে কুপন বিক্রি করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে এক যুবককে ওই অভিযুক্ত পুলিশকর্মী  বেধড়ক মারধর করেন বলেও অভিযোগ।

এ ছাড়াও প্রতিবাদী মহিলাদের হাসপাতালে ঢুকিয়ে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ । মহিলা পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই অভিযুক্ত মিন্টু মণ্ডল এই কাজ করেছেন । অবিলম্বে তাঁর শাস্তি দাবি করেন অভিযোগকারীরা । বেশ কিছু ক্ষণ এই বিশৃঙ্খলা চলায় টিকাকরণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মিন্টু মণ্ডলের দাবি, তিনি এই কাজ করতেই পারেন না ।  এক পুলিশ অফিসারের ছেলে বাইরে কাজে যাচ্ছিলেন । তাঁকে তিনি একটি কুপন দিয়েছেন । টাকার বিনিময়ে কুপন বিক্রির কোন প্রশ্নই ওঠে না বলে জানিয়েছেন তিনি ।

মেডিক্যাল কলেজের ভ্যাকসিন কন্ট্রোল অফিসার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি । অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ফুটেজ  খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: