corona virus btn
corona virus btn
Loading

কান ঝালাপালা হলেও ‘হুইসল’ বাজিয়েই সভা সরগরম হরকার

কান ঝালাপালা হলেও ‘হুইসল’ বাজিয়েই সভা সরগরম হরকার

পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করাটা এমনিতেই বেশ ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার ৷ দার্জিলিংয়ের কাজ শেষ করে সবে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছি ৷ গাড়িতে চোখে একটু ঘুম ঘুম আসাটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু কিছুদূর যেতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে ঘুমের একেবারে দফারফা ৷

  • Share this:

#কালিম্পং:  পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করাটা এমনিতেই বেশ ক্লান্তিকর একটা ব্যাপার ৷ দার্জিলিংয়ের কাজ শেষ করে সবে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছি ৷  গাড়িতে চোখে একটু ঘুম ঘুম আসাটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু কিছুদূর যেতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে ঘুমের একেবারে দফারফা ৷ মাঝবয়সী এবং বৃদ্ধ মিলে একদল মানুষ বাঁশি বাজাতে বাজাতে রাস্তায় হাঁটছেন ! মনে মনে ভাবলাম এই বুড়ো বয়সে এদের আবার হঠাৎ ‘সিটি’ মারার শখ হল কেন ! উত্তরটা পাওয়া গেল ঘণ্টা দু’য়েক পরেই ৷ কালিম্পং শহর পৌঁছতেই প্রচণ্ড হুইসলের শব্দে কান একেবারে ঝালাপালা হওয়ার জোগাড় ৷ সেখানে চলছিল জন আন্দোলন পার্টির প্রচার সভা ৷ যার প্রধান বক্তা অবশ্যই দলের প্রধান হরকা বাহাদুর ছেত্রী ৷ হঠাৎ চোখ পড়ল একটা সাইন বোর্ডে ৷ যেখানে লেখা ‘হামরো চিহ্ন হুইসল’ ৷ মোর্চা ছেড়ে নিজের দল ‘জন আন্দোলন পার্টি’ গড়ে কালিম্পংয়ের বিদায়ী বিধায়ক হরকার দলের প্রতীক এখন হুইসল ৷ ভোট প্রচারে অভিনবত্ব আনতে হাজার হাজার হুইসল কিনে সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন ধূর্ত এই রাজনীতিবিদ ৷ এরফলে একদিকে যেমন মোর্চার উপর চাপ বেড়েছে ৷ তেমনি ভোটাররাও এখন সকলেই জানেন হরকা বাহাদুরের দলের প্রতীক কী ৷ ভোট রাজনীতিতে যখন প্রচারটাই প্রথম কাজ, তখন সেকাজে প্রথম রাউন্ডে অন্তত সফল হরকা ৷IMG_3222

কিন্তু এত কিছু করেও গুরুংকে পাহাড়ছাড়া করতে আত্মবিশ্বাসী নন জাপেরই দলের কর্মীরা ৷ বাঁশি বাজিয়ে হরকার নেপালি বক্তৃতা হয়তো সকলেই খুব উপভোগ করছেন ৷ কিন্তু পাহাড়বাসীর মনে যে এখনও হরকার বাহাদুরের দল নিয়ে খুব একটা আস্থা নেই , সেটা তাদের মুখগুলো দেখলেই স্পষ্ট ৷ ভিড়ের মধ্যে জাপের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে একজন তো বলেই ফেললেন, ‘‘ নির্বাচনে এবার যে কী হবে বুঝতে পারছি না ৷ হরকা বেশ সাড়া ফেলেছেন ঠিকই ৷ কিন্তু বিমল গুরুংকে হারানো কী আর এত সহজ কাজ !’’ ভোটের সভায় মানুষেরা ভিড় জমালেও কালিম্পংয়ের মানুষ যে ঠিক কী চায়, সেটা বোঝা মুস্কিল ৷ কারণ নির্বাচনে কে জিততে পারে, এই প্রশ্ন করলেই সব ছুটে পালাচ্ছে যে ৷ দলের নেতারা অবশ্য জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ৷ জাপের অন্যতম প্রধান নেতা অমর লামার মতে, ‘‘ গতবার হরকা মোট ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ৷ জিতেছিলেন এক লক্ষেরও বেশি ভোটে ৷ এবার আর কত ভোট কমবে বলুন ? দেখবেন হরকা জেতার পর পাহাড় থেকে মোর্চা মুছে গিয়েছে ৷’’

IMG_3199

 প্রচারসভায় হরকা নিজে কী করছেন ? একদিনের সভা দেখে যা মনে হল, তাতে সেন্টিমেন্টাল রাজনীতির পথে না হেঁটে প্র্যাকটিল পলিটিক্সকেই নির্বাচনে জেতার হাতিয়ার করেছেন তিনি ৷ কালিম্পং ইতিমধ্যেই পেয়েছে আলাদা জেলার মর্যাদা ৷ এবার ক্ষমতায় এলে এই জেলা গঠনের কাজ পুরোদমে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন জাপ প্রধান ৷ যা তরুণ সমাজের জন্য যথেষ্ট আশার খবর ৷ শোনা যাচ্ছে কালিম্পং পুরসভার ৭-৮ জন কাউন্সিলার ইতিমধ্যেই হরকার সমর্থনে চলে এসেছেন ৷ কিন্তু এত সব করেও চিঁড়ে কী ভিজবে ? উত্তর জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ৷

First published: April 14, 2016, 8:17 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर