বনধের দ্বিতীয় দিন, পাহাড়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার মোর্চা নেতা সতীশ

বনধের দ্বিতীয় দিন, পাহাড়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার মোর্চা নেতা সতীশ

File Picture

বনধের দ্বিতীয় দিন, পাহাড়ে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার মোর্চা নেতা সতীশ

  • Share this:

    #দার্জিলিং: স্কুলে বাংলা পড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাহাড়ে শুরু অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ ৷ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডাকা বনধের আজ দ্বিতীয় দিন ৷ কিন্তু প্রশাসনের কৌশলে প্রথম দিন থেকেই খানিকটা ব্যাকফুটে মোর্চা ৷ গত ৮ জুন দার্জিলিঙে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার মোর্চা নেতা সতীশ পোখরেল ৷ তিনি GTA-এর একজন সদস্যও ৷

    মঙ্গলবার সকাল থেকে পাহাড়ে দোকানপাট বন্ধ ৷ শুনশান রাস্তা, চলছে না কোনও গাড়ি ৷ কার্যত পর্যটকহীন দার্জিলিং ৷ রাস্তায় শুধু সেনা ও পুলিশের টহল ৷ বন্ধ রয়েছে টয় ট্রেন ৷ বুকিং থাকলেও ফিরতে হচ্ছে পর্যটকদের ৷ কোনও রেল আধিকারিকের দেখা নেই ৷

    পাহাড়ে অনির্দিষ্টকালের সরকারি অফিস বনধের ডাক মোর্চার। বনধের নামে পাহাড়কে নতুন করে অশান্ত করে তোলাই ছিল মোর্চা নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রথম থেকেই সাবধানি ছিল পুলিশ। বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করলেও সময়মত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে রাজ্য পুলিশ।

    মোর্চার অন্যান্য বনধের মত স্তব্ধ হয়নি পাহাড়। অনেকেই আতঙ্ক কাটিয়ে পথে নেমেছেন। অফিসে গেছেন। গেছেন ব্যাঙ্কেও। দোকানপাট খোলা। হয়েছে কেনা-বেচা। এটাই ছিল মোর্চার বনধের প্রথমদিনের ছবি। কিন্তু তেমন চিত্রই কি ধরা পড়বে দ্বিতীয় দিন ৷

    বনধ সফল করতে তাণ্ডব মোর্চার। ৮ জুন, পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিনই মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনে নতুন করে অশান্তি ছড়ায় পাহাড়ে। রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকারি অফিস ও ব্যাঙ্ক বনধের ডাক দেয় মোর্চা। বনধকে সামনে রেখে পাহাড়ে যে মোর্চার জঙ্গি আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে তার আভাস দেন খোদ মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং। তাই প্রথম দিন থেকে সাবধানি প্রশাসনের নির্দেশে ধরপাকড় শুরু করল পুলিশ ৷ বিজন বাড়িতে হামলার অভিযোগে তিন জন মোর্চা সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় ৷ আটক আরও সাতজন ৷

    সোমবার থেকে আবারও বনধের রাজনীতিতে ফিরেছে পাহাড়। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডাকে সরকারি অফিসে চলছে ধর্মঘট। ২০১৭ সালে যেন হঠাৎই ফিরে এসেছে নব্বইয়ের দশকের রাজনীতি। নেতার মুখ বদলেছে। সরকারি টাকা দখলে রাখার চেনা কায়দাটা একইরকম। পাহাড়ে রাজ্য সরকারকে নাক গলাতে না দিতেই একের পর এক আন্দোলন সুবাস ঘিসিং থেকে বিমল গুরুংদের। উন্নতম ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আর কতদিন ভুগবেন পাহাড়বাসী?

    সতর্ক প্রশাসন ৷ গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত জায়গায় অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ৷ ব্যাঙ্ক ও সরকারি অফিসে বাড়তি নিরাপত্তা রাখার ব্যবস্থা করেছে সরকার ৷ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজ্য ৷ ভাঙচুর রুখতে রয়েছে ধর-পাকড়ের নির্দেশও ৷

    স্কুল ও পরিবহণ অবশ্য বনধের আওতার বাইরে । সোম ও বৃহস্পতিবার খোলা থাকবে ব্যাঙ্ক। তবে টয়ট্রেনের মতো বিভিন্ন জয়রাইড বন্ধ থাকায় হতাশ পর্যটকেরা ৷

    First published: