একলা চলো রে... কারও তোয়াক্কা না করে রাস্তা সারাইয়ের কাজে একাই নামলেন ইটাহারের যুবক

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে নিজেই সমস্যা সমাধানের পথে ইটাহারের যুবক৷

সাধারণ মানুষের কথা ভেবে নিজেই সমস্যা সমাধানের পথে ইটাহারের যুবক৷

  • Share this:

#ইটাহার: প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামের বেহাল ঢালাই রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় অবশেষে নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু করল স্থানীয় এক যুবক (Itahar young man)। প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ করে এই কাজ করছেন। যুবকের উদ্যোগের সাথী হয়েছেন গ্রামবাসীরা। ইটাহারের বিধায়ক মুশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি ওই এলাকায় রাস্তা তৈরির জন্য আর্থিক অনুমোদন করিয়েছেন। বর্ষার পর রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হবে।

উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur news) জেলার ইটাহার ব্লকের মারনাই অঞ্চলের কচুয়া গ্রাম। সুই নদীর দুই প্রান্তে নদী ঘাটে প্রতিদিন বহু মানুষের যাতায়াত। ঘাটে নামার রাস্তা দীর্ঘদিন যাবদ বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নদী ঘাটে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে  ছোট খাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। বারবার প্রশাসন সহ এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে রাস্তা সংস্কারের কথা জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। কিন্তু এই সব রাস্তা দিয়ে কচুয়া, বীরনগর, জামালপুর, টিটিহা, বোচকাপাড়া সহ বিভিন্ন গ্রামের বহু মানুষকে নিত্যদিন যাতায়াত করতে হয়। এমনকী সুই নদীর এক পার থেকে অন্য পারে যেতে নদী ঘাটে নামতে চরম সমস্যায় পরতে হত। তারমধ্যে সামনে বকরি ঈদ উৎসব৷ ফলে রাস্তা সংস্কার হলে গ্রামের মানুষের সুবিধার কথা ভেবে গোলাম মর্তুজা নামে এক যুবক রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসেন।নিজের অর্থ ব্যয় করে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ট্রলি মাটি ফেলেন। যুবকের এই উদ্যোগে স্বতস্ফুর্তভাবে গ্রামের মানুষ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। কেউ অর্থ দিয়ে কেউ আবার শারীরিক পরিশ্রম করে রাস্তা সংস্কার কাজে নেমে পড়েন। নীচু রাস্তা মাটি ফেলে উচু করা, তারপর ২০০ মিটার ঢালাই রাস্তা তৈরি করেন।উদ্যোগী যুবক গোলাম মুর্তুজা৷

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এই রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় সাধাণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়ছেন। রাস্তা সংস্কারের জন্য একাধিক জায়গায় দরবার করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা হাজার হাজার মানুষকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। যা দেখে তিনি ঠিক থাকতে পারেননি। তাই তিনি নিজের আর্থিক সামর্থ অনুযায়ী রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমে পড়েন। তিনি কাজ শুরু করতে গ্রামের মানুষ তার পাশে দাঁড়ান।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, গ্রামের মানুষের সমস্যার কথা ভেবে গোলাম মুর্তাজা রাস্তা সংস্কারের কাজ নেমেছে। সকলের কাজ সে কেন একা করবে, তাই তারাও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্রামবাসীরা যা সাহায্য করছেন রসিদ দিয়ে তার কাছ থেকে সেই দান গ্রহণ করা হচ্ছে। ইটাহারর বিধায়ক   মোশারফ হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বর্ষার সময় মাটির রাস্তা খারাপ হয়েই যায়। সেই কাজ কেউ করতেই পারেন।তবে ওই এলাকার রাস্তা তৈরির অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।বর্ষার পরই রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

Published by:Pooja Basu
First published: