corona virus btn
corona virus btn
Loading

উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে রয়েছে প্রত্নতত্ত্বের রত্নভান্ডার, নষ্ট হচ্ছে উদাসীনতায়

উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে রয়েছে প্রত্নতত্ত্বের রত্নভান্ডার, নষ্ট হচ্ছে উদাসীনতায়

এই নির্দশনগুলি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক ও সংগ্রহশালা বিভাগে আবেদন করে জেলার এই অমূল্য সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন রায়গঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের শিক্ষক ৷

  • Share this:

Uttam Paul

#রায়গঞ্জ: তাম্রপ্রস্তর যুগ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমল। উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রত্নতত্ত্বের রত্নভান্ডার। সংস্কার এবং সংরক্ষণের অভাবে সেই রত্নভান্ডার নষ্ট হচ্ছে বহু বছর ধরে। এই নির্দশনগুলি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক ও সংগ্রহশালা বিভাগে আবেদন করে জেলার এই অমূল্য সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন রায়গঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের শিক্ষক। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধানও মনে করেন এই অমূল্য সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে আগামী প্রজন্ম ইতিহাসের বহু তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে।। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থেকে ইটাহার চেক পোষ্ট, কালিয়াগঞ্জ থেকে রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকা যেখানেই চোখ যাবে পুরাতত্ত্বের নির্দশন দেখা মিলবেই। চোপড়া ব্লকের ভেলাগাছিতে গেলেই দেখা যাবে প্রাচীন যুগের পাথরের চৌবাচ্চা। একটু এগিয়ে এলেই দেখা যাবে ইসলামপুরের জমিদার বাড়ি, কলতাহারের মন্দির। গোয়ালপোখর ব্লকের গোয়াগাঁওয়ে জমিদারের বাড়ি, সেখানেই রয়েছে ক্ষীতি জমিদারের বাড়ি। করণদিঘি ব্লকে বাগিন্দর শিবমন্দির,বাজারগাঁওয়ে দুর্গা মন্দির, দোমহানার রানীগঞ্জে রাণিবাড়ি। অসুরাগড়ে কুশান যুগের নির্দশন পাওয়া গিয়েছে। সেখানেই উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন মুদ্রা, মাটির পাত্র। এই প্রাচীন মুদ্রা এবং মাটির পাত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে মজুত রাখা আছে। গুপ্তযুগের বংশধরেরা অসুরাগড়ে বাড়ি তৈরী করেছিলেন। আজ সেই বংশধরদের কেউ না থাকলেও তাঁদের ফেলে যাওয়া বাড়ি  জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে আজও। ইটাহার থানার বাঙ্গারে পালযুগের বহু নির্দশন পড়ে রয়েছে। রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রামে সুলতানি আমলে তৈরি ভৈরবী মন্দির, টেনহরিতে রাজা বল্লাল সেনের আমলের দিঘি আছে। কমলাবাড়ি গ্রামে সুলতান হোসেন শাহের আমলে মসজিদ, কোটাগাঁও লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, মালন গ্রামে ডাক বাংলো, বাহারাইলে গণেশ মূর্তি, কমলাবাড়িতে রাজা মহেশের মূর্তি রয়েছে।

পুরাতত্বের যত নির্দশন জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তা লিখে শেষ করা যাবে না। রায়গঞ্জের প্রাক্তন ইতিহাসের শিক্ষক বৃন্দাবন ঘোষ একক প্রচেষ্টায় প্রায় ষাটটি স্থানকে চিহ্নিত করেছেন। এই ষাটটি স্থানের মধ্যে মাত্র ছয়টি ঐতিহাসিক স্থানকে সংস্কার করা হয়েছে। ইসলামপুর জমিদার বাড়ি আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া আর্থিক সহায়তা করলেও বাকি পাঁচটি রাজ্য হেরিটেজ দপ্তর সংস্কার করে। বাকি গুলি খুব শীঘ্রই সংস্কারের জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করবেন বৃন্দাবনবাবু। ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল আজ পর্যন্ত তাদের সেই তৎপরতা চোখে না পরায় হতাশ তিনি। এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকলে জেলার ইতিহাসের বিলুপ্তি ঘটবে। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে হতাশ প্রাক্তন ইতিহাসের শিক্ষক। জেলার প্রত্নতত্ত্বের রত্নভান্ডারকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি বলে মনে করেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান বরেণ গিরিও। তিনি জানিয়েছেন, রায়গঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পর এই রত্নভান্ডারের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীদের এ বিষয়ে সম্যক ধারণা দিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জেলার পুরাতত্ত্বের নিদর্শনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিউজিয়াম তৈরী হলে জেলার বহু মূল্যবান জিনিস এখানে ঠাঁই পাবে। তবে মিউজিয়াম হলেও পুরাতত্ত্বের সব নির্দেশন রাখা সম্ভব হবে না। তার জন্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।নইলে জেলার ইতিহাসের অবলুপ্তি ঘটবে।

Published by: Simli Raha
First published: February 2, 2020, 11:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर