লকডাউনে কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন গুনছেন রায়গঞ্জের অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক

পরিযায়ী শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পের আওতায় এনে তাঁদের উপার্জনের সুযোগ করে দেবার জন্য বাজিতপুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর হোসেনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পের আওতায় এনে তাঁদের উপার্জনের সুযোগ করে দেবার জন্য বাজিতপুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর হোসেনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

  • Share this:

    Uttam Paul

    #রায়গঞ্জ: লকডাউনে কারনে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বেশ কিছু পরিযায়ী শ্রমিক  ঘরে ফিরে এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। পরিযায়ি শ্রমিকদের একশো দিনের প্রকল্পে আওতায় আনার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য প্রধান, বিডিও এবং জেলা স্তরে দাবি জানাবেন স্থানীয় বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য।

    উত্তর দিনাজপুর জেলার বহু শ্রমিক প্রতিবছর বাড়তি আয়ের আশায় ভিন রাজ্যে যান। কেউ দিল্লি, মুম্বই, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ।  সেখানে গিয়ে কেউ রাজমিস্ত্রী, কেউ বিভিন্ন কোম্পানীতে শ্রমিকের কাজ করেন। কেউ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কেউ আবার একাই যান।  গত বছর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ জুড়ে লকডাউনের সময় ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের যে করুণ অবস্থা আজ তা কারও অজানা নেই। এবারে আবার শুরু হয়েছে লকডাউন। বহু রাজ্যে লাগাতর লকডাউন চলছে। ইতিমধ্যে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তবে এবারের লকডাউনে জাতীয় সড়কে যান চলাচল করছে। গতবছরে অভিজ্ঞতাকে মনে রেখে এবারে লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।

    রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজিতপুর গ্রামে প্রায় ৫০০ জন ভিন রাজ্যে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০/৩০০ জন বাড়ি ফিরে এসেছে।  কেউ আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মোটা টাকা খরচ করে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে আবার তাঁদের  ফিরে আসতে হওয়ায় চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। বাড়িতে ফিরেও কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে উপার্জন বন্ধ থাকায় পরিবারকে নিয়ে এখন তাঁরা  চরম আর্থিক সংকটের সন্মুখীন হয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পের আওতায় এনে তাঁদের উপার্জনের সুযোগ করে দেবার জন্য বাজিতপুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর হোসেনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    পরিযায়ী শ্রমিক কুরমান আলী জানান, টাকা ধার করে কিছু রোজগারের আশায় তাঁরা ভিন রাজ্যে গিয়েছিলেন। যাবার পরই লকডাউন ঘোষণা হল। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেল। ভিন রাজ্যে পড়ে না থেকে আবার বাড়ি ফিরে এসেছেন তাঁরা। বাড়ি ফিরে কর্মহীন অবস্থায় আছেন। গ্রামের কেউ তাঁদের কাজের জন্য বলে না। আয় না করলে তাঁদের সংসার কী ভাবে চলবে।বাড়িতে বসে বাসেই তাঁদের দিন কাটাতে হচ্ছে। পঞ্চায়েতের মধ্যমে একদিনের কাজ পেলে তাও তাঁদের কিছুটা উপকার হবে। সেই ভাবনা থেকে তাঁরা পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে গিয়েছিলেন। পঞ্চায়েত এখনও তাঁদের কোনও কাজ দেয়নি। আয় না করলে তাঁদের কী হবে এটা ভেবে পাচ্ছেন না এই গ্রামের অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিকরা। পঞ্চায়েত সদস্য মনসুর হোসেন মনে করেন, এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামীন কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের আওতায় আনা জরুরি। না হলে এই পরিবারগুলোর না খেতে পেয়ে মৃত্যু হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, রায়গঞ্জ বিডিও এবং জেলা স্তরেও দাবি জানাবার আশ্বাস দিয়েছেন।

    Published by:Simli Raha
    First published: