চিকিৎসককে মার, গাড়ি ভাঙচুর যুবকের! বাধা না দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলল পুলিশ

চিকিৎসককে মার, গাড়ি ভাঙচুর যুবকের! বাধা না দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলল পুলিশ

চিকিৎসকের গাড়ির উপর চড়াও যুবক, মোবাইলে ছবি তুলতে ব্য়স্ত পুলিশ৷

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মালদহ শহর৷ আক্রান্ত চিকিৎসকের নাম ওয়াসিমুল হক।

  • Share this:

#মালদহ: ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় এক সপরিবার এক চিকিৎসককে মারধর করছে এক যুবক৷ চিকিৎসকের অপরাধ, তাঁর গাড়ি ওই যুবকের মোটরবাইকে ধাক্কা মেরেছে৷ মারমুখী যুবক যখন এই গুন্ডাগিরি চালাচ্ছে, তখন সেখানে হাজির এক পুলিশকর্মী এবং সিভিক ভলেন্টিয়ার৷ যুবককে বাধা দেওয়া দূরে থাক,  আর পাঁচজনের মতো তাঁরাও ব্যস্ত থাকলেন মোবাইলে ছবি তুলতে!

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মালদহ শহর৷ আক্রান্ত চিকিৎসকের নাম ওয়াসিমুল হক। মালদহ শহরের রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  চিকিৎসকের গাড়িটি একটি মোটরবাইকে ধাক্কা মারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় দামি মোটর বাইক।  এর পরে গাড়িতে থাকা চিকিৎসক ও তাঁর পরিবার ও গাড়ি চালকের ওপর চড়াও হয় বাইকে সওযার যুবক। গাড়ির চালক এবং চিকিৎসককে মারধর শুরু করেন তিনি৷ ভাঙতে শুরু করেন গাড়ির কাচ৷ বাধা দিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন চিকিৎসকের স্ত্রীও ।

মোটরবাইক চালক যুবক যখন এই তাণ্ডব চালাচ্ছেন তখন তাঁর সামনে দাঁড়ানো পুলিশকর্মী গোটা ঘটনা মোবাইল বন্দি করতে ব্য়স্ত৷ যুবককে আটকানো দূরে থাক, আমজনতার মতোই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেন তিনি৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় ঘটনার ছবি। এর পরে নড়েচড়ে বসে পুলিশ ।  কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলওকে ক্লোজ করা হয় । নিগৃহীত চিকিৎসকের স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাও শুরু করেছে পুলিশ। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি অভিযুক্তকে। মালদহ শহরের রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ নামে যে জায়গায় এই ঘটনা ঘটে, তার খুব কাছেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের পোষ্ট । ঘটনাস্থল থেকে ইংরেজবাজার থানা এবং রথবাড়ি ট্রাফিক কন্ট্রোল রুংমের দূরত্বও খুব বেশি নয় । অথচ দুর্ঘটনার পর প্রকাশ্যে মারমুখী ওই যুবককে বাধা দেওয়ার কোনো চেষ্টাই করেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষও মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলতেই ব্যস্ত ছিলেন ।

ওয়াসিমুল হক নামে ওই চিকিৎসক মালদহের পীরগঞ্জের বাসিন্দা। শুক্রবার মালদহ শহরের বাড়িতে আসেন তিনি। সপরিবারে গাড়িতে যাতায়াতের সময় আকস্মিক ওই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকের আক্ষেপ, পুলিশের সামনেই তাঁকে মার খেতে হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজরিয়া জানিয়েছেন, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে সময়মতো গোলমাল থামাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। তা না করে ছবি তুলতে ব্যস্ত থেকে নিজের কর্তব্য় অবহেলা করেছেন তিনি। এই কারণেই ওই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্ত চালানো হবে। অভিযুক্ত যুবককে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে।  তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Sebak Deb Sharma

Published by:Debamoy Ghosh
First published: