লজ্জা কাটিয়ে সচেতনতার বার্তা, চা বাগানের বাসিন্দাদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন

লজ্জা কাটিয়ে সচেতনতার বার্তা, চা বাগানের বাসিন্দাদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন

ঋতুস্রাব নিয়ে চা বাগানের বাসিন্দা মহিলাদের সেই লজ্জা এবং ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই সবুজ চা বাগানে হাজির হন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। সরাসরি কথা বলেন চা বলয়ের মহিলা থেকে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে।

  • Share this:

#শিলিগুড়ি: চা বাগানের মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপকারিতা এবং ব্যবহার নিয়ে বিশেষভাবে সচেতন করে তুলতে উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। শহর ঘেঁষা দেবীডাঙার একটি চা বাগানে হাজির হন সংগঠনের সদস্যরা। চা বলয়ের শ্রমিক এবং বাসিন্দা নতুন প্রজন্মের যে মেয়েরা,  তাঁদেরকেই স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে সচেতন করা এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ।

স্যানিটারি ন্যাপকিন কী, তার উপকার কী? ব্যবহারই বা করবে কী উপায়ে? তা নিয়েই আদিবাসী মহিলাদের নিয়ে চললো আলোচনা। এনিয়ে বলিউডে সিনেমাও তৈরী হয়েছে। যা যথেষ্টই বক্স অফিসে হিট করেছে। ন্যাপকিনের ব্যবহার নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মাঝে মধ্যে সচেতনতা প্রচার চলে। তবুও চা বাগানের মহিলারা এখোনো পুরোপুরি সচেতন হয়ে ওঠেননি। ঋতুস্রাব নিয়ে কুসংস্কার এবং হীনমন্যতা বোধ থেকেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে চান না তাঁরা।

ঋতুস্রাব নিয়ে চা বাগানের বাসিন্দা মহিলাদের সেই লজ্জা এবং ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই সবুজ চা বাগানে হাজির হন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। সরাসরি কথা বলেন চা বলয়ের মহিলা থেকে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে। একে একে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্যানিটারি ন্যাপকিন। সেইসঙ্গে বাগানের বিভিন্ন প্রজন্মের মহিলাদের কাছে তাঁদের আর্জি , প্রত্যেকেই যেন এই বার্তা আরো অন্তত তিনজন করে মহিলার কাছে  পৌঁছে দেন। প্রয়োজনে শহর থেকে ফের তাঁরা চা বাগানে আসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। আবারও  তুলে দেবেন স্যানিটারি ন্যাপকিন।

সবমিলিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এহেন প্রচেষ্টায় আদিবাসী মহিলাদের মুখে হাসি ফোটে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্তা রনি রাহা জানান, পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে তাঁরা এই ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাবেন। এর আগে সুকনার কাছে গুলমা চা বাগানেও মহিলা শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যাদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেন তাঁরা। কার্শিয়ংয়ের মহকুমাশাসকের উদ্যোগে গাড়িধুরার একটি চা বাগানেও এই প্রচার চলে। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে প্রচার বাড়লে আদিবাসী মহল্লায় সচেতনতা বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন। এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চা বাগানের বাসিন্দারাও।

First published: March 5, 2020, 4:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर