Home /News /north-bengal /
একজন সদ্যজাতের তিনজন দাবিদার!

একজন সদ্যজাতের তিনজন দাবিদার!

কয়েকদিন মাত্র বয়স। তার মধ্যেই তিন দাবিদার। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এক শিশুকে ঘিরে এখন জোর টানাপোড়েন । আর তার থেকেই উঠে এসেছে শিশু বিক্রি চক্রের হদিশ। শিশুর জন্মের আগেই তার দরদাম ঠিক হয়ে যায়। এর সঙ্গে জড়িত নার্সিংহোম, হাতুড়ে ডাক্তার। ইটিভি নিউজ বাংলার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।

আরও পড়ুন...
  • Last Updated :
  • Share this:

    #ময়নাগুড়ি: কয়েকদিন মাত্র বয়স। তার মধ্যেই তিন দাবিদার। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এক শিশুকে ঘিরে এখন জোর টানাপোড়েন । আর তার থেকেই উঠে এসেছে শিশু বিক্রি চক্রের হদিশ। শিশুর জন্মের আগেই তার দরদাম ঠিক হয়ে যায়। এর সঙ্গে জড়িত নার্সিংহোম, হাতুড়ে ডাক্তার। ইটিভি নিউজ বাংলার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।

    এ যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ময়নাগুড়ি হাসপাতালের সামনে থেকে এক সদ্যজাতকে চুরি করা হয়। অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মীর পরিচয় দিয়ে সরকারি প্রকল্পে টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সদ্যজাতকে চুরি করে চম্পট দেয় এক মহিলা। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, ধওলাগুড়ির বাসিন্দা উমা রায় কয়েকদিন আগে একটি শিশুকে ঘরে নিয়ে আসেন। কিন্তু তিনি গর্ভবতী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। শুক্রবার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    এরপরই সামনে আসে আসল সত্যি। পুরো ঘটনায় উঠে আসে ময়নাগুড়ির কলোনির বাসিন্দা রঞ্জনা রায়ের নাম।  ১লা ফেব্রুয়ারি, জলপাইগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেন রঞ্জনা ৷ অথচ, হাসপাতালের রেকর্ডে শিশুটির বাবা-মা হিসেবে উমা রায় ও তাঁর স্বামী উমেশচন্দ্র রায়ের নাম লেখা হয় ৷ গর্ভপাত করাতে হাতুড়ে ডাক্তার জ্যোতিষ রায়ের কাছে এসেছিলেন র‍ঞ্জনা ৷ এই ডাক্তারই রঞ্জনার সঙ্গে উমা রায় ও তাঁর স্বামীর পরিচয় করিয়ে দেন ৷ ডাক্তারই রঞ্জনাকে গর্ভপাত না করে শিশুটিকে নিঃসন্তান উমা রায়ের হাতে তুলে দিতে বলেন ৷ তাঁরই পরামর্শেই আইনি জটিলতা এড়াতে হাসপাতালে শিশুটির বাবা-মার নাম উমা ও উমেশচন্দ্র রায় লেখা হয় ৷

    বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। শিশুটি তাঁর বলে এবার দাবি করছেন মুনমুন দাস নামে এক মহিলা। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ময়নাগুড়ি থেকে তাঁর শিশু চুরি হয়ে যায় । তাঁর দাবিকে সমর্থন করছেন খোদ জলপাইগুড়ির এসপি। এই সব টানাপোড়েনে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছে শিশুটিকে। গোটা ঘটনায় শিশু বিক্রি চক্র জড়িত বলে অনুমান পুলিশের।

    জন্মের আগেই হাত বদল হয়ে গিয়েছিল। জন্মের পর থেকে জোটেনি নিশ্চিন্ত আশ্রয়। এখন ভরসা শুধু সরকারি কমিটি । ছোট্ট শিশুটির দাবিদার তিনজন। কার ঘরে যাবে ছোট্ট মেয়েটি? না কী সরকারি হোমেই কাটবে বাকি জীবন ? প্রশ্ন করার বয়স হয়নি। তবে উত্তরের ওপর নির্ভর করছে তার গোটা জীবন।

    First published:

    Tags: Claim Controversy, New Born Baby