উত্তরবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কাজ নেই, আবার ভিন রাজ্যে কাজের জন্য চলে যাচ্ছেন রায়গঞ্জের পরিযায়ী শ্রমিকরা

কাজ নেই, আবার ভিন রাজ্যে কাজের জন্য চলে যাচ্ছেন রায়গঞ্জের পরিযায়ী শ্রমিকরা
Representative Image

দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা থেকে সেখানকার মালিকরা গাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে যাচ্ছেন।কোনভাবেই এই শ্রমিকদের বাইরে যাওয়া আটকনো যাচ্ছে না।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: গ্রামগঞ্জে কাজ না পেয়ে  আবার ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, সংসার বাঁচাতেই তারা আবার ভিন রাজ্যে কাজের জন্য চলে যাচ্ছেন তারা। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষের দাবি, ভিন রাজ্যে বাড়তি উপার্জনের জন্যই তারা আবার সেখানে পাড়ি দিচ্ছেন। দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা থেকে সেখানকার মালিকরা গাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে যাচ্ছেন।কোনভাবেই এই শ্রমিকদের বাইরে যাওয়া আটকনো যাচ্ছে না।

উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা, রাজস্থানে কাজের জন্য যান। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ অন্য কাজে শ্রমিক, কেউ আবার বিভিন্ন শিল্পের কাজে যুক্ত হন। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষনা করেছিল। লকডাউনের ফলে দেশ জুড়ে সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ হারায় হাজার হাজার এরাজ্যের বাসিন্দা। জীবন বাঁচাতে এই লকডাউন চলাকালীন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ লড়িতে চরম কষ্ট করে ভিন রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরে এসেছিল। পরবর্তীতে তারা ট্রেনে করে ফিরেছিলেন বাড়ি। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের কথা ভেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ দিনের প্রকল্পে এই শ্রমিকদের যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রেশন থেকে প্রতি মাসে ১০ কেজি চাল দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পে যুক্ত করার নির্দেশ দিলেও অধিকাংশ শ্রমিক এই প্রকল্পের আওতার বাইরেই থেকে গেছে। হাজার হাজার বাসিন্দা কাজ না পেয়ে চরম কষ্টের মধ্যে দিন গুজরান করছিলেন। পরিবারের মুখে দু’মোঠো অন্ন তুলে দিতে আবার তারা ভিন রাজ্যে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভিন রাজ্যে যে যেখানে কাজ করতেন সেখানকার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারাই এই শ্রমিকদের নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করছেন।

রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের লহুজগ্রামে এই চিত্র ধরা পড়ল।দিল্লি থেকে বাস এসেছে শ্রমিকদের নিয়ে যেতে। এই বাসে প্রায় ৩৫ জন গ্রামবাসী শ্রমিকের কাজ করতে দিল্লি যাচ্ছেন। সাহাবুদ্দিন নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, সংসারের জন্য তাদের ভিন রাজ্যে কাজে যেতে হচ্ছে। লকডাউনের মাঝে চরম কষ্টের মধে রায়গঞ্জে এলেও দীর্ঘদিন তারা কর্মহীন হয়ে আছেন। পঞ্চায়েত থেকে তাদের তিন দিনের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাকি দিনগুলো বসেবসেই কাটাতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ৷ উপার্জন না হবার কারণে পরিবারের সদস্যরা অনাহার অর্দাহারের দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ জানিয়েছেন,১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করলে তাদের ২০০ টাকা দেওয়া হয়। ভিন রাজ্যে সকাল /সন্ধ্যা দুই শিফটে কাজ করলে তারা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা উপার্জন করেন। এই অধিক আয়ের জন্যই ভিনরাজ্যে যাবার হিড়িক পড়ে গেছে।

Published by: Pooja Basu
First published: August 23, 2020, 2:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर