'প্রধানমন্ত্রী' নেহা, নতুন 'গণতন্ত্র' হরিপুরের সংসদে

'প্রধানমন্ত্রী' নেহা, নতুন 'গণতন্ত্র' হরিপুরের সংসদে

প্রধানমন্ত্রীর নাম নেহা দাস ! ভুল ভাববেন না। শিশু সংসদ গঠনে গণতন্ত্রের নতুন স্বাদ পেল উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া ব্লকের হরিপুর জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা

  • Share this:

# চাকুলিয়া : প্রধানমন্ত্রীর নাম নেহা দাস ! ভুল ভাববেন না। শিশু সংসদ গঠনে গণতন্ত্রের নতুন স্বাদ পেল উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া ব্লকের  হরিপুর জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী-সহ পাঁচ দফতরের মন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি হল নতুন ক্য়াবিনেট। প্রধানমন্ত্রী হয়ে খুশি গ্রামের মেয়ে নেহা দাস। পড়ুয়াদের কাছে গণতন্ত্র পৌঁচ্ছে দিতে পেরে খুশি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাকেশ সরকার।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতন্ত্র।   নির্বাচনের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা তৈরি করে দেশের মানুষ।  ১৮ বছরের নীচে ভোটদানের কোনও অধিকার নেই।  ভোট এলে তা স্রেফ উপভোগ করে স্কুল পড়ুয়ারা।  সরকার "চাইল্ড ক্যাবিনেট " গঠন করার নির্দেশ দিলেও , অভিযোগ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই ক্যাবিনেট গঠন না করে মনোনীত কমিটি গঠন করে থাকে। ফলে সরকার স্কুলের কচিকাঁচাদের ভোটদানের সুযোগ করে দিলেও অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ কার্যকরী না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভোটদান অধরাই থেকে যায়।

ব্য়তিক্রম ছিল না চাকুলিয়া হরিপুর জুনিয়ার হাইস্কুল।  আগের বছরে গুলিতেও  মনোনিত শিশু ক্যাবিনেট গঠন করা হয়। এবার সেখানে অন্য় ধারা। নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি হল শিশু ক্য়াবিনেট। এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা  ৬৩ জন। প্রতিটি বিভাগ থেকে চারজন ভোটে দাড়াতে পারবে। সেই তালিকা তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদে নির্বাচন হয়।  গত ২৮ জানুয়ারি প্রার্থী বিদ্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।  মনোনয়নপত্র জমার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতীক বন্টন করে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬৩ জন হলেও,  ৪৯ জন ভোটদানে অংশ নেয়।

নির্বাচনের জন্য বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা দীপমালা দাসকে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। সেক্টর অফিসার হিসেবে ছিলেন রেজাউল করিম।  নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত নেহা দাস।

প্রতিটি দফতরে  ৪৯ টি করে ভোট পরলেও শুধুমাত্র পরিবেশ দফতরে ৪৮  ভোট বৈধ হয়। একটি ব্যালট ফাঁকা দিয়ে যায়। বিদ্যালিয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, গণতন্ত্রের প্রতি পরিচিতি ঘটাতেই নির্বাচনের মাধ্যমে "চাইল্ড ক্যাবিনেট"গঠন করা হল। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের গণতন্ত্রের স্বাদ পেল। একই সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল সঠিক ভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করবে।

বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হাতে নিয়মিত আয়রন ট্যাবলেট পৌঁছে দেবে।বিদ্যালয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, নিয়মিত খেলাধুলার বিষয়টিও প্রতিনিধিরাই নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।এখন দম ফেলার সময় নেই।  কারণ 'প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে এখন অনেক দায়িত্ব নেহার।  কারণ তাঁর হাতেই হরিপুরের নতুন গণতন্ত্র।

UTTAM PAUL

উত্তম পাল

First published: February 10, 2020, 8:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर