ক্ষুধার্ত নদীর গ্রাসে ৪ গ্রাম

আচমকা গঙ্গায় ভাঙন। এক রাতের মধ্যেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে মালদহে বৈষ্ণবনগরের চারটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি।

আচমকা গঙ্গায় ভাঙন। এক রাতের মধ্যেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে মালদহে বৈষ্ণবনগরের চারটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #মালদহ: আচমকা গঙ্গায় ভাঙন। এক রাতের মধ্যেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে মালদহে বৈষ্ণবনগরের চারটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পায়নি নদী বাঁধের একটি বড় অংশ। এলাকার বিধায়কের বাড়িও ক্ষুধার্ত নদীর গ্রাসে তলিয়ে গিয়েছে ।

    আতঙ্কে নিজেরাই ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এলাকা পরিদর্শনে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।  মন্ত্রীর  দাবি, ফরাক্কা ব্যারাজ অনিয়ন্ত্রিত জল ছাড়ায় এই আচমকা ভাঙনের কবলে মালদহের বৈষ্ণবনগর  ।

    ফুঁসছে গঙ্গা। ভাঙছে পার। শুক্রবার সন্ধে থেকে ভাঙনের কবলে মালদহের বৈষ্ণবনগরের বীরনগর এক নম্বর পঞ্চায়েত এলাকা।

    সরকারতলা, চিনাবাজার, দুর্গমতলা, বালুগ্রাম-সহ বিভিন্ন গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এক রাতেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে নদী বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ। ভাঙনের তীব্রতায় বেশিরভাগ মানুষ তাঁদের জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ পর্যন্ত পাননি। প্রাণ বাঁচলেও চোখের সামনে তলিয়ে গিয়েছে আস্ত বাড়ি, গবাদি পশু, ফসলি জমি ।

    প্রশাসনের হিসেবেই ১১০টি বাড়ি ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। ভোররাতে ভাঙন কমলেও, আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি । ভাঙন থেকে রেহাই মেলেনি বৈষ্ণবনগরের বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন সরকারের বাড়িও। সর্বস্ব তলিয়ে যাওয়ার আগে বাড়ির বাকি অংশ নিজেই ভাঙতে শুরু করেছেন তিনি।

    vlcsnap-2016-07-30-19h18m18s520

    ঘরহারাদের আপাতত আশ্রয় বলতে স্থানীয় বীরনগর হাইস্কুল। সেখানেই খোলা হয়েছে প্রশাসনের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির। গ্রামের অনেকে গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন । ভাঙন আরও ব্যাপক আকার নিতে পারে বলে বাড়ছে আতঙ্ক।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এলাকা পরিদর্শনে আসেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এখানকার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। ১১২টির মধ্যে ব্যারেজের প্রথম দিকের কয়েকটি গেট হঠাৎ খুলে দেওয়াতেই আচমকা এই ভাঙন বলে দাবি করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ।

    মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ত্রাণের দাবিতে সরব হন ঘরহারারা। স্থানীয় আরেকটি স্কুলে ত্রাণ শিবির খোলার সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

    First published: